মেয়েদের বিশ্বকাপের ( ICC Women’s Cricket Worldcup) মাঝেই আইসিসির বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটারের সম্মান মন্ধানাকে!

Home অ‘‌সাধারণ’ মেয়েদের বিশ্বকাপের ( ICC Women’s Cricket Worldcup) মাঝেই আইসিসির বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটারের সম্মান মন্ধানাকে!
মেয়েদের বিশ্বকাপের ( ICC Women’s Cricket Worldcup) মাঝেই আইসিসির বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটারের সম্মান মন্ধানাকে!

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডে চলছে মহিলা একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ( ICC Women’s Cricket Worldcup)। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য আইসিসির ২০২১ সালের বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন ভারতের স্মৃতি মন্ধানা। অস্ট্রেলিয়ার এলিসা পেরির পর দ্বিতীয় একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটার হওয়ার সম্মান দ্বিতীয়বার পেলেন মন্ধানা। এই মহিলা ভারতীয় দলের ওপেনার আইসিসি (International cricket council)বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি প্লেয়ারের তালিকাতেও ছিলেন। কিন্তু নমিনেশন থাকলেও সেই ট্রফি জিততে পারেননি তিনি। তবে আইসিসি বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি( ICC Women’s Cricket Worldcup)। দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন মন্ধানা। 

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার স্মৃতি। ২০২১ সালে ভারতের মহিলা ক্রিকেটের প্রথম গোলাপি বলের ক্রিকেটে একমাত্র শতরানকারী ছিলেন স্মৃতি মন্ধানা। গত বছর ২২ ম্যাচে ৮৫৫ রান করেছেন তিনি। তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ৩৮.৮৬। এর আগে ২০১৮ সালে আইসিসি ওমেন্স ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার ও আইসিসি (International cricket council) ওমেন্স ওয়ান ডে ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ারের অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন স্মৃতি। তিনিই বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার, রান তাড়া করতে নেমে টানা ১০টি হাফসেঞ্চুরি রয়েছে যাঁর। এই রেকর্ড মহিলা ক্রিকেটে তো নয়ই, এমনকী পুরুষদের ক্রিকেটেও নেই ব্যাটারের।

স্মৃতি মান্ধানা ছাড়াও ইংল্যান্ডের ট্যামি বেমাউন্ট, ন্যাট স্কিভার ও আয়ারল্যান্ডের গ্যাবি লিউইস (England women vs India Women) এই তিন ক্রিকেটার রয়েছেন টি২০-র ফর্মাটে আইসিসি-র বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটারের খেতাব পাওয়ার দৌড়ে। টি-টয়েন্টি ক্রিকেটে বছরটা মোটেই ভাল যায়নি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের। ৯টি ম্যাচে খেলে মাত্র দুটিতে এসেছে জয়। তবে তার মাঝেও স্মৃতির পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়াই হোক বা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান, কার্যত গোটা বছর উজ্জ্বল থেকেছে স্মৃতির ব্যাট।

২০২১ -এ দুরন্ত ছন্দে ছিলেন আয়ারল্যান্ডের ব্যাটার গ্যাবি লিউইস। আর টি২০ ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের মহিলা দলের দুরন্ত বছর কাটার অন্যতম বড় কারণ ট্যামি বেমাউন্ট ও ন্যাট স্কিভারের ব্যাট হাতে দুরন্ত পারফরম্যান্স। আইসিসির বর্ষসেরা মহিলা টি-২০ ( ICC Women’s Cricket Worldcup) দলে একমাত্র ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন স্মৃতি মন্ধনা। যদিও আইসিসির (International Cricket Council)বর্ষসেরা মহিলা টি-২০ ক্রিকেটারের পুরস্কার হাতে তুলতে পারেনি মন্ধনা। বর্ষসেরা মহিলা টি-২০ ক্রিকেটারের জন্য মনোনীত চারজনের তালিকায় নাম ছিল মন্ধনার। এই সম্মান পান ইংল্যান্ডের ট্যামি বিউমন্ট। ট্যামি বিউমন্ট ২০২১ সালে ৯টি আন্তর্জাতিক টি-২০( ICC Women’s Cricket Worldcup) ম্যাচে ৩৩.৬৬ গড়ে ৩০৩ রান সংগ্রহ করেছেন। , স্মৃতি মন্ধনা ২০২১ সালে ৯টি আন্তর্জাতিক টি-২০ ( ICC Women’s Cricket Worldcup) ম্যাচে ৩১.৮৭ গড়ে ২৫৫ রান সংগ্রহ করেছেন। তবে সেরা টি২০ একাদশে সুযোগ পেয়ে ও বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটারের সম্মান পেয়ে খুশি স্মৃতি মন্ধনা।

উল্লেখ্য, আইসিসি-র (International cricket council) বর্ষসেরায় দাপট দেখিয়েছেন এবার পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে সেরার মুকুট উঠেছে সেরার মুকুট উঠেছে পাক ক্যাপ্টেন বাবর আজমের মাথায়। টি-২০ ফর্ম্যাটে আন্তর্জাতিক আঙিনা দাপিয়ে সেরার সেরা হয়েছেন  মহম্মদ রিজওয়ান। এবার বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেটার হয়েছেন তরুণ পাক পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। তাঁর আগুনে গতি ও সুইংয়ে মোহতি হয়েছে বাইশ গজ। ৩৬টি আন্তর্জাতিক ম্য়াচে তিনি মোট ৭৮টি উইকেট নিয়েছেন ২২.২০-এর গড়ে। তাঁর সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৬/৫১।

প্রসঙ্গত, ১৮ জুলাই, ১৯৯৬ তারিখে মন্ধনা’র জন্ম।স্মিতা ও শ্রীনিবাস মন্ধনা দম্পতির সন্তান তিনি। দুই বছর বয়সে সাংলি থেকে মহারাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হয় তার পরিবার। মহারাষ্ট্রে তার শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয়। তার পিতা ও ভাই শ্রাবণ – উভয়েই জেলা পর্যায়ে সাংলি জেলার পক্ষে ক্রিকেট খেলেছেন। মহারাষ্ট্রের অনূর্ধ্ব-১৬ প্রতিযোগিতায় ভাইয়ের খেলা দেখে ক্রিকেটের দিকে ধাবিত হন। নয় বছর বয়সে মহারাষ্ট্রের অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ের দলে খেলার জন্য মনোনীত হন। এগারো বছর বয়সে মহারাষ্ট্রের অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের দলে খেলার জন্য মনোনীত হন। মন্ধনার পরিবার নিবিড়ভাবে তার ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তার বাবা মন্ধনা রাসায়নিক দ্রব্য পরিবেশক ও তার ক্রিকেট কার্যকলাপে তত্ত্বাবধান করেন। অন্যদিকে তার মা স্মিতা সুষম খাদ্য পরিবেশনা, পোশাক-পরিচ্ছদ সরবরাহ ও অন্যান্য সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তার ভাই শ্রাবণ অদ্যাবধি অনুশীলনীতে তাকে বোলিং করে যাচ্ছেন।

২০ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে বাংলাদেশের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে স্মৃতি মন্ধনার। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে সিরিজের দ্বিতীয় ওডিআইয়ে ১০৯ বল মোকাবেলা করে ১০২ রান তুলেন। হোবার্টের বেলেরিভ ওভালের ঐ খেলায় নিজস্ব প্রথম শতরানটি অবশ্য বিফলে যায় ও তার দল পরাজিত হয়েছিল। ওডিআই অভিষেকের পূর্বেই একই দলের বিপক্ষে ৫ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে টি২০আইয়ে অভিষিক্ত হন। ১৩ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়। ওর্মস্লি পার্কে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ২২ ও ৫১ রান তুলে দলকে জয়ের সন্ধান দেন। ১৮২ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে থিরুশ কামিনি’র সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ৭৬ রান তুলেছিলেন। ২০১৬ সালের আইসিসি মহিলা বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

আইসিসি মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপকে ( ICC Women’s Cricket Worldcup)ঘিরে ১৫ মে, ২০১৭ তারিখে মিতালী রাজের অধিনায়কত্বে ১৫-সদস্যের ভারতীয় দলের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে তিনিও অন্তর্ভুক্ত হন। ২৪ জুন, ২০১৭ তারিখে ডার্বির কাউন্টি গ্রাউন্ডে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলায় স্মরণীয় ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন তিনি। মাত্র ৭২ বলে ৯০ রান তুলে দলকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৮১/৩-এ নিয়ে যান। এরপর দীপ্তি শর্মা’র ৩/৪৭ বোলিং পরিসংখ্যানে ইংল্যান্ড ২৪৬ রানে গুটিয়ে যায়। এরফলে ভারতীয় দল ৩৫ রানে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। একমাত্র ভারতীয় প্রমিলা খেলোয়াড় হিসেবে ২০১৬ সালে আইসিসি বর্ষসেরা মহিলা দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.