মশা দূর হটাতে সবুজ পরুন, এড়িয়ে চলুন লাল, কালো, স্টাডি

Home আজব মশা দূর হটাতে সবুজ পরুন, এড়িয়ে চলুন লাল, কালো, স্টাডি
মশা দূর হটাতে সবুজ পরুন, এড়িয়ে চলুন লাল, কালো, স্টাডি

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: মশা মারতে কামান না দেগে এড়িয়ে চলুন কিছু বিশেষ রং। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা। এসে গেছে বসন্ত। তারপর গ্রীষ্ম, বর্ষা। মশাদের হৈহৈ করে ছড়িয়ে পড়ার সময়ও এল। শীতের দিনে মশার দাপট কিছুটা হলেও কম থাকে। কিন্তু বছরের বাকি সময়ে মশা কানের ধারে গান গায়, কামড়ায় এবং তা থেকে নানা রোগও হয়। তাই পরুন সবুজ, এড়িয়ে চলুন লাল, কালো।ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া তো অনেক মানুষকে মৃত্যুর দরজায় পৌঁছে দেয়। সেক্ষেত্রে মশা থেকে বাঁচতে লিকুইডেটর, মশার ধূপ, মশা তাড়ানোর ক্রিম সবই ব্যবহার করেন মানুষ।কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা অনেক সময় হয়না। এবার মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার আরও একটি পন্থার কথা সামনে আনলেন গবেষকেরা।ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, মশারা মানুষের নিঃশ্বাস থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড বুঝতে পারে। তাতে তাদের চোখ খুলে যায়।মানুষের গায়ের রং যাই হোক না কেন মানুষের চামড়ায় একটা লাল রং থাকে। যা মশারা খুব ভাল দেখতে পায়। দেখতে পায় লালের কাছাকাছি কমলা রংও।এছাড়া কালো রং তাদের আকর্ষিত করে। আকর্ষিত করে নীলচে সবুজ রং। তাই এই রংগুলির দিকে দ্রুত ধেয়ে আসে তারা। তারা মনে করে সেখানে তারা তাদের খাবার পেতে পারে। ফলে এসব রংয়ের পোশাক পরে থাকলেও সেদিকে আকর্ষিত হয় মশারা।

গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, এসব রংয়ের দিকে মশারা যেমন আকর্ষিত হয় তেমনই নিঃশ্বাস নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডের দ্বারা তাদের চোখ খুলে যাওয়ার পরও সবুজ, নীল, বেগুনি এবং সাদা রংগুলি নজরে এলেও মশারা সেদিকে যাওয়া পছন্দ করেনা।তাই এসব রংয়ের পোশাক গায়ে থাকলে মশারা কাছে ঘেঁষবে না। ফলে মশার কামড় থেকে অনেকটা রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে। অন্তত এমনটাই দাবি করেছেন গবেষকেরা।মশা কমড়ায় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াটা দুষ্কর। কমবেশি সবাইকেই কামড়িয়ে থাকে এই খুদে প্রাণীটি। তবে কাউকে একটু বেশিই কামড়ায় আবার কাউকে একটু কম! এর কারণ কী জানেন? আসলে মশা কাকে বেশি আক্রমণ করবে তার অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কোন রঙের পোশাক পরেছেন তার ওপর! অবাক করা বিষয় হলেও এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা নেচার কমিউনিকেশনে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই তথ্য জানিয়েছেন।এডিস মশা প্রথমে আকৃষ্ট হয় মানুষের দেহ থেকে নিঃসৃত হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইডে। এরপর যে উৎস থেকে ওই কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে ও তার রঙের ওপর ভিত্তি করে আক্রমণ করে মশা।গবেষকরা জানান, লাল, কমলা, কালো ও সায়ান রঙের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয় মশা। পাশাপাশি সবুজ, বেগুনি, নীল ও সাদা রং দেখলে দূরে পালায় মশা। অর্থাৎ এসব রং একেবারেই পছন্দ করে না মশা।এর আগে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে আক্রমণ করে মশা। নিশ্বাস থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, ঘাম ও দেহের উষ্ণতা। তবে এই তালিকায় এবার চতুর্থ বিষয়টি যুক্ত হলো।

গবেষণায় আরও জানা যায়। গাঢ় লাল না হলেও ত্বকের লাল রঞ্জক পদার্থে আকৃষ্ট হয় মশা। তাই মশা যেসব রং পছন্দ করে না, সেসব রঙের কাপড় পরেও মশার কামড় এড়াতে পারেন।শহরজুড়ে আতঙ্কের বিষয়বস্তু ডেঙ্গু জ্বর। ডেঙ্গু জ্বর সেরে যাওয়ার পর একসময় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন, এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। তবে ডেঙ্গু জ্বরে জটিলতার হারও কম নয়। এ ব্যাপারে সচেতনতা জরুরি। সঠিক তথ্য জানা যেমন জরুরি, তেমনি মশা যেন আপনার থেকে কয়েক হাত দূরে থাকে, সে ব্যবস্থাও নিতে হবে এই মুহূর্ত থেকে।যেসব ওষুধ পোশাকে প্রয়োগ করার নিয়ম, সেগুলো সরাসরি ত্বকে লাগানো উচিত নয়, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। এ ছাড়া শরীরের যেকোনো জায়গায় মশানিরোধী আজকাল কম ধোঁয়ার কয়েলও কিনতে পাওয়া যায়। তবে কয়েলের ধোঁয়া কম হোক বা বেশি, কয়েল ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি কিন্তু প্রশ্নাতীত নয়।কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রতি প্রবল আকর্ষণ আছে মশাদের। অন্য সময়ের তুলনায় গর্ভাবস্থায় নারীরা বেশি পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়েন। ফলে মশারা তাঁদের প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট হয়। একই ব্যাপার ঘটে শিশুদের বেলায়ও। এ কারণে সম্প্রতি দুনিয়ার নানা প্রান্তে জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের মধ্যে শিশুদের কথাই বেশি শোনা গেছে।খেয়াল করে দেখুন, কিছুক্ষণ দৌড়ানোর পর মশারা ছেঁকে ধরে। শুধু দৌড় নয়, যেকোনো শারীরিক পরিশ্রমের পরপরই এমনটা হয়। শারীরিক পরিশ্রমের পর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে ল্যাকটিক অ্যাসিড নির্গত করে আমাদের শরীরের মাংশপেশিগুলো। আর এই উপাদানটির ‘ঘ্রাণ’ পেয়েই ছুটে আসে মশা!

Leave a Reply

Your email address will not be published.