কমলো না আয়করের বোঝা, ভোটের কথা ভেবে বাজেটে গরিবের ছাদ নির্মাণের ঘোষণা নির্মলার

Home দেশের মাটি কমলো না আয়করের বোঝা, ভোটের কথা ভেবে বাজেটে গরিবের ছাদ নির্মাণের ঘোষণা নির্মলার
কমলো না আয়করের বোঝা, ভোটের কথা ভেবে বাজেটে গরিবের ছাদ নির্মাণের ঘোষণা নির্মলার

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: প্রতিবারের মতো এবারও আয়কর কমার আশায় বাজেটের দিকে তাকিয়ে ছিলেন চাকুরিজীবীরা। কিন্তু সে গুড়ে বালি। করের বোঝা কমলো না, তবে স্বস্তি একটাই, রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদ বাড়ল। এতে কতটা চিঁড়ে ভিজল, তা সময়ই বলবে।



বাজেট ঘোষণায় আয়কর রিটার্ন নিয়ে নতুন নিয়ম ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। পরিবর্তন আসছে আইটি রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়মে। আয়কর রিটার্নের সময়সীমা বাড়ল ২ বছর। কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল ব্যাপক। বিশেষ করে চাকুরিজীবীরা প্রত্যাশা করেছিলেন করোনাকালের মধ্যে তাঁদের উপর করের বোঝা কমাতে কিছু পদক্ষেপ নেবে কেন্দ্র। কিন্তু তা নৈব নৈব চ।

আয়কর কাঠামোতে কোনও পরিবর্তন নেই বলে বাজেটে জানিয়ে দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তবে বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য আয়কর কমানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্মলা সীতারমন।

এবারের বাজেট যেমন ডিজিটাল পেশ হল, তেমনই ডিজিটালের প্রতি জোরও দেওয়া হয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে আয়ে ৩০% কর লাগু করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বাজেট বক্তৃতায় বলেন, এখন থেকে জমা দেওয়ার ২ বছর পরেও রিটার্নে বদল করা যাবে। আইটি রিটার্নে কোনও ভুল থাকলে তা ঠিক করে ২ বছরের মধ্যে জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন করদাতারা। ২ বছরের মধ্যে আপডেটেড রিটার্ন ফাইল করা যাবে। এরফলে করদাতাদের রিটার্ন ফাইলের ক্ষেত্রে অনেকখানি সুবিধা হবে।

এদিন নির্মলা সীতারমন বলেন, প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হচ্ছে। কর ব্যবস্থা সরলীকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে। করদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সরল করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, স্টার্টআপ সংস্থাগুলিকে করছাড় দেওয়া হচ্ছে। করছাড় দেওয়া হল সমবায় সংস্থাগুলিকেও। সমবায় সংস্থাগুলির উপর থেকে সারচার্জের বোঝা কমল। কো-অপারেটিভের ক্ষেত্রে সারচার্জ ১২ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশ করা হল। অন্যদিকে কর্পোরেট সংস্থাগুলির সঙ্গে কো-অপারেটিভ সোসাইটির সামনঞ্জস্য বজায় রাখতে সমবায় কর ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

তবে আয়কর কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে। অন্যদিকে অনলাইনে সম্পত্তির কেনাবেচাও এবার করের আওতায় এল। ভার্চুয়াল বা ডিজিটাল সম্পদ বিক্রি ও অধিগ্রহণ থেকে আয়ের উপর ৩০ শতাংশ কর বসছে। সেইসঙ্গে ন্যাশনাল পেনশন স্কিমে করছাড় ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৪ শতাংশ করা হল।

ভোট বড় বালাই। একথা নির্মলা যে ভালোই জানেন, তা তাঁর বাজেটে প্রতিফলিত। সামনে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেদিকেই লক্ষ্য রেখে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আজ, মঙ্গলবার চতুর্থবারের জন্য সংসদে বাজেট পেশ করেন নির্মলা। এবার গরিব মানুষের মাথার ছাদ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। এমনকী নলবাহিত জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

ঠিক কী ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী? এদিন তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ২০২২–২৩ অর্থবর্ষে বাড়ি পাবেন ৮০ লক্ষ পরিবার। তার জন্য রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হবে। ইতিমধ্যেই ৬০ হাজার বাড়ি চিহ্নিত করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে। এছাড়া ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাড়িতে নলবাহিত জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা সব রাজ্যে একইভাবে কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ। অনেকেই বাড়ি পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ। সেখানে এই ঘোষণা কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তবে নির্মলা সীতারামন বলেন, ‘৩ কোটি ৮০ লক্ষ পরিবারকে কলের জল পৌঁছে দিতে ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।’

অন্যদিকে এবার ৮০ লক্ষ পরিবারকে চিহ্নিত করে সহজলভ্য গৃহঋণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ৬০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান করা হবে। আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ছাড়–সহ বিভিন্ন প্রকল্পে বিপুল সাড়া মিলেছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলা। দেশের আর্থিক বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে ‘পিএম গতিশক্তি’ মাস্টার প্ল্যান আনা হচ্ছে। পরিকাঠামো নির্মাণে জোর দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘পিএম গতিশক্তি’ মাস্টার প্ল্যান। ১০০ বছরে ভারত কীরকম হবে তাঁর রূপরেখা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

এছাড়াও নির্মলার বাজেটের উল্লেখযোগ্য ঘোষণা,
‘গ্রিন ক্লিয়ারেন্স’ পোর্টালের পরিধি বাড়ানো হবে। ‘ই-পাসপোর্ট’ ইস্যু করা হবে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে। নগর পরিকল্পনার জন্য উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি তৈরি করা হবে। ২০২২-২৩ এর মধ্যে ৫জি মোবাইল পরিষেবা চালু হবে। ২০২৫-এর মধ্যে সব গ্রামে অপটিক্যাল ফাইবারের পরিকল্পনা। পড়ুয়াদের জন্য করা হবে ওয়ান ক্লাস, ওয়ান চ্যানেলের পরিকল্পনা। এছাড়াও ন্যাশনাল পেনশন স্কিমে সামঞ্জস্য আনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, এমনটাই বাজেটে ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.