বাড়ি আক্রান্ত! প্রতিবাদে ঘোড়ায় চেপে, ডিজে বাজিয়ে বিয়ে করতে যাবেন দলিত বর

Home আজব বাড়ি আক্রান্ত! প্রতিবাদে ঘোড়ায় চেপে, ডিজে বাজিয়ে বিয়ে করতে যাবেন দলিত বর
বাড়ি আক্রান্ত! প্রতিবাদে ঘোড়ায় চেপে, ডিজে বাজিয়ে বিয়ে করতে যাবেন দলিত বর

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। দলিত সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা। কারণ তাঁরা নিজের সম্প্রদায়ের রীতি রেওয়াজ মেনে বিয়ের আয়োজন করেছেন। এর প্রতিবাদে গুজ্জর সম্প্রদায়ের তথাকথিত মাতব্বররা মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলায় এক গ্রামে দলিত পরিবারের বাড়িতে আক্রমণ করে। দমে যাওয়ার পাত্র নন বর। তিনি ঠিক করেছেন নিজের সম্প্রদায়ের রেওয়াজ মেনে ঘোড়ায় চেপে ডিজে বাজিয়ে বিয়ে করতে যাবেন।

শনিবার রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। রাজেশ আহিরওয়ার পুলিস সুপারকে বিষয়টা জানিয়েছেন। তাঁর আবেদন, যাতে পুলিস তাঁদের নিরাপত্তা দেয়। ঘোড়ায় করে বিয়েতে আপত্তি গুজ্জার সম্প্রদায়ের মাতব্বরদের। কে কীভাবে উৎসব পালন করবেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। এক্ষেত্রে কোনও সম্প্রদায় বাধা হতে পারে না। অন্তত গণতান্ত্রিক দেশে সেটা অসম্ভব। আহিরওয়াল বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। তারপর বিয়ের জন্য তৈরি প্যান্ডেল বেঙে ফেলা হয়। অতিথিদের জন্য যে খাবারের আয়োজন করা হয়, তা ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিস সুপার প্রদীপ শর্মা গ্রামে যান। তিনি ৩৮ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির তিনটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।এই ঘটনার পর ওই যুবক জানিয়েছেন, তিনি নিজের সম্প্রদায়ের রেওয়াজ মেনে ঘোড়ায় চেপে বিয়ে করতে যাবেন। কারও চোখরাঙানিতে তিনি পিছু হটবেন না। মধ্যপ্রদেশে মাঝেমধ্যেই এরকম ঘটনা ঘটে। এর আগে জানুয়ারিতেও প্রায় একই ঘটনা ঘটে।ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার ‘মাশুল’ গুনতে হয়েছিল দলিত যুবককে। বাঁশ, লাঠি নিয়ে ওই যুবকের বাড়ি বেপরোয়া ভাঙচুর চালিয়েছে গ্রামের উঁচু জাতের লোকজন। ওই পরিবারের বেশ কয়েকজনকে মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায়। এই রাজ্যে এখনও জাতপাতের সমীকরণটা যে কতটা ভয়ঙ্কর, চোখে আঙুল দিয়ে মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার এই ঘটনা তা আরও একবার দেখিয়ে দিল।

পুলিস জানিয়েছে, উচ্চবর্ণের লোধি ঠাকুর সম্প্রদায় অধ্যুষিত গ্রাম বলে পরিচিত মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার গনিয়ারি গ্রাম। প্রথমবারের মতো এই গ্রামে দলিত সম্প্রদায়ের এক যুবক ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে গিয়েছিলেন। দলিত সম্প্রদায়ের যুবক হয়ে ওই যুবকের ঘোড়ায় চড়ে বিয়েতেই যত ‘আপত্তি’ গ্রামের উচ্চ বর্ণের লোকদের।সাগর জেলা পুলিস প্রশাসন জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই বুন্দা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দাঙ্গার অভিযোগ আনা হয়েছে। আটজনের নামের উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নামহীন আরও ১৫ জনের উল্লেখ রয়েছে সাধারণ ডায়েরিতে। ইতোমধ্যেই এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।অভিযোগ, দিলীপ ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার প্রায় ৫ ঘণ্টা পর তাঁর বাড়িতে হামলা হয়। বাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করেন উচ্চ বর্ণের লোকজন। এমনকি তাঁদের বাড়িতে ঢুকে মারধর করা হয়েছে।বিয়ে করতে যাচ্ছে, তাই শখপূরণ করতে ঘোড়ায় চড়েছিলেন বর। কিন্তু সে যে দলিত, তাই তাঁকে কি আর ঘোড়ায় চড়া মানায়? সমাজের ‘রক্ষাকর্তাদের’ বিধানে তাই ঘোড়া থেকে টেনে নামানো হল বরকে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশে।জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা রাজেশ আহিরওয়ারের বিয়ে ছিল গত ১৫ জুন। বিয়ের রীতি অনুসারেই ঘোড়ায় চড়েছিলেন তিনি। বিয়ের আগে নিজের গ্রাম ছাপারের একটি মন্দিরে যাচ্ছিল রাজেশ ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন। সেই সময়ই তাঁর পথ আটকায় বেশ কয়েকজন। টেনে নামানো হয় তাঁকে। গোটা ঘটনায় ভয় পেয়ে যান সকলেই।এরপর রাজেশের বাবা স্থানীয় থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। শোরগোল পড়ে যায় চারিদিকে। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিস। গ্রেফতার করা হয় চারজনকে।’দলিত হয়ে এত দুঃসাহস!’ মধ্যপ্রদেশে ঘোড়া থেকে টেনে নামানো হয় বরকে।

মধ্যপ্রদেশের ওই ঘটনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। দলিত হয়ে ঘোড়া কেনার ‘অপরাধে’ প্রাণ দিতে হয়েছিল এক যুবককে। বছর দুয়েক আগে ঘটনাটি ঘটেছিল গুজরাতের ভাবনগরের উমরালা তালুকের টিম্বি গ্রামে। প্রদীপ রাঠোর নামে ২১ বছরের ওই তরুণ একটি ঘোড়া কিনেছিলেন। গ্রামের মধ্যে মাঝেমধ্যেই সেই ঘোড়াটি চালাতেন তিনি। এতেই উঁচু জাতের রাজপুত সম্প্রদায়ের কয়েকজন তাঁর ওপর ক্ষেপে যায়। দলিত হয়ে কী করে তিনি ঘোড়া কেনার অধিকার পেলেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। দিনকয়েকের মধ্যেই ধারাল অস্ত্রের আঘাতে মৃত্যু হয় দলিত ওই যুবকের।মধ্যপ্রদেশের ঘটনার মতো একই কাণ্ড ঘটেছিল রাজস্থানের বীকানেরের নাপাসার গ্রামে। ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন দলিত সম্প্রদায়ের বর। আর তাতেই ফুঁসে ওঠেন রাজপুতরা। মেঘওয়াল সম্প্রদায়ের ছেলে হয়ে কী করে ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে যান, রাজপুত সম্প্রদায়ের চটে যাওয়ার বিষয় ছিল মূলত এটাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.