বালিগঞ্জে বাবুল, আসানসোলে শত্রুঘ্ন ! উপনির্বাচনে (West Bengal by election) প্রার্থী ঘোষণায় চমক মমতার

Home রাজ্য বালিগঞ্জে বাবুল, আসানসোলে শত্রুঘ্ন ! উপনির্বাচনে (West Bengal by election) প্রার্থী ঘোষণায় চমক মমতার
বালিগঞ্জে বাবুল, আসানসোলে শত্রুঘ্ন  ! উপনির্বাচনে (West Bengal by election) প্রার্থী ঘোষণায় চমক মমতার

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: আগামী ১২ এপ্রিল উপনির্বাচন (West Bengal by election) হতে চলেছে বালিগঞ্জ (Ballygunge) বিধানসভা কেন্দ্র ও আসানসোল (Asansol) লোকসভা কেন্দ্রে। অন্যান্য দল এই কেন্দ্রগুলিতে প্রার্থী ঘোষণা করার আগেই বড় চমক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সকালেই ট্যুইট করে তিনি জানিয়ে দিলেন, আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে বাবুল সুপ্রিয়র ছেড়ে আসা আসনে তৃণমূল প্রার্থী হচ্ছেন অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা (Shatrughna Sinha) এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর শূন্য বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের (TMC) প্রার্থী হচ্ছেন বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)।

একই দিনে রাজ্যের দুই প্রান্তে লোকসভা ও বিধানসভা উপনির্বাচন (West Bengal by election) অনুষ্ঠিত হওয়া কার্যত বিরল ঘটনা। কিন্তু আগামী ১২ এপ্রিল ঘটতে চলেছে এমন ঘটনাই। শনিবারই নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়। আগামী ১৬ এপ্রিল এই দুই কেন্দ্রের নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, রবিবার সকালে ট্যুইটারে দুই কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা আসলে মমতার ‘মাস্টারস্ট্রোক’। বিজেপি-সিপিআই(এম)-কংগ্রেস সব দলের আগে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা করে তিনি বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, উপনির্বাচনকে (West Bengal by election) হালকাভাবে নিতে চাইছেন না তিনি। বরং এর মাধ্যমে দলের শক্তি আরও একবার পরখ করে নেওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য। কয়েকদিন আগেই রাজ্যের ১০৮টি পুরসভার নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে ১০৩টি পুরসভায় জয়লাভ করেছে তৃণমূল। রাজ্যজুড়ে কার্যত সবুজ ঝড় দেখা গিয়েছে। কিন্তু এই জয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না তৃণমূলনেত্রী। অনেকের মতে, ২০২৪ এ দিল্লির কুর্সি দখলের আগে নিজেদের শক্তি পরখ করে নেওয়ার অন্যতম সুযোগ এই দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন। তাই সর্বশক্তি দিয়ে উপনির্বাচনে (West Bengal by election) জয়ের জন্য লড়াই করতে হবে, কর্মীদের এমন বার্তাই দিয়েছেন মমতা।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছিল, বিজেপির বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ করেন তিনি। খেলাধূলার সঙ্গে রাজনীতির তুলনা করে তিনি জানান, মাঠের বাইরে বসে থাকার খেলোয়াড় নন তিনি। ‘ফার্স্ট ইলেভেন’-এ খেলতে চান, এমনটাই দাবি ছিল বাবুলের। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরই দলের প্রচারে ত্রিপুরা গিয়েছিলেন তিনি। তৃণমূলের নানা দলীয় কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিলেন। অবশেষে বালিগঞ্জ উপনির্বাচনে তাঁকে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজনীতিতে প্রবেশ ‘বম্বে কাঁপানো ভারত নাচানো’ গায়ক বাবুল সু্প্রিয়র। আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হন তিনি। নরেন্দ্র মোদি (তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী) আসানসোলে বিজেপির প্রচারে এসে বলেছিলেন, তিনি বাবুলকে সাংসদ হিসাবে চান। মোদির সেই কথা রেখেছিল আসানসোলবাসী। তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী দোলা সেনকে পরাজিত করে সাংসদ হয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। পেয়েছিলেন মন্ত্রিত্বও। নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় নগরোয়ন্ন ও আবাসন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বগ্রহণ করেন তিনি। ২০১৬ সালে তাঁর দপ্তর পরিবর্তন করা হয়। ভারী শিল্প ও জন উদ্যোগ দফতরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয় বাবুলকে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবারও আসানসোল কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হন তিনি এবং তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেনকে ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৬৩৭ ভোটে পরাজিত করেন। দ্বিতীয়বারের জন্য নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, পরপর দু’বার লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরও পূর্ণমন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ জন্মায় তাঁর। কিন্তু তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ২০২১ সালে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তাঁকে প্রার্থী করে বিজেপি। শোনা যায়, এতে তাঁর মত ছিল না। কিন্তু অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রার্থী করা হয় তাঁকে। ফলাফল ঘোষণা হতে দেখা যায়, ৫০,০৮০ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। জানা যায়, এরপর থেকেই বিজেপির প্রতি তাঁর ক্ষোভ বাড়তে থাকে। মন্ত্রিত্ব ছাড়েন, এমনকি ট্যুইটার ও ফেসবুকে রাজনীতি পর্যন্ত ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন বাবুল সুপ্রিয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সময় থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে বাবুলের। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি।

তৃণমূলে যোগ দিয়েই সাংসদ পদ ছাড়ার জন্য লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দেন বাবুল। কয়েকদিন পর স্পিকারের সম্মতিক্রমে সাংসদ পদ ছাড়েন তিনি। তারপরই আসানসোল লোকসভা সাংসদহীন হয়ে পড়ে। আগামী ১২ এপ্রিল এই কেন্দ্রের প্রার্থীই হচ্ছেন বিখ্যাত বলিউড অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা।কাকতালীয় হলেও রাজ্যের দুই আসনের উপনির্বাচনে লড়াই করা তৃণমূলের দুই প্রার্থীই একসময় বিজেপি করতেন। জাতীয় কংগ্রেস থেকে রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু করা শত্রুঘ্ন সিনহা অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে পাটনাসাহেব কেন্দ্র করে বিজেপির সাংসদ হয়েছিলেন। বাজপেয়ী মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। পরে তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন। এতদিন তিনি তৃণমূলের বিদেশনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শদাতার কাজ করতেন। তবে সক্রিয় রাজনীতি থেকে এতদিন তাঁকে আড়ালে রাখার কারণেই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু আজ তৃণমূলনেত্রী আসানসোল লোকসভা উপনির্বাচনে (West Bengal by election) তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করায় সমস্ত জল্পনারই অবসান ঘটলো।

গত বছরের ৪ নভেম্বর এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু হয় বালিগঞ্জের বিধায়ক তথা রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের। কয়েকদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর হাসপাতালেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে ফাঁকা হয়ে যায় বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কের পদ। এবার এই কেন্দ্র থেকে আসানসোলের প্রাক্তন সাংসদ বাবুলকে প্রার্থী ঘোষণা করলেন মমতা। সব মিলিয়ে, বাকি দলের আগেই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে উপনির্বাচনকে জমজমাট করে দিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তৃণমূল সূত্রে খবর, আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার থেকেই উপনির্বাচনের (West Bengal by election) দু’জন প্রার্থী প্রচার শুরু করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.