নিষেধের ঘেরাটোপ, ভারতে ভ্যাল ডে যাপন কঠিন, প্রমাণ দিচ্ছে নেট বার্তা

Home আজব নিষেধের ঘেরাটোপ, ভারতে ভ্যাল ডে যাপন কঠিন, প্রমাণ দিচ্ছে নেট বার্তা
নিষেধের ঘেরাটোপ, ভারতে ভ্যাল ডে যাপন কঠিন, প্রমাণ দিচ্ছে নেট বার্তা

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: প্রিয়জনকে ভালোবাসার কথা জানাতে ভ্যালেন্টাইন্স ডের বিকল্প হয় না, এমনটা মনে করেন অনেকেই। ভ্যালেন্টাইন্স ডে অর্থাৎ ভালোবাসার দিন। কিন্তু কেবল একটা দিন কেন, একটা গোটা সপ্তাহ ভালোবাসা উদযাপনের রীতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখকেই কেন বেছে নেওয়া হয়েছে ভালোবাসার দিন হিসাবে? বিশেষ এই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। সেকথায় পরে আসব। মোদ্দা কথা হল ভারতে এই ভালোবাসার দিন উদযাপন সহজ নয়। ইন্টারনেটে যে বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে, তার সৌজন্য়ে এমনটাই জানা যায়। লাগামছাড়া যৌনতায় ভারত কোনওদিনই ছাড়পত্র দেয়নি। সঙ্গে রয়েছে বিধিনিষেধের ঘেরাটোপ। তাই তরুণ তুর্কিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভারতে কেন কঠিন, ভ্যাল ডে পালন, দেখে নেওয়া যাক। সৌজন্যে ইন্টারনেট। সেখান থেকে কী উঠে এল দেখা যাক।

১. ভারতের অভিভাবকরা মনে করেন, তাঁরাই সন্তানদের জন্য সঠিক পাত্র পাত্রী নির্বাচন করবেন।
ইন্টারনেটে যে বার্তাগুলি সামনে আসে, তাতে এখনও যে বাবা-মায়েদের মানসিকতা পাল্টায়নি, তার প্রমাণ মেলে। সন্তানরা যৌনতায় লিপ্ত হতে পারে, এটা তাঁরা কষ্ট করেও মানতে চান না। তার ওপর রয়েছে পাত্র পাত্রী নির্বাচন। তাঁরা মনে করেন, তাঁরাই ছেলেমেয়েদের জন্য সঠিক পাত্র পাত্রী নির্বাচন করতে পারেন। একজন অজানা অচেনা লোকের সঙ্গে সারা জীবন কাটানো কেই বাবা মায়েরা যথাযথ মনে করেন।

২. রোম্যান্স বিদেশি, কিন্তু নিষ্ঠুরতা দেশীয়, হাস্যকর!
সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সামনে এসেছে, এক যুক্তিহীন মানসিকতা। প্রেমের জোয়ারে আজ সারা বিশ্ব যখন ভাসছে, তখন এদেশে রোম্যান্সের বাধা খোদ বাবা-মায়েরা। কিন্তু তাঁদের মেয়েরা যখন শ্বশুরবাড়ি গিয়ে নির্যাতনের শিকার হন, সেটা তাঁরা কীভাবে মেনে নেবেন, সেই প্রশ্ন বারবার ওঠে।

৩. কিছু ভারতীয় মনে করেন, ভ্যালেন্টাইন ডে আসলে বিষাক্ত ভাবধারা সমাজে গ্রথিত করার প্রয়াস। তাই এটা তাঁরা মানতে চান না।
স্বঘোষিত গুরু আসারম বাপু বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটা অভিভাবকদের পূজা করার দিন হিসেবে ঘোষণা করা হোক। কারণ তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমে পশ্চিমী সংস্কৃতিকে চ্য়ালেঞ্জ করা যাবে। বলাই বাহুল্য তিনি এখন শ্রীঘরে।

৪. ভ্য়ালেন্টাইন খোঁজা
ভ্যালেন্টাইন ডে কি এই প্রেরনা দেয় না যে, একজন মানুষের সঙ্গে খানিক পথ চলি! উৎসব যেভাবেই উদযাপিত হোক, মোদ্দা কথা হল আজ যেন একবার ভালোবাসার কথা বলতে পারে এ মন।

কথিত আছে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ছিলেন একজন খ্রীস্টান ধর্মযাজক। রোম নগরীতে সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের সময়ে ধর্মপ্রচার করতেন তিনি। সেই সময়ে সম্রাটের ধারণা ছিল সৈনিকদের একমাত্র লক্ষ্য হল রাজার অনুগত থাকা। সেই কারণে রোমান সেনাবাহিনীর সমস্ত সৈনিককে অবিবাহিত রাখা হত। শোনা যায়, গোপনে সৈনিকদের বিবাহের আয়োজন করতেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন । সৈনিকরা একবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়লে তাদের আর যুদ্ধে নিয়ে যাওয়া হত না। ভ্যালেন্টাইনের এই গোপন কাজকর্মের কথা সম্রাটের কানে পৌঁছয়। ভ্যালেন্টাইনকে হাজির করা হয় রাজসভায়। শোনা যায়, সেইসময় তিনি নাকি রাজাকেও খ্রীস্টধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা করেন। এই অপরাধে যাবজ্জীবন কারাবাসের শাস্তি দেওয়া হয় ভ্যালেন্টাইনকে। কিন্তু কারাবাসের থাকাকালীন একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটান ভ্যালেন্টাইন। একজন কারারক্ষীর অন্ধ মেয়ের চিকিৎসা করে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনেন তিনি। এরপর তাঁর সঙ্গেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ভ্যালেন্টাইন। ১৪ ফেব্রুয়ারি ফাঁসির দিন ঘোষণা করা হয় ভ্যালেন্টাইনের। মৃত্যুর আগের রাতে প্রেমিকার উদ্দেশে একটি চিঠি লেখেন তিনি। সেই চিঠির শেষে ‘তোমার ভ্যালেন্টাইন’ কথাটি লেখা ছিল। পরবর্তীকালে পোপ গেলাসিয়াস ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদিনটিকে ভ্যালেন্টাইনস ডে হিসাবে ঘোষণা করা হয়। অবশ্য এই দিনটিতে কার্ড ও উপহার দেওয়ার প্রচলন করে ব্রিটিশরা।
হাজার বিধিনিষেধের মধ্যে সারা দেশে পালিত হচ্ছে ভালোবাসার দিন। এরইমধ্যে হুমকি মধ্যপ্রদেশে। শিবসেনা কর্মীরা হুমকি দিয়েছে যে রাজধানী ভোপালে সোমবার কাউকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে উদযাপন করতে দেখা গেলে তাদের উপর আক্রমণ করা হবে।রবিবার ভোপালের কালিকা শক্তিপীঠ মন্দিরে দলীয় কর্মীদের ‘লাঠি’ পূজা করতে দেখা গেছে। শিবসেনা জানিয়েছে, যদি যুগলকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে উদযাপন করতে দেখা যায়, আমরা তাদের পা ভেঙে দেব।ভালোবাসা দিবসের প্রতিবাদে বিশেষ প্রস্তুতিও নিয়েছেন এই কর্মীরা। তাঁরা বলেছেন যে ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে কোনও যুগলকে একসঙ্গে দেখা গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে তারা “ব্যবস্থা নেবে”।শিবসেনা কর্মীরা জানান, ভ্যালেন্টাইনস ডে পশ্চিমি দেশগুলির উৎসব। তাঁরা বলেছেন, এটি পশ্চিমি সংস্কৃতির প্রতীক, তাই আমরা এর বিরোধিতা করব।শিবসেনা এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির সতর্কতার পরে, পুলিস তাদের সমস্যা সৃষ্টি করা থেকে সতর্ক করেছে। অতিরিক্ত ডিসিপি রাজেশ ভাদৌরিয়া বলেছেন, যাঁরা ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দিন মানুষের হয়রানি করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.