দ্রুততম মহিলা বাইক(superbike) রেসারেরআত্মকথন! ‘অন্য বাচ্চারা যখন সাইকেল চালানো শিখত, তখন ক্লাচ-গিয়ার আমার হাতের মুঠোয়’

Home খেলাধুলো দ্রুততম মহিলা বাইক(superbike) রেসারেরআত্মকথন! ‘অন্য বাচ্চারা যখন সাইকেল চালানো শিখত, তখন ক্লাচ-গিয়ার আমার হাতের মুঠোয়’
দ্রুততম মহিলা বাইক(superbike) রেসারেরআত্মকথন! ‘অন্য বাচ্চারা যখন সাইকেল চালানো শিখত, তখন ক্লাচ-গিয়ার আমার হাতের মুঠোয়’

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক:  দেশের খুব কম সংখ্যক মানুষই নাম জানে মেয়েটির। নামে অচেনা হলেও, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অন্য কাহিনী। সে প্রমাণ করেছে সুযোগ পেলে মেয়েরা পুরুষদের একচ্ছত্র আধিপত্যে ভাগ বসাতে পারে অনায়াস সাফল্যে। হ্যাঁ বাইকের(superbike) পিঠে চেপে সে যেমন ক্রসকান্ট্রি থেকে দুর্গম পাহাড়ি পথে দাপিয়ে বেড়াতে পারে, তেমনই আবার রেসিং(Racing) ট্র্যাকে পুরুষ প্রতিযোগীদের মুখে ঝামা ঘষে দেওয়ার যোগ্যতাও রাখে। মেয়েটির নাম কল্যাণী পোটেকর। জীবনের বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজ সে দেশের গর্ব। ভারতের দ্রুততম মহিলা মোটরসাইকেল রেসারের(Female Biker) তকমা এখন ২৮ বছরের কল্যাণীর হাতের মুঠোয়।

কল্যাণীকে গতির নেশা ধরিয়েছিলেন বাবা। তিনি ছিলেন একজন মোটোক্রস রেসার। তখন থেকেই জীবনের সব কিছুতেই গতি বজায় রাখতে ভালবাসে কল্যাণী। শুধুই বাবাই নয়, তার পরিবারের অনেকেই অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের সঙ্গে জড়িয়ে। তাই ছোট থেকেই মেয়েকে হর্স রাইডিং, প্যারাগ্লাইডিং, স্কিং, মাউন্টেনিয়ারিং সবেতেই দক্ষ করে তোলা হয়েছিল। এমন একটি পরিবারের মেয়েকও অবশ্য লিঙ্গ বৈষম্যের কারণ হতে হয়েছিল। সব স্পোর্টসে দখল নিলেও, বাইক রেসিং(superbike) এর অনুপ্রেরণা আসে বাবার থেকেই।  দু চাকায় ভর করে এই ছুটে বেড়ানোর নেশা রপ্ত করে কল্যাণী ছোট থেকেই। বাবা তাঁকে নিয়ে যেতেন ট্র্যাকে আর সেখান থেকেই ধীরে ধীরে বাইকের প্রেমে পড়া। কল্যাণীর কথায় মোটরসাইকেল, রেসিং(Racing) ট্র্যাক আর দ্রুত গতিতে ছুটে চলা- সবকিছুই যেন তাকে প্রচণ্ড নেশার মতো টানতে থাকে।  

কল্যাণী কথায় কথায় জানিয়েছিল, যে ৯ বছর বয়সে অন্য বাচ্চারা যখন, সাইকেল চালাতে শেখে, সেই বয়সেই কল্যাণী কিন্তু বাবার আরএক্স হান্ড্রেড বাইক(superbike) চালানো শেখা শুরু করে। তখন তার পায়ের পাতার সঙ্গে মাটির যোজনখানেক দূরত্ব। তখন থেকেই বাবা মেয়ের পেছনে বসে, গিয়ার থেকে ক্লাচ, সবকিছু ব্যবহারে নিপুণ করে তুলেছিলেন। আর বাবার সঙ্গেই বাইকে বসতে বসতে দু’ চাকার গাড়িটি হয়ে উঠেছিল তার ধ্যানজ্ঞান। জীবনের সব আনন্দ যেন এর মধ্যেই খুঁজে পেত মেয়েটি। তাই উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর প্রথম নিজের বাইক হাতে পায় কল্যাণী।

কিন্তু কখনও বাইক রেসিংকে(biking)পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা কল্যাণী কিন্তু ভেবে ওঠেনি। কিন্তু মনের সঙ্গে ক্রমাগত একটা লুকোচুরি চলছিল। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া গেল। কল্যাণী বুঝে গেল, তার একমাত্র অবলম্বন, তার জীবনের একমাত্র ভালোবাসা মোটরবাইকই(superbike)। তারপর আর পিছনে ফিরে দেখা নয়। এবার শুধুই হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলা। কল্যাণীর কথায়, সে যত বড় হতে থাকে, ততই বুঝতে পারে এই বাইক রেসিং এমন কিছু, যা সে জীবনে আঁকড়ে ধরতে চায়। তারপরই শুরু হয় প্রশিক্ষণ। মোটরবাইক রেসিংকে পেশায় পরিণত করার দরজা খুলেতে শুরু করে। ততদিনে পেশা হিসেবে মোটর বাইক রেসিংকে সম্মান জানাতে শুরু করেছে সে নিজেই।

২০১৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়া সুপারবাইক(Superbike School) স্কুলে প্রশিক্ষণের পরই ইন্ডিয়ান ন্যাশানল রেসিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়। থাইল্যান্ড এবং তাইওয়ানে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্বও(Female Biker) করে। এরপর তার জন্য অপেক্ষায় ছিল সেরার স্বীকৃতি। গতবছর মাত্র ২৭ বছর বয়সে, বুদ্ধা ইন্টারন্যাশানল সার্কিটে ২.০৮ সময়ে রেসিং শেষ করে দ্রুততম মহিলা মোটরবাইক (Female Biker) রেসার হিসেবে রেকর্ড গড়ে। ঠিক তার দু মাস পর একই ট্র্যাকে ২.০৫ সময়ে রেস শেষ করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙে দেয়। ফেডারেশন অফ মোটরস্পোর্টস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার মোটর স্পোর্টস বিভাগে অসামান্য এক মহিলার রেসারের স্বীকৃতি পান কল্যাণী।

তবে দেশের দ্রুততম মহিলা বাইক রেসারের((Female Biker) আক্ষেপ অন্য এক জায়গায়। নিজের কেরিয়ার গড়তে পরিবারের পূর্ণ সমর্থন পেলেও, কিন্তু আশপাশে এখনো তাকে বহু সমালোচনা আর বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কারন সমাজের একটা বড় অংশ এখনো মনে করে বাইকের উপর বসার অধিকার একমাত্র পুরুষদের। মহিলাদের সেখানে মানায় না আর সেই যোগ্যতা মহিলারা অর্জন করে উঠতে পারেনি। এমনকী এখনও রেসিং ট্র্যাকে এক মহিলা প্রতিযোগীকে দেখে অনেকেই ছুড়ে দেন আলটপকা মন্তব্য। সেসব গায়ে না মাখলেও নিজের পাশের পুরুষ প্রতিযোগীটি যখন কটাক্ষ করেন তখন খারাপ লাগে বৈকি!

একবার রেসে কল্যাণীর অংশগ্রহণের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারই এক পুরুষ প্রতিযোগী। আর এই অক্ষমতার অজুহাতকে ঢাল করে একটি বিশেষ ব্র্যান্ডের মোটরবাইক(superbike) দেওয়ার ক্ষে্ত্রেও আপত্তি তোলা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল সেই বাইকটা চালানোর(biking) যোগ্যতা বা দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি কল্যাণী কারণ তার পায়ের পাতা মাটি ছুঁতে পারেনি। সেই অপমান হজম করে মনে মনে নিজেকে তৈরি করছিলেন মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। সেদিন ভাগ্য তার সহায় হয়। যে পুরুষ প্রতিযোগী কল্যাণীকে অপমান করেন, সেই মানুষটিই রেস শেষে তার সঙ্গে সেলফি তুলতে এগিয়ে আসেন।

শুধু একজন পুরুষ কেন? একজন মহিলাও কল্যাণীকে একদিন প্রশ্ন করে বসে, এত পেট্রোল খরচ করে তুমি কি পাও? বরং চাকরি করে তুমি কিছু টাকা উপার্জন কর। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়েরও হাত থেকেও রেহাই মেলেনি তার। তবে কল্যাণী এখন আর এসব গায়ে মাখে না। তার কথায়, ‘আমার একটাই ফান্ডা, সকলের মন্তব্য চুপচাপ শুনে যাও, আর সে সবের তোয়াক্কা না করে, নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাও!’  

Leave a Reply

Your email address will not be published.