মাত্র দু’ঘণ্টা ঘুমোন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Pm Modi)! বিজেপি নেতার মন্তব্যে দানা বেঁধেছে বিতর্ক

Home দেশের মাটি মাত্র দু’ঘণ্টা ঘুমোন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Pm Modi)! বিজেপি নেতার মন্তব্যে দানা বেঁধেছে বিতর্ক
মাত্র দু’ঘণ্টা ঘুমোন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Pm Modi)! বিজেপি নেতার মন্তব্যে দানা বেঁধেছে বিতর্ক

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পর তিনিই দেশের উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্ব। দেশকে প্রগতিশীল করে তোলার গুরুভার তাঁরই কাঁধে। এ হেন অবস্থায় নিজের ঘুম আরও কমিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Pm Modi)! শুনতে অবাক লাগলেও এমন মন্তব্যই করেছেন মহারাষ্ট্র বিজেপির (Bjp) প্রধান চন্দ্রকান্ত পাটিল।

আর কয়েকদিনের মধ্যেই মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। সেখানে একটি নির্বাচনী জনসভায় বিজেপি নেতা চন্দ্রকান্ত পাটিল জানান, দিনে মাত্র দু’ঘণ্টা ঘুমোন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Pm Modi)। দেশের মানুষদের সেবা করার জন্য প্রতিদিন ২২ ঘণ্টা কাজ করেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই মন্তব্যের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা দেশজুড়ে। কেউ কেউ বলছেন, দেশের মানুষের সেবা করার জন্য এই ধরনের আত্মত্যাগ এর আগে কোনও প্রধানমন্ত্রী করেননি। আবার অনেকের মতে, চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে এই খবর প্রচার করে নিজের ঢাক নিজে পেটাতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু এভাবে আত্মপ্রচার করেও বিশেষ লাভ হবে না প্রধানমন্ত্রীর, মন্তব্য করছেন অনেকে।

মোদির ঘুম কমানোর কথা বলেই ক্ষান্ত হননি চন্দ্রকান্ত। তিনি দাবি করেছেন, দেশের জন্য প্রতি মিনিট কাজ করতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Pm Modi)। ২৪ ঘণ্টাই জেগে থেকে দেশের কাজ করে যেতে চান তিনি। ভারতবর্ষকে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধিশালী ও প্রগতিশালী দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর তিনি, আর সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছেন তিনি। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দেশের নেতৃত্বের দায়িত্বভার সামলাচ্ছেন মোদি এবং দেশের কোন জায়গায় কোন ঘটনা ঘটছে সে সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত সচেতন, রবিবারের নির্বাচনী জনসভা থেকে এমনটাই মন্তব্য করেন চন্দ্রকান্ত।

দু’বছর আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোদি দাবি করেছিলেন, তিনি মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘুমোন। রবিবার চন্দ্রকান্ত পাটিল প্রধানমন্ত্রীর ঘুমের সময় আরও এক-দু’ঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছেন। যা নিয়ে কটাক্ষ করছেন অনেকেই। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে অক্ষয় কুমারকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Pm Modi) বলেছিলেন, তিনি দিনে মোট তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘুমোন। তাঁর এই বক্তব্যকে সেই সময় তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল। সেই সময় প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী জনসভায় জাতীয় কংগ্রেস ও গান্ধী-নেহরু পরিবারকে তীব্র আক্রমণ করতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি দাবি করতেন, গান্ধী ও নেহরু পরিবারের, বিশেষত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ভুল পদক্ষেপের জন্য দেশের অগ্রগতি থমকে গিয়েছে। সেই প্রসঙ্গে রায়পুরে আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন-‘রাজীব গান্ধীজি বহু বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। এখন নির্বাচনের সময় তাঁকে নিয়ে কথা বলায় প্রমাণিত যে নরেন্দ্র মোদি মানসিক সুস্থতা হারিয়েছেন। তাঁর চিকিত্‍সার দরকার। অনেক সময় ঘুম কম হলে এরকম হয়।’

এদিকে গতকালই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Pm Modi) মুকুটে যুক্ত হয়েছে নতুন পালক। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মর্নিং কনসাল্ট নামক সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় নেতা এই মুহূর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৩টি দেশের রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে একটি সমীক্ষা চালায় এই সংস্থা। সেখানে ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের থেকে এগিয়ে তালিকায় এক নম্বর স্থানে রয়েছেন তিনি। নরেন্দ্র মোদির ঠিক পরেই ৬৩ শতাংশ জনমত পেয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়াল লোপেজ, তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও ড্রাঘি, চতুর্থ স্থানে রয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কানাডার প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডোকেও পেছনে ফেলেছেন তিনি।

এই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই (Pm Modi)। এই দুই বছরে লকডাউন, করোনা মহামারীর মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে রাষ্ট্রনেতাদের। এই কঠিন পরিস্থিতিতেও সামান্যও কমেনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Pm Modi) জনপ্রিয়তা, বলছে এই সমীক্ষা। সম্প্রতি রাশিয়া (Russia) ও ইউক্রেনের যু্দ্ধ চলাকালীন যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে বহু ভারতীয় ছাত্রছাত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে। এই বিষয়টিও মোদির জনপ্রিয়তাকে আরও বৃদ্ধি করেছে, মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থার সমীক্ষার এই ফলাফলে স্বভাবতই খুশি বিজেপি সমর্থকেরা। তাঁরা দাবি করছেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য কাজ না করলে তিনি কখনই বিশ্বের জনপ্রিয়তম নেতা হতেন না।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) গলায় হঠাৎই শোনা গিয়েছে ভারতকে নিয়ে প্রশংসার সুর। একটি ভিডিওতে ইমরান বলেছেন, তিনি ভারতকে সম্মান করেন কারণ ভারতের বিদেশনীতি সবসময়ই একটি স্বতন্ত্র চিন্তাধারা বজায় রেখেছে। পাক প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে শোরগোল পড়েছে ওয়াঘার ওপারে। যখন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হচ্ছে, সেই সময় পাক প্রধানমন্ত্রীর ভারত প্রশস্তি তাৎপর্য্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.