নারী দিবসে (International women’s Day) দুর্দান্ত ডুডল! সব শ্রেণীর নারীকে সম্মান গুগলের

Home অ‘‌সাধারণ’ নারী দিবসে (International women’s Day) দুর্দান্ত ডুডল! সব শ্রেণীর নারীকে সম্মান গুগলের
নারী দিবসে (International women’s Day) দুর্দান্ত ডুডল! সব শ্রেণীর নারীকে সম্মান গুগলের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক : একবিংশ শতকের নারী প্রকৃতই দশভূজা। সমাজে দেবিরূপে বন্দিতা। কখনও মাতৃরূপে অসহায়ের সহায় হয়ে নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠেন তো কখনও মহাকালীরূপে খড়গ হাতে অশুভ শক্তির বিনাশ করেন। একই অঙ্গে নানা রূপে নারী। কিন্তু এই সমাজে আজও ঘটে কন্যা ভ্রুণহত্যার মতো নক্ক্যারজনক ঘটনা। কখনও রাতের অন্ধকারে কোনও এক অসহায় মেয়ের উপর পাশবিক অত্যাচার চালায় কিছু নরপিশাচ। এত প্রতিকুলতার মধ্যেও মহিলারা সমাজে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন প্রতিপদে। আর সেই নারীদের (women) অদম্য সাহস এবং জীবনশক্তিকে বিশেষ সম্মান জানাল গুগল। আজ ডুডলের মাধ্যমে তুলে ধরা হল সমাজের বিভিন্ন ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া আজকের নারীকে।

আরও জানতে পড়ুন- পাত্রীর গায়ের রংয়ের উল্লেখ দেখলেই নাকচ বিয়ের বিজ্ঞাপন! যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল সংবাদপত্র দৈনিক ভাস্কর(Dainik Bhaskar)

আজ ৮মার্চ। বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে নারীদিবস (International Women’s Day)। আর সেই উপলক্ষেই নতুন রূপে সেজে উঠেছে গুগল ডুডল। জনপ্রিয় এই সার্চ ইঞ্জিনে আজ প্রথমেই চোখে পড়বে ভিন্ন পোশাক পরিহিতা মহিলাদের মুখ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিষেশে নারীদের সম্মান দিচ্ছে ডুডল। এরপরই চালু হবে একটি ভিডিও। যেখানে কখনও মায়ের ভূমিকায় তো কখনও গবেষকের ভূমিকায় ধরা দিয়েছে মেয়েরা (women)। নারীরা পারেন না, এমন কোনও কাজ নেই এ সমাজে। বন্য প্রাণীর চিত্রগ্রহন থেকে শুরু করে চাঁদে মহাকাশ যান প্রতিক্ষেত্রেই নারী যেন অনন্যা। সেই বার্তাই যেন আমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে আজকের গুগলের ডুডল। ইলাস্ট্রেশনটি তৈরি করেছেন গুগল ডুডলের কলা নির্দেশক থোকা মিয়ার। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন, একজন নারী যে কাজই করুন না কেন, সেটির স্বীকৃতি পাওয়া উচিত, সেটি যথাযথ সম্মান পাওয়া উচিত। বাড়ির বাইরে তো বটেই, বাড়ির ভিতরও নারীকে প্রতি নিয়ত যে কাজগুলি করতে হয়, তার সম্মান পাওয়া দরকার বলে মনে করেন থোকা মিয়ার।

ডুডল হচ্ছে বিশেষ কোনো দিন বা বিশেষ কোনো ব্যক্তির জন্য সার্চ বক্সের ওপরে নিজেদের লোগো বদলে বিশেষ দিনটির সঙ্গে মানানসই নকশার যে লোগো তৈরি করা হয়। জনসচেতনতা এবং অজানা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুগলের নান্দনিক সব ডুডল বরাবরই নজর কেড়ে আসছে নেটিজেনদের। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বনন্দীত ক্রীড়াবিদের জন্মদিন উপেলক্ষে ভিন্ন সাজে সেজেছে গুগলের ডুডল। গুগল ডুডলের (Google Doodle) পেজটিতে আজ লেখা হয়েছে, ‘আজ আন্তর্জাতিক নারীদিবস (International Women’s Day)। এই বিশেষ দিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নানা ভাষাভাষির নারীদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা, কাজ ও সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা ডুডল। একজন মা থেকে মোটরসাইকেল সারাইকর্মীর ভূমিকাতেও অবতীর্ণ তিনি। কীভাবে পরিবার সামলেও তাঁরা বহির্বিশ্বে অপরিহার্য হয়ে ওঠেন, এই ইলাস্ট্রেশন সে কাহিনিই ব্যক্ত করে।’ তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও নানা উৎসব কিংবা ঐতিহাসিক দিনে বিভিন্ন সাজে সেজে উঠেছে গুগলের ডুডল (Google Doddle)। স্বাধীনতা দিবস কিংবা গান্ধীজয়ন্তী, হোলি-সহ নানা দিনে বদলে ফেলা হয় ডুডলকে। আবার বিখ্যাত কোনও ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানিয়েও একাধিকবার সেজে উঠেছে ডুডল।কতগুলি হাত উপরের দিকে তোলা! এই হাতগুলি যুগে যুগে মেয়েদের জন্য নতুন নতুন সব দরজা খুলে দিয়েছে। মানবসভ্যতার প্রেক্ষিতে চির উদ্ধত ও উদ্যত সেই হাতকে গতবছর অর্থাৎ ২০২১ সালের নারীদিবসে একটি  ভিডিয়ো ডুডলের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছিল গুগল। এই বছরও নারীদিবসে তার ব্যতিক্রম হল না।আজকের দিনের এই বিশেষ ডুডলের এর অর্থ হল আগামী দিনের জন্য নিজেদের আরও প্রকাশ করতে সমর্থ মহিলারা। নিজেদের জন্য, তাঁদের পরিবারের জন্য এবং কোনও কমিউনিটির জন্যও। চলতি বছর রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে যে জানানো হয়, এবছর নারী দিবসের (International Women’s Day) থিম ‘নারী-পুরুষের সমানাধিকার দীর্ঘস্থায়ী হোক।’

নারী শক্তি পুরস্কার :

আন্তর্জাতিক নারী দিবস (International Women’s Day)উপলক্ষে, রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ ২০২০ এবং ২০২১ বছরের জন্য ২৯ জন অসামান্য মহিলাকে নারী শক্তি পুরস্কার প্রদান করবেন। সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি আজ শেষ হবে। এই উপলক্ষে, রাষ্ট্রপতি ভবনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ নারী শক্তি পুরস্কার প্রদান করবেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (International Women’s Day history) :

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাসে ক্লারা জেটকিন (Clara Zetkin) নামটি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯০৮ সালে নারী শ্রমিক আন্দোলনের কারণে নারী দিবস উদযাপনের ঐতিহ্য শুরু হয়। এই দিনে ১৫০০০ মহিলা নিউইয়র্ক সিটিতে কাজের সময় কমানো, ভাল মজুরি এবং কিছু অন্যান্য অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছিলেন। এক বছর পর আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি এই দিনটিকে প্রথম জাতীয় নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯১০ সালে, কোপেনহেগেনে কর্মজীবী ​​নারীদের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং ধীরে ধীরে এই দিনটি সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক নারী দিবস (International Women’s Day) হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৭৫ সালে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস (International Women’s Day) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যখন জাতিসংঘ এটি একটি থিম নিয়ে উদযাপন শুরু করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.