পশুপ্রেমের আখ্যান, রতন টাটার গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে থাকে তাঁর পোষ্য `গোয়া’

Home দেশের মাটি পশুপ্রেমের আখ্যান, রতন টাটার গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে থাকে তাঁর পোষ্য `গোয়া’
পশুপ্রেমের আখ্যান, রতন টাটার গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে থাকে তাঁর পোষ্য `গোয়া’

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রতন টাটা। ভারতীয় শিল্পমহলে সম্ভ্রম, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার উদ্রেক করতে, এই একটি নাম যথেষ্ট! শুধু দেশ নয়, বিদেশের মাটিতেও তাঁর নাম শোনেননি এমন মানুষের সংখ্যা কমই। কিন্তু, অনেকেরই অজানা- টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এমেরিটাস-এর সারমেয় প্রেম। মুম্বইয়ে যেখানে টাটাদের হেডকোয়ার্টার , সেখানে পথকুকুরদের জন্য রতন টাটা তৈরি করেছেন বিশেষ একটি কেনেল। সেই কেনেলেই নিরাপদ আশ্রয় পথকুকুরদের।
বিভিন্ন সময়ে রতন টাটার সঙ্গী হতে দেখা গিয়েছে এই গোয়াকে। শুধু তাই নয় গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের সময়ও এই পোষ্যকে সঙ্গী হিসেবে বিশিষ্ট শিল্পপতির পাশে দেখা গিয়েছে। এই গোয়াকে নিয়েই একটি মজার ঘটনা সম্প্রতি সামনে এসেছে৷ ঘটনাটির বিবরণ দিয়েছেন– করিশ্মা মেহতা। পেশায় যিনি আবার হিউম্যানস অফ বোম্বে-নামক ফটো ব্লগের সিইও। একবার টাটা হেডকোয়ার্টারে গিয়েছিলেন করিশ্মা। সেখানেই প্রথম গোয়াকে দেখতে পান তিনি।
রতন টাটার সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য টাটা হেডকোয়ার্টারে, পৌঁছেছিলেন করিশ্মা মেহতা৷ সাক্ষাৎকার শুরুর আগে তিনি দেখতে পান, টাটা গোষ্ঠীর প্রভাবশালী এই শিল্পপতির পাশের চেয়ারে আরাম করছে এই সারমেয়। যা চাক্ষুষের পর কার্যত কিছুটা অস্বস্তিতেই পড়েছিলেন করিশ্মা। কুকুর-ভীতির কথা রতন টাটার সচিব শান্তনুকে জানান করিশ্মা। যার মারফৎ তার পরবর্তীতে জানতে পারেন খোদ রতন টাটাও। এরপর কী ঘটল?

এদিকে, এই ঘটনায় করিশ্মা অবাক হয়ে জানান, এরপরে ওই কথোপকথনে গোয়া আর আমাদের কাছে আসেনি। আমি এই ঘটনায় অবাক হয়ে যাই। পাশাপাশি, করিশ্মা আরও জানিয়েছেন যে, গোয়াকে দত্তক নিয়েছেন রতন টাটা। শুধু তাই নয়, গোয়া সারাদিন টাটার সঙ্গেই থাকে। এমনকি, গোয়াকে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকেও দেখা যায়। এদিকে, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ফের রতন টাটার প্রশংসা করেছেন নেটিজেনরা।পাশাপাশি, ওই বৈঠকে গত ২৬/১১-র মুম্বাই হামলায় একটি ১০ বছরের মেয়ে যে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল তার কথাও রতন টাটার মনে আছে বলে জানিয়েছেন করিশ্মা। কিন্তু, এখনও সেই মেয়েটি ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় রতন তাকে টাটা ট্রাস্টের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথাও জানিয়েছেন যাতে ওই মেয়েটির কোনো অসুবিধা না হয়।
টাটার গ্রুপের চেয়ারম্যান এমেরিটাস রতন টাটা প্রায়শই প্রাণী, বিশেষত রাস্তার কুকুরের প্রতি তাঁর ভালবাসার পোস্ট করে অনুরোগীদের সঙ্গে শেয়ার করেন। দীপাবলিতে রতন টাটা তাঁর একটি গোয়া নামের কুকুরের সঙ্গে উৎসবে সময় কাটানোর একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন।

ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, বোম্বাই হাউস থেকে দত্তক নেওয়া আমার অফিসের সহযোগী ‘গোয়া’র সঙ্গে কয়েকটি হৃদয়গ্রাহী মুহূর্ত শেয়ার করে নিচ্ছি। মুম্বাইয়ের টাটা গ্রুপের গ্লোবাল হেডকোয়াটার্সে রাস্তার কুকুরসের জন্য একটি ঘরও বানানো হয়েছে। আর এই ‘গোয়া’ টাটার বিশেষ পছন্দের।
মাঝে মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় করা তাঁর বিভিন্ন পোস্ট থেকে টের পাওয়া যায় যে, রতন টাটা পশুদের কতটা ভালবাসেন, খেয়াল রাখেন। কেরলের হাতি মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। জবাব দিতে বাধ্য করেছিলেন সরকারকে। সেই রতন টাটার মানবিক মুখ বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। একটি কুকুরকে দত্তক নেওয়ার আর্জি জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন তিনি। খ্যাতির শিরোনামে থেকেও রতন টাটা কোনওদিন ভোলেননি মাটির টান। তাঁকে সব সময় দেখা গিয়েছে মানুষের পাশে থাকতে। করোনা আবহেও বহু মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর সংস্থা থেকে ছাঁটাই তো করেনইনি, উল্টে পাশে থেকেছেন কর্মীদের। করোনার জন্য হাসপাতাল বানানো, টাকা দিয়ে সাহায্য করা, সব ব্যাপারেই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। রতন টাটা ইনস্টাগ্রামে মাঝে মধ্যে নানা কিছু পোস্ট করেন। তাঁর পশুদের প্রতি ভালোবাসাও চোখে পড়ে। রতন টাটাকে দেখা যায় রাস্তার কুকুরদের দত্তক নিতে। যত্ন করে পুষতে। এমনকী, নিজের অফিসের সামনে তিনি রাস্তার কুকুরদের আদর করতে মাটিতেও বসে পড়েন।

এবার ফের পশুপ্রেমী রতন টাটাকে দেখা গেল। বেশ কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় একটি কুকুরের পিছনের পা ২টি বাদ যায়। স্প্রাইট নামের সেই কুকুরটি প্রায় মারাই যেত। সেই কুকুরকে তুলে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন রতন টাটা। কুকুরটির পিছনের পায়ের জায়গায় লাগিয়ে দেওয়া হয় হুইল চেয়ারের মতো ২টি চাকা। যা পেয়ে আবার ছুটে বেড়াতে শুরু করেছে কুকুরটি। এরপর সেই কুকুরটিকেও দত্তক নেওয়ার জন্যই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন জানান তিনি। আবারও সামনে এল তাঁর সারমেয় প্রেমের কথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.