দোহাই! হিজাব, (Hijab) গেরুয়া বসন নিয়ে লড়াই করবেন না, ধসে (Avalanche) মৃত্যুর আগে সেনার বার্তা

Home দেশের মাটি দোহাই! হিজাব, (Hijab) গেরুয়া বসন নিয়ে লড়াই করবেন না, ধসে (Avalanche) মৃত্যুর আগে সেনার বার্তা
দোহাই! হিজাব, (Hijab) গেরুয়া বসন নিয়ে লড়াই করবেন না, ধসে (Avalanche) মৃত্যুর আগে সেনার বার্তা

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: হিজাব (hijab) নিয়ে উত্তাল সারা দেশ। কর্নাটক থেকে হিজাব ও গেরুয়া বসনের লড়াই পৌঁছে গেছে দেশের নানা প্রান্তে। ধসের কবলে মৃত্যুর আগে এক সেনা (army) অডিও বার্তা দেন, বলা হয়, দোহাই, আপনারা হিজাব ও গেরুয়া বসন নিয়ে নিজেদের মধ্যে লড়াই করবেন না। দেবইয়ানি মাদালিক এর আবেদন, এটা জনগনকে আহত করে যে কিছু মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে লড়াই করছেন। তাঁদের লড়াই হিজাব আর গেরুয়া বসন নিয়ে। সীমান্তে দাঁড়িয়ে তাঁরা দেশকে রক্ষা করছেন। সারা বিশ্ব নানা সমস্যায় জর্জরিত। এর মধ্যে সামান্য হিজাব পরা নিয়ে এত কোন্দল! অবাক পৃথিবী!

কর্নাটকে (karnatak) হিজাব বিতর্ক এখনও চলছে। জল গড়িয়েছে আদালতে। ক্লাসরুমে হিজাব না পরার পক্ষে কর্নাটক হাইকোর্টে সওয়াল করল সরকার। ইসলামে (islam) হিজাব অপরিহার্য অঙ্গ নয়। হাইকোর্টে এমনটাই সওয়াল করেছিল কর্নাটক সরকার। আরও একধাপ এগিয়ে সরকার আদালতে জানায়, স্কুল-কলেজ ক্যাম্পাসে হিজাব একেবারেই নিষিদ্ধ নয়। হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে একমাত্র ক্লাসরুমে এবং তা ক্লাস চলাকালীন।

কর্নাটকের প্রধান বিচারপতি রীতু রাজ আবস্তি, বিচারপতি জে এম খাজি ও বিচারপতি কৃষ্ণ এম দীক্ষিতের বেঞ্চে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রভুলিঙ্গ নাভাদগি বলেন, সংবিধানের (constitution) ১৯ নম্বর ধারায় হিজাব পরায় যে ছাড় দেওয়া হয়েছে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে ১৯ এর ২ ধারায়। আইন অনুযায়ী এনিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

অ্যাডভোকেট জেনারেল আরও বলেন, কর্নাটক সরকারের শিক্ষা আইনের প্রস্তাবনায় রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটা ধর্মনিরপেক্ষ চেহারা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তবে স্কুল ড্রেস একেবারে যুক্তিনির্ভর হওয়া উচিত। হিজাব পরে ক্যাম্পাসে আসায় কোনও বাধা নেই। হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে একমাত্র ক্লাস চলাকালীন। এটা সব ধর্মের পড়ুয়াদের জন্য সমান প্রযোজ্য। ফ্রান্সের মতো দেশেও প্রকাশ্যে হিজাব নিষিদ্ধ।

কর্নাটকের পড়ুয়ারা জানিয়েছিলেন যে তাঁরা ক্লাসে হিজাব পরে ঢুকতে চান। কিন্তু তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। কলেজ ক্যাম্পাসে হিজাব পরার কোনোও নিষেধাজ্ঞা নেই তবে ক্লাস রুমে কিন্তু হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। এমনটাই জানিয়েছে কর্নাটক সরকার। হিজাব বিতর্ক নিয়ে অনেক দেশই সরব হয়েছে। বাদ যায়নি পাকিস্তানও।

সংবিধানের ১৯ (২) ধারার অধীনে হিজাব পরার অধিকার আছে। পড়ুয়ারা চাইছেন ধর্মীয় রীতি মেনেই হিজাবকে একটি পোশাকের অনুমোদন দেওয়া হোক। এমনটাই বললেন প্রধান বিচারপতি ঋতু রাজ অবস্থি, বিচারপতি কৃষ্ণ এস দীক্ষিত ও জেএম খাজির বেঞ্চকে অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রভুলিঙ্গ নাভাদগি।

হিজাব-বিতর্কে এবার নয়া মোড়।  কর্নাটকের ছাত্রী ভিভি মুসকানের পাশে দাঁড়াল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)। সংগঠনের মুসলিম শাখার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, পর্দা ভারতীয় সংস্কৃতির অঙ্গ। আরএসএসের মুসলিম শাখা, মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ হিজাব পরা নিয়ে মুসকানের আর্জিকেই সমর্থন জানিয়েছে। তাঁকে ঘিরে গেরুয়াধারীদের বিক্ষোভের  নিন্দা করেছে মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ।

উত্তরপ্রদেশের অবধ প্রান্ত সঞ্চালক অনিল সিংহ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, মুসকান আমাদের সম্প্রদায়ের মেয়ে  ও বোন। এই সংকটের সময়ে আমরা তার পাশে রয়েছি।

মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ তাদের বয়ানে বলেছে, হিন্দু সংস্কৃতি মহিলাদের সম্মান করতে শেখায়।  আর তাঁকে ঘিরে যাঁরা জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়েছেন, তাঁকে সন্ত্রস্ত করে তুলতে চেয়েছেন, তাঁরা ভুল করেছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মহিলাদের হিজাব পরার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। ওই তরুণী যদি ক্যাম্পাসে পোশাক বিধি লঙ্ঘন করে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু গলায় গেরুয়া উত্তরীয় ঝুলিয়ে জয় শ্রী রাম স্লোগান তোলার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা হিন্দু সংস্কৃতির বদনাম করেছেন।

অনিল সিংহ বলেছেন, হিজাব বা পর্দা ভারতীয় সংস্কৃতিক অঙ্গ। হিন্দু মহিলারা নিজদের পছন্দ অনুযায়ী পর্দা পরেন। আর এই শর্ত মুসকানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সিংহ আরও বলেছেন, আমাদের সরসংঘচালক বলেছেন, মুসলিমরা আমাদের ভাই আর দুই সম্প্রদায়ের ডিএনএ একই। আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের মুসলিমদের ভাই হিসেবে স্বীকার  করার আর্জি জানাচ্ছি।

এদিকে, হিজাব বিতর্কের রেশ এসে পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টের। প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল বৃহস্পতিবার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে তোলেন। তিনি বলেন, ২ মাস পর পরীক্ষা। কিন্তু মেয়েদের স্কুলে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাদের ওপর পাথর ছোড়া হচ্ছে। সিব্বল বলেন, এটাও ধর্মীয় মামলায় মতোই, যা নিয়ে ৯ বিচারপতির বেঞ্চ শুনানি করেছিল। উল্লেখ্য, শবরীমালা মন্দির বিতর্কের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির বেঞ্চে হয়েছিল। সিব্বলের আর্জির ব্যাপারে প্রধান বিচারপতি বলেন,  কর্ণাটক হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ মামলার শুনানি করছে। আপাতত সেখানেই শুনানি হোক।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.