পদ্ম ছেড়ে জোড়াফুলে জয়প্রকাশ (Jayprakash Majumdar), পেলেন উচ্চ পদও!

Home রাজ্য পদ্ম ছেড়ে জোড়াফুলে জয়প্রকাশ (Jayprakash Majumdar), পেলেন উচ্চ পদও!
পদ্ম ছেড়ে জোড়াফুলে জয়প্রকাশ (Jayprakash Majumdar), পেলেন উচ্চ পদও!

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক : আভাস দিয়েছিলেন অনেক আগেই। এবার তা সত্যি হলো। বিজেপি (BJP) ছেড়ে তৃণমূলে (TMC) যোগ দিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। আজ নজরুল মঞ্চে আয়োজিত দলীয় সভাতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উপস্থিতিতে সবুজ শিবিরে যোগ দেন তিনি। সেই মঞ্চেই তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন জয়প্রকাশ। এদিন তিনি সঙ্গে করে এনেছিলেন তাঁর ছেলেকেও। তৃনমূলে যোগ দিয়েই পদ প্রাপ্তি হলো তাঁর। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি হলেন জয়প্রকাশ মজুমদার (Jayprakash Majumdar)।

আরও জানতে পড়ুন – UP Election 2022: উত্তরপ্রদেশ যোগীর, পঞ্জাবে আপ, ইন্ডিয়া টুডে-এক্সিস মাই ইন্ডিয়া বুথ ফেরত সমীক্ষা

কিছুদিন আগেই বিজেপির তরফে শো-কজ করা হয় জয়প্রকাশ মজুমদারকে (Jayprakash majumdar)। কিন্তু সেই কারণ দর্শানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দল থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় তাঁকে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি নাকি বিজেপি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। বরখাস্ত হওয়ার পর একাধিকবার সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছিলেন জয়প্রকাশ।

তাঁর বরখাস্ত হওয়া ও দলবিরোধী মন্তব্যের জন্য অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছিল, তবে কী জয়প্রকাশ এবার দল ছেড়ে দেবেন? তিনি কী এবার তবে তৃণমূলে (TMC) যোগ দেবেন? এক সক্ষাৎকারে এই নিয়ে মুখও খোলেন তিনি। সেদিনের এই সাক্ষাৎকারে জয়প্রকাশ প্রথমেই জানান, যে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির দোহাই দিয়ে তাঁকে শো-কজ বা বরখাস্ত করা হয়েছে, সেই শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি রাজ্য বিজেপিতে তৈরিই হয়নি। জয়প্রকাশের সাফ বলেছিলেন পুরনো বিজেপি কর্মী যারা দলের জন্য বহুদিন ধরে পরিশ্রম করছেন, তাদের জন্য তাঁকে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে হবে। জয়প্রকাশের কথায়, বর্তমান রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব চায় দলের পুরনো নেতা-কর্মীদের সরিয়ে তাদের নিজেদের পছন্দের মানুষকে সেই জায়গায় বসাতে। এমনকি, তিনি এও বলেছিলেন, রাজ্য বিজেপি দিলীপ ঘোষের উপরেও অবিচার করেছে। তাঁর প্রাপ্য সম্মান তাঁকে দেওয়া হয়নি। তাহলে বিজেপির পুরনো নেতৃবৃন্দ সৌমিত্র খাঁ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, যারা বিজেপির জন্য রাস্তায় নেমে বারবার আন্দোলন করেছেন, প্রচার করেছেন, তারাই বা আজ কোথায়? জয়প্রকাশের কথায়, তাদের সবাইকে অকেজ করে রাখা হয়েছে। রাজ্য বিজেপি তাদের চুপ করিয়ে রেখেছে।
তাহলে এত কিছুর পর তিনি কী তৃণমূলে যোগ দিচ্ছে? এর জবাবে জয়প্রকাশ বলেছিলেন, “এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনও ভাবনাচিন্তা আসেনি। সেরকম পরিস্থিতি বা পরিসর এখনও আসেনি। এখন বিজেপি কর্মীদের জন্যই কাজ করতে চাই। ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না”। এখানেই শেষ নয়, সেদিন তৃণমূল সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে জয়প্রকাশ (Jayprakash Majumdar) বলেছিলেন যে দল রাজ্যে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছে, বলা যেতে অন্তত ১৫ বছর রাজ্য চালাবে যারা, তারা যে রাজনৈতিক ভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তা বলতে তো কোনও দ্বিধা নেই। নিজের এমন মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে জয়প্রকাশ সম্ভবত মৃদু আভাস দিয়ে রেখেছিলেন যে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তার রয়েছে। তিনিও পরবর্তীকালে দলবদল করতেই পারেন, সেরকম ইঙ্গিতই মিলেছিল তাঁর কথায়। তবে সেইদিন জয়প্রকাশের বলেছিলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের লোকজন তাঁর চেনাজানা বা বন্ধু স্থানীয় হলেও, কারোর থেকে এখনই অন্য দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পাননি তিনি।

প্রসঙ্গত, গতকাল, সোমবারই লকেট চট্টোপাধ্যায় দেখা করেছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদারের (Jayprakash Majumdar) সঙ্গে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সায়ন্তন বসু ও রিতেশ তিওয়ারিও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভবত বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে বৈঠকেই শেষ পেরেকটা পোঁতা হয়। আজ, মঙ্গলবার সকালে হঠাৎই নজরুল মঞ্চের সামনে তৃণমূল নেতাদের পাশে দেখা যায় জয়প্রকাশকে। আর বৈঠক শুরু হওয়ার পরই তাঁর এই হঠাৎ উপস্থিতির কারণ জানা গেল।

গত ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গ বিজেপির সংগঠন তৈরির সময় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বাদ দেওয়া হয় সায়ন্তন বসুকে। বিবাদের শুরু সেই থেকেই। এর পরই দলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে নানান মন্তব্য করেছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। নিজের বিরোধিতার কথা একাধিকবার দলকে বুঝিয়েছিলেন তিনি। কখনও দলের নীতির বিরুদ্ধে টুইট করেছেন তো কখনও আবার নবান্ন-রাজভবনের সংঘাতে রাজ্যের পক্ষে কথা বলেছেন। দলবিরোধী নানান মন্তব্য করায় তাঁকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারও করা হয়। এরপর আরও কড়াভাবে দলকে আক্রমণ করতে শুরু করেছিলেন তিনি।

প্রায় দেড় মাস আগে এক সংবাদমাধ্যমের তরফে জয়প্রকাশকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কি তৃণমূলে যাচ্ছেন’? সেই সময় জয়প্রকাশ বলেছিলেন, ‘দলের নীতি কিছুক্ষেত্রে ঠিক মনে হচ্ছে না। দলের নীতির বিরুদ্ধে মানেই দল ছাড়া নয়’। সেই জল্পনা সত্যি করে দেড় মাসের মধ্যেই ফুল বদল করলেন জয়প্রকাশ মজুমদার (Jayprakash Majumdar)।

এই বিষয়ে বিজেপি (BJP) নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘গতকাল আমি বৈঠক করে অনেকবার ওঁকে দলে থাকার জন্য অনুরোধ করেছি। অনেকবার ওঁকে বলেছি, এই সময় যাবেন না। দলে থাকুন। আমরা সবাই মিলে ওঁকে অনেকবার বোঝাবার চেষ্টা করেছি। তাহলে তারপরেও যদি উনি সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আর কিছু করার নেই। এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমি এটুকুই বলব, বিজেপি একটা পরিবার। সবাইকে এই মুহুর্তে একসাথে থাকতে হবে। সবাইকে শক্ত মনে থাকতে হবে। এই রকম সিদ্ধান্ত যেন কেউ না নেয়।’ প্রসঙ্গত, বিধাননগর পুরসভা নির্বাচনে সব্যসাচী-জয়প্রকাশের কোলাকুলি নিয়ে যথেষ্ট কানাঘুষো হয়েছিল। সদ্য বহিষ্কৃত বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার ও বিজেপি (BJP)ছেড়ে তৃণমূলে আসা সব্যসাচীর এই কোলাকুলি নিছকই সৌজন্য না কোনও রাজনৈতিক আঁতাত তা নিয়ে তর্জা শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। আজ নজরুল মঞ্চে জয়প্রকাশ মজুমদারের (Jayprakash Majumdar) বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান (Jayprakash Majumdar joins TMC) সেই জল্পনাকেই সত্যি বলে প্রমান করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.