ফেসবুকে বাইশের ভোট প্রচার! লক্ষ লক্ষ টাকার বিজ্ঞাপন, তালিকার শীর্ষে বিজেপি

Home দেশের মাটি ফেসবুকে বাইশের ভোট প্রচার! লক্ষ লক্ষ টাকার বিজ্ঞাপন, তালিকার শীর্ষে বিজেপি
ফেসবুকে বাইশের ভোট প্রচার! লক্ষ লক্ষ টাকার বিজ্ঞাপন, তালিকার শীর্ষে বিজেপি

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: ২০২২-এর ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে , ততই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বাড়ছে তৎপরতা। করোনা পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, গোয়া আর মণিপুরের মতো রাজ্যগুলিতে পথসভা, মিছিলে বিধিনিষেধ থাকায় যুযুধান প্রতিপক্ষরা আরও বেশি করে ঝুঁকছে ডিজিটাল প্রচারের দিকে।

নির্বাচনের জন্য দিন যত এগোচ্ছে, প্রচারের তীব্রতা ততই বাড়ছে রাজনৈতিক দলগুলির। আর এই নির্বাচনী প্রচারের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে বেছে নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। যদিও শুধু করোনাকালের জন্য নয়, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রচারের ঝোঁক তুঙ্গে ওঠে ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচলের প্রাক্কালে। এবারও প্রতিটি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের পিছনে খরচ হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছে সব দলই। ফেসবুক জানিয়েছে, এই বিজ্ঞাপনগুলির অধিকাংশই রাজনৈতিক। বাকিগুলি জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কিত। দেখা যাচ্ছে, এইসব পেজ কমিউনিটি খবর এবং ব্যক্তিগত ব্লগ হিসাবে পরিচিত ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে। প্রকাশ্যে তারা রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কেউই সরাসরি যুক্ত নয়, কিন্তু শুরু থেকে শেষ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের প্রচার, সেখানে রাজনৈতিক দলগুলির মতাদর্শ স্পষ্ট।

ফেসবুকে গত এক মাসে উত্তরপ্রদেশ বিজেপি, কু, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-পঞ্জাব, লড়কি হুঁ লড় সকতি হুঁ এবং মোদি১১ পেজে বিজ্ঞাপনের বহর সর্বাধিক ।

উল্লেখ্য, এই বিজ্ঞাপনের বেশির ভাগটাই বিজেপির। ফেসবুকের অ্যাড লাইব্রেরি রিপোর্ট অনুযায়ী  ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১ থেকে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি বিজেপি উত্তর প্রদেশ পেজ থেকে নির্বাচন, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ইস্যু বাবদ বিজ্ঞাপনী অঙ্কের পরিমাণ ৮৪লক্ষ ৬০হাজার। এরপরই রয়েছে মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম কু-র পেজ। এই পেজে দেওয়া বিজ্ঞাপনের পরিমাণ ৬৬লক্ষ ৮০হাজার টাকা।

ফেসবুকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রকাশে পিছিয়ে নেই কংগ্রেসও। পঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের অফিসায়াল ফেসবুক পেজ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-পঞ্জাব ডিজিটাল প্রচার বাবদ ফেসবুকেই খরচ করেছে প্রায় ৪৫ লক্ষ। আর উত্তরপ্রদেশে নারী ক্ষমতায়নে প্রিয়াঙ্কা গান্ধির স্লোগান লড়কি হুঁ,লড় সকতি হুঁ – স্লোগানকে সামনে রেখে পেজের পাবলিশার আশিস শ্রীবাস্তব পরোক্ষে কংগ্রেস নেত্রীর ব্যাপক প্রচার কর্মসূচির জন্য ইতিমধ্যেই ব্যয় করেছেন ৪৫লক্ষ।

এরপরই রয়েছে ফেসবুকে সর্বাধিক খরচের নিরিখে পঞ্চম স্থানে থাকা পেজ মোদি ১১। যদিও এখানে বিজ্ঞাপনী খরচের পরিমাণ অন্যান্য পেজ তুলনায় অনেকটাই কম, পরিমাণ ১৮ লক্ষ টাকা।

দেখা যাচ্ছে শেষ এক সপ্তাহে প্রচারের তীব্রতা আরও বেড়েছে। মোট অঙ্কের বেশিরভাগটাই এই সময়কালে খরচ হয়েছে। যেমন উত্তরপ্রদেশ বিজেপির খরচের পরিমাণ ২৬ লক্ষ, কু-র প্ল্যাটফর্ম ১৭লক্ষ ৫০হাজার, পঞ্জাব কংগ্রেস ১৫লক্ষ ৪০হাজার ও লড়কি হুঁ,লড় সকতি হুঁ পেজ  ৭ লক্ষ টাকা খরচ করেছে। অনুমান করা হচ্ছে ভোট এগিয়ে আসায় এবার বিজ্ঞাপনের উপরে জোর দেওয়া বাড়াতে চাইছে গেরুয়া শিবির। একই সময়কালে বিজ্ঞাপনী খরচের নিরিখে বিজেপির তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে কংগ্রেস।

সংশ্লিষ্ট সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তরফে নির্বাচনী বা রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা নিয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া জানতে ই-মেল করা হয়। যদিও তার কোনও জবাব প্রতিবেদক পাননি বলেই জানানো হয়েছে।

শুধু এই পাঁচটিই নয়, সরাসরি দলের সঙ্গে যুক্ত না থেকে রাজনৈটিক প্রচার চলছে গোয়েনচি নভি সকাল, হক পঞ্জাব দা, পঞ্জাব বোলদা এবং শেযার চ্যাট পেজ থেকেও। যার মধ্যে গোয়েনচি নভি সকাল, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মসূচি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন স্পষ্ট। গোয়েনচি নভি সকাল এবং সাজ অ্যাডভার্টস যথাক্রমে গোয়েনচি নভি সকাল, হক পঞ্জাব দা এবং পঞ্জাব বোলদা-র তরফে খরচ করলেও শেয়ার চ্যাট পেজে বিজ্ঞাপন রয়েছে কোনও ডিসক্লেমার ছাড়াই।

ফেসবুকের অ্যাড লাইব্রেরির পরিসংখ্যান অনুযায়ী ডিসেম্বর-জানুযারি মিলিয়ে মোট চার সপ্তাহে বিজেপি উত্তর প্রদেশ ৫৫৪, কু ১৬০, পঞ্জাব কংগ্রেসের পেজ ৬৯৩, লড়কি হুঁ লড় সকতি হুঁ ৩৭১ এবং মোদি১১-র ৩০টি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে ফেসবুকে।

ফেসবুক অবশ্য কয়েক বছর আগেই রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে ‘বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ’ রাখার কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। সেখানে প্রতিটি বিজ্ঞাপনের সঙ্গে বিজ্ঞাপনদাতার পরিচয় লিখে দেওয়ার কথা বলে ফেসবুক।

উল্লেখ্য জায়েন্ট সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক(নতুন নাম মেটা)অ্যাড লাইব্রেরি বা প্রচলিত অ্যাড আর্কাইভ প্রকাশ করে। যার লক্ষ্যই হল ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে শেয়ার হওয়া রাজনৈতিক ও অন্যান্য ইস্যু, সেই সংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ফেসবুক লাইব্রেরি আপডেটের কথা জানিয়ে দাবি করে, এতে তাদের প্ল্যাটফর্মে থাকা সব পেজ সম্পর্কে স্বচ্ছতার সঙ্গেই তথ্য পাওয়া আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.