পরিকাঠামো শিল্প থেকে এশিয়ার শীর্ষ ধনবান! সাফল্য চুম্বন করে গৌতম আদানিকে

Home দেশের মাটি পরিকাঠামো শিল্প থেকে এশিয়ার শীর্ষ ধনবান! সাফল্য চুম্বন করে গৌতম আদানিকে
পরিকাঠামো শিল্প থেকে এশিয়ার শীর্ষ ধনবান! সাফল্য চুম্বন করে গৌতম আদানিকে

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: গৌতম শান্তিলাল আদানি। ৫৯ বছর বয়সী এই ভারতীয় ধনকুবের এখন এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যানের বর্তমানে ধনসম্পদের পরিমাণ ৮৮.৫ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬.৬৪ লক্ষ কোটি টাকা ছুঁই ছুঁই। এই তাক লাগানো সম্পত্তির মালিক হয়ে, ভারত তথা এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তি মুকেশ আম্বানিকেও টপকে গেলেন গৌতম আদানি। ধনীদের তালিকায়, এক ও দুইয়ে রয়েছেন আদানি ও আম্বানি। এর পরের তিনটি নাম হল যথাক্রমে শিব নাদার, রাধাকৃষ্ণন দামানি এবং লক্ষ্মী মিত্তল। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুসারে, ব্যক্তিগতভাবে আদানির সম্পত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে এবারই প্রথম নয়, গতবছর নভেম্বরেও এক বার আম্বানিদের টপকে যায় আদানির পাহাড়প্রমাণ সম্পদ।

ফোর্বস পত্রিকার ‘রিয়েলটাইম ডেটা নেটওয়ার্থ’-এর পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়েছে, আদানির ঐশ্বর্য তাঁকে পাইয়ে দিয়েছে, বিশ্বের ধনকুবেরদের তালিকার একাদশ স্থানটি। সম্প্রতি শেয়ার বাজারে পতন হলেও আদানি গ্রুপের ব্যবসায় তার বিশেষ প্রভাব পড়েনি। যা এই উত্থানের অন্যতম কারণ।

ভারতের শিল্পক্ষেত্রে আদানি গ্রুপের জন্ম গৌতম আদানির হাত ধরেই। তুমুল প্রতিযোগিতার মধ্যেও নিজের তীক্ষ্ণ ব্যবসায়িক বুদ্ধির দৌলতে ‘পরিকাঠামো শিল্পের বাদশা’-র পরিচয়টি আদায় করে নেন তিনি। প্রথম প্রজন্মেই আদানি গ্রুপকে শীর্ষে পৌঁছে দেন শিল্পপতি গৌতম আদানি।

এ হেন উত্থানের গল্পটাও যে বেশ চমকপ্রদ হবে তা বলাই বাহুল্য। গুজরাটের আহমেদাবাদ থেকে মূলত পণ্যসামগ্রীর ব্যবসা দিয়ে যাঁর হাতেখড়ি, সেই মানুষটাই আজ ১৭ হাজারেরও বেশি পরিবারের অন্নের সংস্থান করছেন। ১৯৬২ সালের ২৪ জুন আহমেদাবাদের জৈন পরিবারে জন্ম। তার বাবা শান্তিলাল আদানির ছিল কাপড়ের ব্যবসা। গুজরাট ইউনিভার্সিটিতে কমার্স নিয়ে ভরতি হলেও, দ্বিতীয় বছরে কলেজ ছেড়ে ১৯৭৮ সালে মুম্বই পাড়ি দেন। বাণিজ্যনগরীতে মহেন্দ্র ব্রাদার্সের হীরে বাছাইকারির কাজ নেন। অন্যের মালিকানা ছিল না পসন্দ। তাই  দু-তিন বছর সেখানে কাজ শিখে নিজেই জাভেরি বাজারে, ডায়মন্ড ব্রোকারেজ ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালে তাঁর বড় ভাই মুনসুকভাই আদানি আহমেদাবাদে একটি প্লাস্টিক কারখানা কিনে তার দায়িত্ব তুলে দেন গৌতমের হাতেই। তাঁর জীবনে আসে নতুন মোড় ।

গুজরাতকেন্দ্রীক আদানি গ্রুপ মূলত বন্দর ও সংশ্লিষ্ট শিল্প দিয়ে নিজের পরিচিতি অর্জন করলেও এখন শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শাখাপ্রশাখা ছড়িয়েছে। বিদ্যুৎ,সম্পদ আহরণ, লজিস্টিক্স এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে পা রাখে আদানি গোষ্ঠী। মূল সংস্থা আদানি এন্টারপ্রাইজকে ঘিরে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে আদানি পাওয়ার, আদানি উইলমার, আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস, আদানি গ্রিন এনার্জি, আদানি পোর্ট অ্যান্ড সেজ, আদানি টোটাল গ্যাস, আদানি রোড ট্রান্সপোর্টের মতো ভারতীয় শিল্পক্ষেত্রে সফল কয়েকটি নাম।

২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকেই গৌতম আদানির সম্পত্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে। ১৮ মার্চ ২০২০ সালে আদানির সম্পত্তির মোট মূল্য ছিল ৪.৯১ বিলিয়ন ডলার। যার ২২ মাসের মধ্যে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৮৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেল।

২০২০-র সেপ্টেম্বরে দেশের দ্বিতীয় ব্যস্ততম মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ৭৪ শতাংশ অংশীদারিত্ব হাতে নেন গৌতম আদানি। বিমান বন্দর পরিচালনার যাবতীয় কাজকর্ম দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে, আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস সংস্থা। মুম্বই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড এর প্রধান অর্থ সরবরাহকারী সংস্থা এটিই। এছাড়াও ২০২১ এর জানুয়ারি থেকে আহমেদাবাদ, গুয়াহাটি, জয়পুর, লক্ষ্ণৌ, ম্যাঙ্গালোর, তিরুবনন্তপুরমের মতো ছ’টি শহরে বিমানবন্দর নির্মাণ ও পরিচালনার জন্যে ৫০ বছরের লিজ নিয়েছে এই সংস্থা।

১৯৯৪ সালে গুজরাট সরকার যখন মুন্দ্রা বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি ক্ষেত্রের হাতে তুলে দিতে চাইছিলেন, তখন সেই সুযোগ লুফে নেন গৌতম আদানি। ১৯৯৫ সালে মুন্দ্রা বন্দর পরিচালনার চুক্তি পায় আদানিরাই। বর্তমানে মুদ্রা পোর্ট, দেশের প্রথম বৃহত্তম বেসরকারি বন্দর। যা বাৎসরিক ২১০ মিলিয়ন টন কার্গো ওঠানামানোর ক্ষমতা  রাখে মুন্দ্রা। শুধু দেশেই নয় আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় পা রেখেও নিজের পরিচিতি আদায় করেছেন ভারতীয় শিল্পপতি। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাবট পয়েন্ট পোর্ট আর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কারমাইকেল কয়লা খনি পরিচালনার দায়িত্ব এখন আদানি গ্রুপের হাতেই।

জানা গিয়েছে চলতি মাসেই আদানি গোষ্ঠী ইস্পাত, পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক সুযোগ বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থা ‘পস্কো’র সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। লগ্নির পরিমাণ  প্রায় ৩৭,৫০০ কোটি টাকা।

গুরগাঁওয়ের সারখেজে প্রাসাদোপম বাংলোয় বসবাস দেশের শিল্পসম্রাট গৌতম আদানি। আরও আছে, রাজধানী দিল্লির সবচেয়ে দামী এলাকা লুটিয়েন্স দিল্লিতে রয়েছে ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি।

বহুজাতিক সংস্থার অধিপতি গৌতম আদানির শখ বিলাসবহুল গাড়ি।  বিএমডব্লুউ সেভেন সিরিজ লিমোজিন, রোলস রয়েস, লাল ফেরারি কী নেই!

গাড়ি তো নিমিত্ত মাত্র। গৌতম আদানির রয়েছে একটি ইর্ষণীয় বিমান বহর। যার অন্যতম সম্পদ একটি বিচক্র্যাফট, একটি বম্বার্ডিয়ার, একটি হকার। সম্প্রতি তাতে যোগ হয়েছে ১২ কোটির অগস্টা ওয়েস্টল্যান্ড হেলিকপ্টার।

ঘনিষ্ঠরা বলেন গগনচুম্বী সাফল্যের পর মাটিতে পা রেখেই চলতে পছন্দ করেন তিনি। তাই আদানি গ্রুপ নিজেকে জড়িয়ে রেখেছে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে।  ১৯৯৬ সালে তৈরি আদানি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে, গ্রুপের মোট লভ্যাংশের দুই শতাংশ আজও খরচ করা হয় বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.