বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে তহবিল সংগ্রহে নেমেছিলেন লতাও  

Home দেশের মাটি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে তহবিল সংগ্রহে নেমেছিলেন লতাও  
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে তহবিল সংগ্রহে নেমেছিলেন লতাও  

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণ ছুঁয়ে গেছে বাংলাদেশের মানুষকেও। এদিন যেমন শোকবার্তা পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তেমনই প্রতিবেশীরা স্মরণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় শিল্পীর অবদান।

সালটা ১৯৭১। সবেমাত্র মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে। তার কিছু দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ পৌঁছে দিয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। মুক্তিযুদ্ধের পর নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ভারতের সুর সম্রাজ্ঞী। বিভিন্ন স্থানে সঙ্গীত পরিবেশন করে বাঙালি শরণার্থীদের জন্য তহবিলও সংগ্রহ করেছিলেন কিংবদন্তী গায়িকা। বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তার জন্য অভিনেতা সুনীল দত্তসহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ বিমানে করে বিভিন্ন স্থানে গান গেয়ে বেড়িয়েছিলেন এ দেশের শিল্পীরা। পাশাপাশি গড়ে তুলেছিলেন বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাপী সচেতনতা।

লতা মঙ্গেশকর ১৯৭১ সালে অজন্তা শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর এই বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন। কীভাবে বিভিন্ন স্থানে গান পরিবেশন করতে যেতেন সে কথাও নিজের ট্যুইটারে লেখেন তিনি। ট্যুইটটি করেছিলেন ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর।

তিনি লিখেছিলেন, ‘নমস্কার, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শেষের পরপরই আমরা বাংলাদেশ যাই। সেনাবাহিনীর প্লেনে, সুনীল দত্তের গ্রুপের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে আমরা অনেক জায়গায় অনুষ্ঠান করি।’

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনেও অর্থ সাহায্য করেছিলেন ভারতের শিল্পীরা। সে সময় লতা মঙ্গেশকর ছাড়াও ছিলেন আশা ভোঁশলে, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, কিশোর কুমার, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মহম্মদ রফি, মান্না দে, সলিল চৌধুরীর মতো সঙ্গীত ব্যক্তিত্বরা।

১৯৭২ সালেও একবার ঢাকা যান লতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। একই মঞ্চে পাশাপাশি বসেছিলেন তাঁরা।

লতা মঙ্গেশকর পরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গানও গেয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে চিত্র পরিচালক মমতাজ আলী ‘রক্তাক্ত বাংলা’ নামে মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে একটি ছবি তৈরি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। সেই চলচ্চিত্রে সলিল চৌধুরীর সুরে ‘ও দাদাভাই’ গানটি গেয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। দারুন জনপ্রিয় হয় সেই গান। এটিই বাংলাদেশের ছবিতে গাওয়া লতা মঙ্গেশকরের একমাত্র গান।

কালজয়ী শিল্পীর প্রয়াণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার কার্যালয়ের তরফে একটি শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, এই সুরসম্রাজ্ঞীর মৃত্যুতে উপমহাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো। তিনি আরও উল্লেখ করেন, লতা মঙ্গেশকর তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে চিরদিন এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রসঙ্গত, লতা এবং হাসিনার জন্মদিনের তারিখটি এক। ২৮ সেপ্টেম্বর। যদিও প্রয়াত কিংবদন্তি সুর-সম্রাজ্ঞীর জন্ম হয় ১৯২৯ সালে এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৭ সালে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.