ভারতীয় ছাত্রদের দেশে ফেরার নিরাপদ রাস্তা দিতে মঙ্গলবার সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা রাশিয়ার(Russia)

Home বিদেশ-বিভূঁই ভারতীয় ছাত্রদের দেশে ফেরার নিরাপদ রাস্তা দিতে মঙ্গলবার সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা রাশিয়ার(Russia)
ভারতীয় ছাত্রদের দেশে ফেরার নিরাপদ রাস্তা দিতে মঙ্গলবার সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা রাশিয়ার(Russia)

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন তৃতীয় বৈঠকেও মিলল না রফাসূত্র। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার আশঙ্কা ক্রমশ প্রবল হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে ভারতীয় পড়ুয়াদের সেফ প্যাসেজ দিতে ফের যুদ্ধবিরতি ঘোযণা করল রাশিয়া(Russia)। রাশিয়ার সময় অনুযায়ী সকল ১০টা এবং ভারতীয় সময় অনুযায়ী দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বলবৎ এই অস্ত্রবিরতির কারণ, সুমিতে(Ukraine) আটকে থাকা ভারতীয় পড়ুয়াদের সুরক্ষিতভাবে দেশে ফেরানো(Evacuation), জানিয়েছে ক্রেমলিন। সুমি-সহ ইউক্রেনের মোট পাঁচটি শহর থেকে ছাত্রদের সুরক্ষিত ভাবে দেশে ফেরানোর সুবিধা করে দিতে অবশেষে রাজি হয় রুশ বিদেশমন্ত্রক। যারই প্রতিফলন অস্ত্রবিরতির এই ঘোষণা। সুমি ছাড়া কিভ, খারকিভ, মারিউপোল এবং চারনিগিভ শহরের পড়ুয়াদেরও বধ্যভূমি ইউক্রেন থেকে নিরাপদে বের করে আনার জন্যই এই তৎপরতা বলে দাবি করেছে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রক।

আরও জানতে পড়ুন – Russia Ukraine war: নিজেদের স্বার্থে পুতিনকে বলুন যুদ্ধ বন্ধ করতে, ভারতের কাছে ইউক্রেনের আর্জি

ভারতে অবস্থিত রাশিয়ার (Russia) দূতাবাসের তরফে একটি তালিকা প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, কোথা থেকে পড়ুয়াদের জন্য ‘মানবিক করিডর’-এর ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত। সেখানেই প্রথমে উল্লেখ রয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ইউক্রেনের সুমি শহরের কথা। যেখানে ৬০০ ভারতীয় পড়ুয়া আটকে রয়েছেন, গত কয়েকদিন বহু চেষ্টা করেও তাঁরা দেশে ফেরার(Evacuation) কোনও পথই বার করতে পারেননি।

এর আগেও মানবিক করিডর(humanitarian operation)তৈরি করে দিতে ইউক্রেনের একাধিক শহরে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে রাশিয়া। তবে তৃতীয় কোনও রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি রাশিয়ার এই মনোভাবকে মোটেও ভালো চোখে দেখতে রাজি নয় ইউক্রেন। জেলেনস্কিদের দাবি, আন্তর্জাতিক দুনিয়ার চোখে নিজেদের মহান প্রতিপন্ন করতে এ সবই হল রাশিয়ার ‘নাটক’। কারণ হিসেবে  ইউক্রেনের দাবি, এর আগেও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পরও রুশ সেনা কিভ-সহ বহু শহরে হামলা অব্যাহত রাখে, প্রাণ নেয় বহু নিরীহ নাগরিকের।

মঙ্গলবার ভারতীয় সময় বেলা সাড়ে ১২টা থেকে খারকিভ, মারিউপুল এবং সুমি শহরে এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ-র অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। ভারতীয় পড়ুয়াদের সুরক্ষিতভাবে দেশে(India) ফেরানো (Evacuation)নিয়ে, পুতিনের সঙ্গে গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথা হয়। একই বিষয়ে  দিন দু’য়েক আগেই পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মাকরঁ। মনে করা হচ্ছে, দুই রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে কথা হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য সোমবারই রুশ আগ্রাসনে বিপন্ন ভারতীয় পড়ুয়াদের দুর্দশার কথা রাষ্ট্রসংঘে(UN Security Council)তুলে ধরেন, দিল্লির স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া এবং ইউক্রেন, যুযুধান দুই রাষ্ট্রের কাছে আমাদের বারংবার অনুরোধ উপরোধের পরও, সুমিতে আটকে থাকা ভারতীয় পড়ুয়াদের দেশে( India) ফেরার সেফ প্যাসেজ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কোনও পক্ষ্ই আগ্রহ দেখায়নি। উভয়ের এই আচরণে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।’ এরপরই ভারতে রাশিয়ার(Russia) দূতাবাসের তরফে ট্যুইট করে জানানো হয়, ‘৮ মার্চ, ২০২২, রাশিয়া অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করছে, এবং মানবিক করিডর তৈরি করে দিতে প্রস্তুত। ’    

ওই ট্যুইটে আরও জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের(Ukraine) সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে, ‘সুমি থেকে দুটি রুটে ভারতীয় ছাত্রদের বের করে আনা হবে। একটি পোল্টাভা হয়ে। অন্যটি হল, রুশ ফেডারেশনের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে বেলগরোদ থেকে বিমান, রেল বা সড়কপথে নিজেদের গন্তব্য বা অস্থায়ী এবং নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে রওনা করানো হবে।’ 

যদিও একে আমল দিতে নারাজ ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলনস্কি। তাঁদের অভিযোগ, এর আগে দু’বার ইউক্রেনের মারিউপোল ও ভলনোভাখা শহরে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে রাশিয়া(Russia)। কিন্তু প্রতিবারই সেই বিরতি ভেঙে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

এদিকে ১৩ দিনে পড়ল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে রবিবার জানানো হয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনে ২৬০ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় সাড়ে ১০ লক্ষ মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে অন্য দেশের শরণ নিয়েছেন। ইউক্রেনের আরও অভিযোগ, খারকিভের একটি পরমাণু চুল্লির কাছে লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া(Russia)। এই হামলা চালাতে তারা যে লঞ্চার ব্যবহার করছে, তার নিশানা সম্পর্কে ইউক্রেন সন্দিহান। তাদের আশঙ্কা  কোনও মুহূর্তে ওই পরমাণু চুল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এক বার যদি সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে, তবে তার প্রভাব ইউরোপের দেশগুলিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া(Russia) সাময়িক যুদ্ধবিরতির ডাক দিলেও তা সদর্থক ভাবে গ্রহণ করতে পারছে না কিভ।এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের মিকোলেভ সেনা ব্যারাকে মিসাইল হামলা চালিয়েছে রুশ ফৌজ। ওই ঘটনায় ৯ ইউক্রেনীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। ভিনিৎসা-সহ একাধিক জায়গায় বোমাবর্ষণ করছে রাশিয়ার গোলন্দাজ বাহিনী।

ক্রমে জটিল হয়ে ওঠা যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার বেলারুশে আলোচনায় বসে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে মানবিক করিডর(humanitarian operation) তৈরি করা ও সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আলোচনা হয় দুই পক্ষের মধ্যে। জানা গিয়েছে, বেলারুশ-পোল্যান্ড সীমান্তের বেলোভেজসকায়া পুশচা এলাকায় হওয়া ওই বৈঠক ‘ইতিবাচক’ বলেই দাবি করেছে কিভ। তবে আলোচনায় খুশি না হলেও মস্কো মঙ্গলবার থেকে ইউক্রেনে মানবিক করিডর তৈরি করার বিষয়ে সহমত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.