‘ভোপালিরা সমকামী’, দ্য কাশ্মীর ফাইলস (The Kashmir Files) চলচ্চিত্রের পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর মন্তব্যে তোলপাড় গোটা দেশ

‘ভোপালিরা সমকামী’, দ্য কাশ্মীর ফাইলস (The Kashmir Files) চলচ্চিত্রের পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর মন্তব্যে তোলপাড় গোটা দেশ

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: গত কয়েকদিন ধরেই বিবেক অগ্নিহোত্রী (Vivek Agnihotri) পরিচালিত ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (The Kashmir Files) চলচ্চিত্রটি তোলপাড় তুলেছে গোটা ভারতবর্ষে। নব্বইয়ের দশকে একের পর এক কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তা এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছেন পরিচালক। শুরুর দিন থেকেই বক্সঅফিসে ঝড় তুলে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা করেছে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (The Kashmir Files)। এই চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য বাড়াতে হয়েছিল স্ক্রিন সংখ্যাও। প্রশংসা-বিতর্ক সব মিলিয়ে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত সবারই মুখে মুখে ফিরছে এই চলচ্চিত্রের কথা। ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে রাজনীতিও কম হচ্ছে না। এরই মধ্যে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ চলচ্চিত্রের পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর একটি মন্তব্যে দানা বাঁধলো বিতর্ক। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন-মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের মানুষ, যাঁদেরকে ভোপালী বলা হয়, তাঁরা সমকামী (homosexuals)। ভোপালের মানুষদের প্রচুর নবাবি শখ আছে।

তাঁর এই মন্তব্য থেকে অনেকেই অনুমান করেছেন, বিবেক অগ্নিহোত্রী এই কথার মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন ভোপালের মানুষেরা সমকামী। তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই তোলপাড় পড়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

জানা গিয়েছে, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (The Kashmir Files) চলচ্চিত্র পরিচালক শুক্রবার একটি চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে ভোপাল গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা গিয়েছে, বিবেক অগ্নিহোত্রী বলছেন, ‘আমি ভোপালে বড় হয়েছি, কিন্তু আমি ভোপালি নই। কারণ ভোপালির আলাদা অর্থ আছে। কেউ যদি বলে সে ভোপালি, তার অর্থ সাধারণত সে সমকামী, নবাবিয়ানাকে পছন্দ করে এমন ব্যক্তি।’

অনেকের মতে, বিবেক অগ্নিহোত্রী এই মন্তব্য করার মাধ্যমে সমকামী মানুষদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছেন। তাঁর কথায় সমকামী মানুষদের প্রতি তীব্র কটাক্ষ রয়েছে, এমনটাই মনে করছেন অনেকে। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদও করেছেন বহু মানুষ। এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিবেক অগ্নিহোত্রী মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের সমস্ত মানুষদের অপমান করেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন পোস্টও করছেন কেউ কেউ।

‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (The Kashmir Files) চলচ্চিত্রের পরিচালকের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন মধ্যপ্রদেশের জাতীয় কংগ্রেস নেতারা। তাঁদের দাবি, বিবেক অগ্নিহোত্রী এই মন্তব্যের মাধ্যমে গোটা ভোপাল শহরকে ‘অপমান’ করেছেন। অবিলম্বে এই বক্তব্যের জন্য বিবেক অগ্নিহোত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত, এমনটাই দাবি করেছেন মধ্যপ্রদেশের জাতীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব। মধ্যপ্রদেশের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং ট্যুইটারে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ পরিচালককে উদ্দেশ্য করে ট্যুইটারে লিখেছেন-‘ বিবেক অগ্নিহোত্রীজি, এটা আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হতে পারে। কিন্তু এটা একজন সাধারণ ভোপাল বাসিন্দার অভিজ্ঞতা নয়। আমি ১৯৭৭ সাল থেকে ভোপাল এবং ভোপালবাসীর সঙ্গে সম্পৃক্ত, কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা তেমন ছিল না।’ প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী পিসি শর্মা বিবেক অগ্নিহোত্রীর ভোপালবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, ভোপাল শহর ভারত ভবন, শিল্পকলা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। সেই শহরকে বিবেক অগ্নিহোত্রী এমনভাবে অপমান করতে পারেন না। মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস মিডিয়া সেলের সহ-সভাপতি ভূপেন্দ্র গুপ্ত ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ চলচ্চিত্রের পরিচালকের মন্তব্যকে ভোপালের ২৫ লক্ষ বাসিন্দার জন্য ‘অপমানজনক’ বলে দাবি করেছেন এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের কাছে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত বিবেক অগ্নিহোত্রীর সঙ্গে কোনও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (The Kashmir Files) নিয়ে সরগরম গোটা দেশ। এই ছবি নিয়ে একই সঙ্গে প্রশংসা ও সমালোচনায় বিভক্ত সিনেমাপ্রেমীরা। কারুর মতে এটি নেহাতই বিজেপির প্রচারমূলক চলচ্চিত্র, কারুর মতে বিবেক অগ্নিহোত্রী অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই চলচ্চিত্র বানিয়েছেন, কারণ কাশ্মীর থেকে হিন্দু পণ্ডিতদের উৎখাত নিয়ে সেভাবে কখনই ছবি তৈরি করেননি বলিউডের কোনও পরিচালক। বিধু বিনোদ চোপড়া এই ঘটনা নিয়েই বানিয়েছিলেন শিকারা। কিন্তু প্রচারের আলো পায়নি সেই ছবি। আপাতত অনুপম খের, মিঠুন চক্রবর্তী, পল্লবী যোশী, দর্শন কুমার অভিনীত এই চলচ্চিত্র ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ নিয়ে তোলপাড় গোটা দেশ।

দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (The Kashmir Files) চলচ্চিত্রটি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কও অব্যাহত। এর মাঝেই ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ চলচ্চিত্রটি নিয়ে মুখ খুললেন বিখ্যাত বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর। তিনি বলেছেন, ‘এই ধরনের একপেশে ছবির ক্ষেত্রে বিঘ্নিত হতে পারে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহ। ভারত হিন্দু ও মুসলিমের দেশ। দুই সম্প্রদায়ের মানুষই এখানে বসবাস করেন। তাই দুজনের জন্যই শান্তির পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন। সবাই যখন শান্তিতে রয়েছেন, তখন এমনভাবে খুঁচিয়ে ঘা করার দরকার কী? এভাবে বিবাদ তৈরি করা ঠিক নয়’। এছাড়াও ট্যুইটারে অভিনেতা আদিল হুসেন লিখেছেন, ‘সত্য অবশ্যই বলা উচিত! এতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে, তা নম্রভাবে বলা প্রয়োজন। অন্যথায় সত্য কথনের উদ্দেশ্য তার সৌন্দর্যতা হারায়। যার প্রভাব প্রতিক্রিয়াশীল হতে পারে। আমরা অবশ্যই প্রতিক্রিয়াশীল সমাজ চাই না, দায়িত্ববান সমাজ চাই। শিল্পের কাজ কখনই প্রভাবিত করা নয়’। হিন্দিতে ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ হিনা খান এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি এখনও ছবিটি দেখিনি। তাই ছবির বিষয়বস্তু না জেনে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না’। এরপরই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তাঁর সংযোজন, ‘আমার ভাই ছবিটি দেখতে গিয়েছিল এবং তারপর সে ছবিটি সম্পর্কে নিজের প্রতিক্রিয়া আমার কাছে বর্ণনা করেছে’। ছবি চলাকালীন বিরতির সময় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীদের থিয়েটারের সামনে দলীয় পতাকা লাগাতে দেখা গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যদিও বিখ্যাত বলিউড অভিনেতা আমির খান জানিয়েছেন, তিনি নিজে এখনও পর্যন্ত ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ না দেখলেও খুব শীঘ্রই এই চলচ্চিত্রটি দেখবেন। প্রত্যেক ভারতবাসীর এই চলচ্চিত্রটি দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.