বীরেন্দ্র ‘‌সরকার’‌ সহবাগ (‌Virender Sehwag)‌

বীরেন্দ্র ‘‌সরকার’‌ সহবাগ (‌Virender Sehwag)‌

প্রিয়ম সেনগুপ্ত:‌ ক্রিকেটার?‌ নাকি বালাসাহেব ঠাকরের (‌balasaheb thackeray)‌ আদলে বানানো চলচ্চিত্রের চরিত্র সুভাষ গায়তোন্ডে?‌ মানে যিনি বেশি পরিচিত ‘‌সরকার’‌ (‌sarkar)‌ নামে। হিমশীতল দৃষ্টিতে যিনি ক্যামেরার চোখে চোখ রেখে প্লেটে চা ঢেলে চুমুক দিতে দিতে বলে দেবেন, ‘‌মুঝে যো সহি লগতা হ্যায়, করতা হুঁ।ওহ চাহে ভগওয়ানকে খিলাফ হো, সমাজকে খিলাফ হো, পুলিস–কানুন–ইয়া ফির, পুরি সিস্টেমকে খিলাফ কিঁউ না হো।’‌


বীরেন্দ্র সেওয়াগ (‌Virender Sehwag)‌!‌ যা মনে হয়, তাই করেন। তাতে ক্রিকেটীয় (Cricket) ব্যাকরণের অনুমোদন থাকুক কিংবা না–ই থাকুক। ক্রিকেট–ব্যাকরণ (Cricket) বলে, ব্যাটসম্যান যতই মারকুটে হন না কেন, ভাল বলকে সম্মান দিতেই হবে। বিশেষত, টেস্ট ক্রিকেট (Test Cricket) হলে তো কথাই নেই। ব্যাটসম্যানরা দেন, দিয়েও এসেছেন, ভবিষ্যতেও দেবেন। যদি না তাঁর নাম বীরেন্দ্র সেওয়াগ (‌Virender Sehwag)‌ হয়!‌ এবং সেওয়াগীয় ধোলাই যদি ক্রিকেটীয় (Cricket) ব্যাকরণের পরিপন্থীও হয়, ‘‌তাহলেও কুছ পরোয়া নহি’‌। কারণ, শুধু সুভাষ গাইতোন্ডে নয়, সেওয়াগের ক্রিকেট–দর্শনের সঙ্গে মিলে যায় আরও এক বলিউডি চরিত্রের জীবনদর্শন। যিনি শুনিয়ে রাখেন ‘‌জো ডর গয়া, সমঝো মর গয়া’‌। রামগড়ের পাহাড়ে ঘেরা গব্বর সিংয়ের (‌Gabbar singh) আস্তানা থেকে এই অকুতোভয় থাকার ফরমুলাকে যদি বাইশ গজে এনে ফেলা যায়, তাহলে সম্ভবত সেওয়াগই ভারতীয় ক্রিকেটের প্রথম ব্যাটসম্যান যাঁর শরীরে ‘‌শোলে’‌–র প্রায় কিংবদন্তি হয়ে যাওয়া সংলাপের পোশাক একটুও বেমানান ঠেকবে না।


স্থান মুলতান (multan)। কাল ২৯ মার্চ,‌ ২০০৪। পাত্র বীরেন্দ্র সেওয়াগ (‌Virender Sehwag)‌। পাকিস্তান (Pakistan) সফরে গিয়ে আজকের দিনে ১৮বছর আগের সেওয়াগের ঐতিহাসিক ট্রিপল সেঞ্চুরির কথা ভুলতে পারবেন না কেউই। কেন আজকের দিনে সেওয়াগের এই সেঞ্চুরির সঙ্গে সরকারের (‌sarkar) বিখ্যাত সংলাপের তুলনা টানতে হচ্ছে, সেটা বুঝতে গেলে জানতে হবে সেই ম্যাচের ড্রেসিংরুমের গল্প।


ফেরা যাক মুলতান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়। ব্যাট হাতে সেওয়াগের সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছেন আকাশ চোপড়া (Akash Chopra)। শুরু থেকেই আগুন ঝরাতে শুরু করে দিলেন শোয়েব আখতার (shoaib akhtar) এবং মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। তাঁদের সামনে রীতিমতো নড়বড়ে দেখাচ্ছিল আকাশকে। উল্টোদিকে সেওয়াগ (‌Virender Sehwag)‌ কিন্তু নিরুত্তাপ। আকাশ চোপড়া একদিকে যখন কোনওমতে স্ট্রাইক বদলে দিতে পারলে বাঁচেন, অন্যদিকে সেওয়াগ (‌Virender Sehwag)‌ কিন্তু দুমাদ্দুম মেরে বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়েই যাচ্ছেন শোয়েব–শামিদের। আকাশ এবং সেওয়াগের অ্যাটিটিউড কতটা আলাদা?‌ সেটা বোঝা যাবে তাঁদের স্ট্রাইক রেট দেখলেই। ১৬৩ মিনিট ক্রিজে থেকে একেরপর এক পাঁজর আর প্যাডে গোলাগুলির মতো আছড়ে পড়া ডেলিভারি কোনওমতে সামলে ১২১ বল খেলে ৪২ রান করা আকাশ চোপড়া যখন প্যাভিলিয়নে ফিরছেন, তখন তাঁর স্ট্রাইক রেট ৩৪.‌৭১। আর সেওয়াগ?‌ তাঁর স্ট্রাইক রেট ৮২.‌৪০!‌


আকাশ ফিরতেই প্রত্যাশা মতোই ক্রিজে এলেন রাহুল দ্রাবিড় (Rahul Dravid)। স্কোরবোর্ডে ভারতের পাশে তখন ১৬০ রান। স্কোর হিসেবে হয়তো মন্দ নয়। তবে শোয়েব–শামি–সাকলিন মুস্তাকের ত্রয়ী মাটি কামড়ে লড়ে যাচ্ছেন। ভারতীয় সমর্থকরা এই ভেবে স্বস্তিতে ছিলেন একদিকে আগুনে মেজাজে থাকা সেওয়াগ (‌Virender Sehwag)‌, অন্য দিকে ধীরস্থির এবং দুর্ভেদ্য রক্ষণের অধিকারী দ্রাবিড়— দু’‌জনে মিলে পাক বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে দেবেন। কিন্তু মাত্র ৬ রান করে ইয়াসির হামিদের হাতে ক্যাচ তুলে ফিরে গেলেন দ্রাবিড়। যতই দ্রাবিড়ের পরের নামটা শচীন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar) হোক, বিপক্ষের নামও তো পাকিস্তান (Pakistan)। শোনা যায়, তাই শচীন (Sachin Tendulkar) নাকি ক্রিজে এসে সেওয়াগকে (‌Virender Sehwag)‌ সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন, তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। তুই একটু বুঝেশুনে হিসেব করে শট খেল। ঝুঁকি নিবি না। উত্তরে নাকি সেওয়াগ (‌Virender Sehwag)‌ তাঁর স্বভাবসিদ্ধ বেপরোয়া ভঙ্গিতে বলেছিলেন, ‘‌মারার বল পেলে মারব। অত হিসেবনিকেশের কী আছে?‌’‌ শেওয়াগের এর পরের মন্তব্যটা ভারতীয় ক্রিকেটের রূপকথায় পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে। নজফগড়ের নবাব নাকি বলেছিলেন, ‘‌ঠোকনে কা চান্স আয়েগা তো ঠোকুঙ্গা। ক্রিকেট খেলনে আয়ে হ্যায়। ম্যাথস কা এগজাম দেনে থোড়ি না আয়ে হ্যায়।’‌ অর্থাৎ মারা উচিত মনে করলে মারব। অঙ্ক পরীক্ষা তো দিতে আসিনি যে বসে বসে হিসেব কষব, তারপরে মারব। শচীন নাকি বোঝানোর চেষ্টাও করেছিলে সেওয়াগকে (‌Virender Sehwag)‌, এটা পাকিস্তানের (Pakistan) সঙ্গে ম্যাচ। পান থেকে চুন খসলে সমর্থকরা জ্যান্ত গিলে খাবেন। তাছাড়া রাহুল দ্রাবিড়ের (Pakistan) উইকেট পড়ে যাওয়া মানে ব্যাটিং রক্ষণে বিরাট ফাটল। এই পরিস্থিতি ঝুঁকি নেওয়াটাকে ক্রিকেটবোধের অনুমোদন দেয় না। সেওয়াগ (‌Virender Sehwag)‌ নাকি সেসব যুক্তি ফুৎকারে উড়িয়ে দেন। তাঁর সাফ কথা ছিল, মারা উচিত মনে করলে মারব। তা সে ক্রিকেটবোধ অনুমোদন দিক আর না–ই দিক।


অর্থাৎ সেই সুভাষ গায়তোন্ডেসুলভ অ্যাটিটিউড, ‘‌যো মুঝে সহি লগতা হ্যায়.‌.‌.‌’‌। শোয়েব আখতারের গতি, সামির সুইং এবং সাকলিনের ঘাতক অফস্পিনের সামনে পড়েও সেওয়াগ সেসবকে তিলমাত্র সম্মান দেখাতে রাজি হননি। হলে হয়তো নামের পাশে ৩৭৫ বলে ৩৯টি বাউন্ডারি এবং ৬টি ওভার বাউন্ডারি সহ ৩০৯ রান লেখা থাকতো না।


মুলতান টেস্টের বীরু (‌যা কি না ঘটনাচক্রে তাঁর ডাকনামও বটে)‌ যদি সেওয়াগ হন, জয় তাহলে নিঃসন্দেহে শচীন তেন্ডুলকর। মাস্টারব্লাস্টার ২৪৮ বলে ১৯৪ রান করেন। ২১টা বাউন্ডারি মেরে শচীন যখন অপরাজিত অবস্থায় প্যাভিলিয়নে ফিরে যাচ্ছেন, তখন ভারতের নামের পাশে স্কোরবোর্ডে লেখা ৫০৯ রান। পাক বোলারদের মেরুদণ্ড ততক্ষণে ভেঙে গুঁড়িয়ে মুলতানের বাইশ গজের ধুলোতে মিশে গেছে। যাবে না–ই বা কেন। ৪৩তম ওভারে রাহুল আউট হওয়ার পরের উইকেটটি পড়েছে ১২৭তম ওভারে। সেই উইকেট অবশ্য সেওয়াগেরই। আর এই ৮৪ ওভারে সেওয়াগ–তেন্ডুলকর জুটি তুলে দিয়েছিল ৩৩৬ রান।


ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৬৭৫ রানে। পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৪০৭ রান তুলে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ফলো–অন করে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৬ রানে মুখ থুবড়ে পড়ে। এক ইনিংস এবং ৫২ রানে হাসতে হাসতে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল ভারত। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ?‌ বীরেন্দ্র সেওয়াগ (‌Virender Sehwag)‌।


এসব তথ্যই ক্রিকেটের শুকনো পরিসংখ্যানের বইতে লেখা থাকবে। কিন্তু যা লেখা থাকে না, তা হল ২৯৫ ব্যক্তিগত স্কোরের মাথায় সাকলিন মুস্তাককে সপাটে ছক্কা মেরে ট্রিপল সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছিলেন সেওয়াগ (‌Virender Sehwag)‌। মনে রাখতে হবে, এর আগে কোনও ভারতীয় টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে পারেননি। মনে রাখতে হবে, কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১৯০–এর ঘরে ঢুকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দিয়ে এসেছিলেন সেওয়াগ। সম্ভবত সেই কথা মাথায় রেখেই একটা ছক্কা মারার পরে শচীন ননস্ট্রাইকিং এন্ড থেকে দৌড়ে এসে বলেছিলেন, ‘‌আর একবার ছক্কা মারার চেষ্টা করলে আমার ব্যাটটা দিয়ে তোকে পেটাব।’‌ সেওয়াগ হেসেছিলেন। মুখে কোনও উত্তর দেননি। কিন্তু সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরি এবং ট্রিপল সেঞ্চুরি— তিনটেই ঢুকেছিলেন সেই ছক্কা মেরেই!‌ শচীনের ব্যাটও শেওয়াগের পিঠ স্পর্শ করেছিল বলে জানা নেই।


এই কারণেই সেওয়াগ একজন ‘‌ক্যারেক্টার’। ‌যে ক্যারেক্টারকে কোনওদিন অন্য কোনও ব্যাটসম্যানের নামের পাশে লেখা কোনও সাবধানী ট্রিপল সেঞ্চুরির স্কোর দিয়ে আলাদা করে চেনা যাবে না। সেই কারণে নেভিল কার্ডাসে সূত্র মেনে গাধা হয়েই থাকবে স্কোরবোর্ড। স্কোরবোর্ডে তো আর লেখা থাকবে না, সেওয়াগ নামে ঠান্ডা মাথার খুনিটি ব্যাট করার সময় গুনগুন করে গানও গাইতেন। এরকমও শোনা যায়, শেওয়াগ যখন ব্যাট হাতে পাক বোলিংকে দুরমুশ করছেন, তখন পাকিস্তানের উইকেটকিপার কামরান আকমলের অনুরোধ রেখে তিনি যা গান বলছেন, সেটাই গেয়েও শোনাচ্ছেন।
কোন স্কোরবোর্ডে লেখা থাকবে এই ঘটনা?‌


শচীন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly) কিংবা রাহুল দ্রাবিড়দের যুগ যখন একে একে শেষ হচ্ছে পেশাজগতের এক সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার সখেদে বলেছিলেন, ‘‌দেখবি, সাধারণ মানুষ এবার ক্রিকেট থেকে ধীরে ধীরে আগ্রহ হারাবে। কারণ, মহেন্দ্র সিং ধোনি (Mahendra Singh Dhoni) আর বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ছাড়া ভারতীয় ক্রিকেটে আর কোনও ক্যারেক্টারই রইল না।’‌


ক্যারেক্টার!‌ খেলা হোক বা রাজনীতি, সিনেমা হোক কিংবা গান— কোনও ক্ষেত্রকে জনপ্রিয় করে তুলতে গেলে ওই ক্যারেক্টাররাই ভরসা। তা তিনি ভোট কিংবা ম্যাচে জিতুন বা হারুন। গান কিংবা সিনেমা হিট হোক বা ফ্লপ— ক্যারেক্টাররা থাকেন, স্বীয় ক্ষেত্রকে ঝলমলে করে রাখেন। তাঁরা কত রান করছেন, কত ভোটে জিতছেন, সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হল, তাঁদের ক্যারিশমা। ভারতীয় ক্রিকেট থেকে এই ক্যারেক্টাররা সরে যাচ্ছেন তাঁর সবচেয়ে বড় উদাহরণ যে কোনও ‘‌নাইন্টিজ কিড’‌ দিতে পারবেন। আগে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ থাকলে রাস্তাঘাট কার্যত বন্‌ধের চেহারা নিত। সে জিনিস, এখন আর নেই। যেমন নেই বীরেন্দ্র সেওয়াগরা। যাঁরা সটান বলে দিতে পারেন, অঙ্ক পরীক্ষা দিতে আসিনি, ক্রিকেট খেলতে এসেছি। মারা উচিত মনে করলে মারব। তা যদি ক্রিকেটীয় ব্যাকরণের বিরুদ্ধেও যায়, তবু মারব।


কী হতো, যদি সাকলিনকে ছক্কা মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ তুলে দিতেন বীরু?‌ তিনি নাকি সেসব ভাবেনইনি। তাঁর মাথায় খালি ছিল, ভয় পাওয়া চলবে না। উল্টে প্রতিটা ডেলিভারি করার আগে যেন বোলারের হাঁটু কাঁেপ এই ভেবে, ‘‌উইকেটে না লাগুক, এই বল গ্যালারিতে উড়ে না গেলেই বাঁচি।’‌
নেভিল কার্ডাসের সেই স্মরণীয় উক্তি ক্রিকেট–ইতিহাসের যে কোনও প্রথম শ্রেণির ছাত্রও জানেন— ‘‌স্কোরবোর্ড একটা গাধা!‌’‌ আসলে নেভিল যেটা বলতে চেয়েছিলেন, স্কোরবোর্ডে লেখা ৩০৯ রান ক্রিকেটকে একটা মহান খেলা করে তোলে না। যাঁরা আসলেই ক্রিকেটকে মহান করে তোলেন, তাঁরা হলেন ক্রিকেটীয় চরিত্ররা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভিয়ান রিচার্ডস ছিল। ভারতের ছিল শচীন তেন্ডুলকর। রান কিংবা সেঞ্চুরির নিরিখে যদি শচীন ভিভকে টপকে নিজেকে ক্রিকেট ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে থাকেন, তাহলে অকুতোভয় ক্রিকেটের আসনে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তির সার্থক প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন বীরু। যিনি নামে বীরু হলেও আসলে গব্বর সিংয়ের দর্শনে বিশ্বাসী।
‘‌যো ডর গয়া, সমঝো মর গয়া।’‌


বীরেন্দ্র সেওয়াগ ভয় পেতেন না। উল্টে ভয় পাওয়ার নিয়মটাই পাল্টে দিয়েছিলেন। সেওয়াগের দীর্ঘদিনের ক্যাপ্টেন সৌরভ বলেছিলেন, ‘‌প্রথাগতভাবে টেস্ট ওপেনারদের মূল কাজটা হল অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে ঝুঁকি না নিয়ে বারবার ছেড়ে দেওয়া। এভাবে চলতে চলতে বলের পালিশ উঠে যাবে এবং পরবর্তী ব্যাটসম্যানদের পক্ষে ব্যাটিং করা সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু সেওয়াগ মনে করতো, বলের পালিশ যদি তুলে দিতেই হয়, তাহলে বেধড়ক ঠ্যাঙাও। এতে কাজটা তাড়াতাড়ি হবে।’‌
প্রথাগত ক্রিকেটীয় ব্যাকরণ বলবে, এ নিয়ম ভুল। কিন্তু তিনি তো বীরেন্দ্র সেওয়াগ। ভারতীয় ক্রিকেটের সরকার। যিনি প্রতিটা বাউন্ডারি মারার পরে মনে মনে বলে দিতেই পারেন, ‘মুঝে যো সহি লগতা হ্যায়, করতা হুঁ.‌.‌.‌ ওহ চাহে পুরি সিস্টেমকে খিলাফ কিঁউ না হো।’‌
‌বীরেন্দ্র সেওয়াগরা ক্রিকেটের নিপাতনে সিদ্ধ। ওঁদের ব্যাকরণ না মানলেও চলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.