বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে যুক্ত হচ্ছে ভগবতগীতা (Bhagvad Gita), গুজরাটের পথেই হাঁটতে চলেছে কর্ণাটক সরকার

Home দেশের মাটি বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে যুক্ত হচ্ছে ভগবতগীতা (Bhagvad Gita), গুজরাটের পথেই হাঁটতে চলেছে কর্ণাটক সরকার
বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে যুক্ত হচ্ছে ভগবতগীতা (Bhagvad Gita), গুজরাটের পথেই হাঁটতে চলেছে কর্ণাটক সরকার

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে গুজরাটে। কয়েকদিন আগেই বিজেপি (BJP) শাসিত গুজরাট সরকারের (Gujrat Government) তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, তারা বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে (School Syallabus) শ্রীমদ্ভাগবত গীতাকে (Bhagvad Gita) যুক্ত করতে চলেছে। ভোটের আগে গুজরাটের শিক্ষাক্ষেত্রে লাগতে চলেছিল গেরুয়া রঙ।এবার গুজরাটের পথেই হাঁটলো দেশের অপর একটি রাজ্য কর্ণাটক। কর্ণাটকের স্কুল পাঠক্রমে শ্রীমদ্ভাগবতগীতা পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলো রাজ্যের সরকার (Karnataka Government) ।

দেশের মধ্যে গুজরাটই প্রথম রাজ্য, যেখানে শ্রীমদ্ভাগবত গীতাকে (Bhagvad Gita) বিদ্যালয়ের পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুজরাটের বিদ্যালয়গুলিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে গীতা। গুজরাটের শিক্ষামন্ত্রী জিতু ভোগানি বিধানসভায় জানিয়েছেন, চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই বিদ্যালয়গুলির পাঠক্রমে গীতা পড়ানো হবে। ছাত্রছাত্রীদের নীতিবোধ ও মূল্যবোধ বাড়াতেই সনাতন হিন্দু ধর্মগ্রন্থ পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বিধানসভায় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই মন্তব্য করলেন গুজরাটের শিক্ষামন্ত্রী। ‘কেন্দ্রের নতুন শিক্ষানীতি অনুসারেই শ্রীমদ্ভাগবতগীতার (Bhagvad Gita) মূল্যবোধ ও নীতিবোধকে স্কুলে পড়ানো হবে। প্রাচীন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে ছাত্রছাত্রীরা। ভারতের ঐতিহ্য কতটা সমৃদ্ধ ছিল সেটা জেনে গর্ববোধ করবে ছাত্রছাত্রীরা।’ জানাচ্ছেন তিনি।

জানা গিয়েছে, গুজরাটের বিদ্যালয়গুলিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সিলেবাসে গীতার (Bhagvad Gita) বিভিন্ন অংশ কবিতা, শ্লোক বা গল্পের আকারে পড়ানো হবে। মূলত গুজরাটি বা অন্য প্রথম ভাষার মধ্যেই জুড়ে দেওয়া হবে এই অংশগুলি। আবার বিভিন্ন মনিষীদের জীবনী পড়ানোর সময় তাঁরা গীতাকে (Bhagvad Gita) কীভাবে দেখতেন সেসবও বর্ণনা করা হবে। অষ্টম শ্রেণির পর থেকে আরও বিস্তারিত পড়ানো হবে গীতা।
গুজরাত সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেনি বিরোধী কংগ্রেস কিংবা আম আদমি পার্টি। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মন্তব্য, ‘আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। কিন্তু গুজরাত সরকারেরও উচিত গীতা (Bhagvad Gita) থেকে শিক্ষা নেওয়া। গীতাতে বলা, কোনও সমস্যার সমাধান করতে হলে সবার আগে সমস্যাটা মেনে নিতে হবে। কিন্তু গুজরাত সরকার সেটা মানছে না। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা এখন বেহাল। রাজ্যের ৩৩ হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১৪টি স্কুল এ প্লাস গ্রেডের। ১৮ হাজার শিক্ষকপদ শূন্য। ৬ হাজার স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’ অন্যদিকে, সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে আম আদমি পার্টি।

, গুজরাটের পর এবারের ভারতের দক্ষিণের রাজ্য কর্ণাটকে বিদ্যালয় পাঠ্যসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতগীতা। সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের রিপোর্ট অনুসারে, কর্ণাটকের শিক্ষামন্ত্রী বিসি নাগেশ জানিয়েছেন, গীতার মতো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কেবল হিন্দুদের জন্যই নয়, অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্যও জ্ঞানের উৎস। আগামী বছর থেকে নতুন অধিবেশন শুরু হলে বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে শ্রীমদ্ভাগবতগীতাকে একটি বিষয় হিসাবে চালু করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিসি নাগেশ। তিনি জানিয়েছেন, কর্নাটকের বিদ্যালয়গুলির নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সিলেবাসের প্রথম ভাষার পাঠক্রমে গল্প বলার ঢঙে এই গীতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গীতার ওপর নির্ভর করে প্রার্থনা, শ্লোক, নাট্য, কুইজ, আঁকা, তাৎক্ষণিক বক্তব্যের মতো বিষয়গুলি যুক্ত করা হবে, এমনটাও জানিয়েছেন তিনি। বিদ্যালয়গুলির জন্য বই, অডিও-ভিডিও সিডি কর্নাটক সরকারের তরফে সরবরাহ করা হবে।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে কর্নাটকের একটি কলেজে একজন মেয়ের হিজাব পরাকে কেন্দ্র করে প্রবল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। ছাত্রী হয়ে কেন সে নির্দিষ্ট একটি ধর্মের হিজাব পরে কলেজে আসবে, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল নানা মহলে। তৎসত্ত্বেও মেয়েটি হিজাব পরে কলেজে এলে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কয়েকজন ছেলে একত্রে তাঁকে ঘিরে স্লোগান দিতে শুরু করে। কিন্তু তাতেও দমে যাননি ওই ছাত্রী। ছাত্রদের হিন্দুত্ববাদী স্লোগানের প্রতিবাদে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে শোনা যায় তাঁকে। বিষয়টি ঘিরে প্রবল বিতর্ক দানা বাঁধে। বর্তমানে গুজরাটের পাশাপাশি কর্নাটকের বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে গীতা পড়া বাধ্যতামূলক ঘোষণা হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের পড়াশুনো করার পাশাপাশি তাদের মনে হিন্দুত্ববাদী ধ্যানধারণা ও মানসিকতা প্রয়োগ করতে চাইছে কর্ণাটক সরকার?

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিদ্যালয় পাঠ্যসূচিতে গীতা যুক্ত করার কারণ হয়তো সেটিই। বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রশ্নও তুলছেন। কয়েকজন শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্নাটক এমন একটি রাজ্য যেখানে বহু ধর্মের মানুষ একত্রে বসবাস করেন। সেখানে নির্দিষ্ট কোনও একটি ধর্মের ধর্মগ্রন্থকে বিদ্যালয় পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা কখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। যদিও কর্ণাটকের শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে নিজস্ব একটি যুক্তি খাড়া করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গীতা এমন একটি গ্রন্থ যা সব ধর্মের মানুষের জ্ঞানের উৎস। কিন্তু এই উত্তরে মোটেও সন্তুষ্ট নন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

গুজরাটে বিরোধী দলগুলি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা না করলেও কর্ণাটকে বিষয়টি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রবল বিতর্ক। দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করে আসছে, স্কুলশিক্ষায় গৈরিকীকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি এবং সংঘ পরিবার। ধর্মীয় মেরুকরণ এবং কেন্দ্র-সহ বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষায় হিন্দুত্ববাদী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটানো হচ্ছে। কর্ণাটকের স্কুলশিক্ষার সিলেবাসে গীতার অন্তর্ভুক্তি সেই অভিযোগেই কার্যত সিলমোহর দিল বলেই বিরোধীদের অভিযোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.