উল্টোডাঙায় দুয়ারে হাজির জীবন্ত সরস্বতী! চোখ কপালে

Home রাজ্য উল্টোডাঙায় দুয়ারে হাজির জীবন্ত সরস্বতী! চোখ কপালে
উল্টোডাঙায় দুয়ারে হাজির জীবন্ত সরস্বতী! চোখ কপালে

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: গতকাল ৩রা ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যে অষ্টম-দ্বাদশ শ্রেণী এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় গুলিকে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনি স্কুলমুখী হতে পারছে না প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা। তাদের জন্য আগামী সোমবার অর্থাৎ ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে পাড়ায় শিক্ষালয়ের আয়োজন করা হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় শিক্ষক-শিক্ষিকারা গিয়ে নিজেদের দায়িত্বে পঠন-পাঠন শুরু করবেন। কিন্তু তাঁর জন্য এসে উপস্থিত হতে হবে ছাত্র-ছাত্রীদের। আর ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এই বিষয়ে উৎসাহিত করতে এক অভিনব পদক্ষেপ দেখা গেল উল্টোডাঙার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে।

খুদে পড়ুয়াদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে অভিনব উদ্যোগ কাউন্সিলরের। ‘খুদে সরস্বতী’ নিয়েই পড়ুয়াদের বাড়ি-বাড়ি ঘুরলেন এলাকার কাউন্সিলর। ‘খুদে সরস্বতী’র হাত থেকে পেন-খাতা-পেন্সিল উপহার পেয়ে বেজায় খুশি খুদের দল।

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আসতেই স্কুল, কলেজ খোলার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত ৩১ জানুয়ারি স্কুল, কলেজ খোলার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো বৃহস্পতিবার থেকেই খুলে গিয়েছে স্কুল, কলেজ-সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

তবে স্কুলের ক্ষেত্রে আপাতত অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস শুরু হয়েছে। বাকি ক্লাসগুলির পড়াশোনা এখনও চালু হয়নি। তাদের স্বার্থেই এবার ‘পাড়ায় পাড়ায় শিক্ষালয়’ প্রকল্প চালু করছে চলেছে রাজ্য সরকার। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হচ্ছে রাজ্য সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ।

তার আগে এক অভিনব উদ্যোগ কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipality) ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরের। কাউন্সিলর অমল চক্রবর্তী বিধাননগরের এই এলাকার এক খুদে কন্যাকে ‘বিদ্যার দেবী’-র আদলে সাজিয়েছেন। সেই শিশুকন্যাকে বাগদেবীর সাজে সাজিয়ে এলাকার খুদে পড়ুয়াদের বাড়ি-বাড়ি ঘুরছেন কাউন্সিলর অমল চক্রবর্তী।

বই, খাতা, পেন, পেন্সিল নিয়ে দুয়ারে হাজির এ যেন ‘জীবন্ত সরস্বতী’। এলাকার খুদে ছাত্রছাত্রীদের ‘পাড়ায় পাড়ায় শিক্ষালয়’ উদ্যোগে সামিল করতেই তাঁর এই তৎপরতা, এমনই জানিয়েছেন কলকাতা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর  (Councillor of 14 no. Ward) অমল চক্রবর্তী। উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে ফের খুলেছে রাজ্যের স্কুল, কলেজ-সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য বিধি চালু হয়েছে স্কুল, কলেজ।
শুরু হয়েছে অফলাইন পঠনপাঠন। তবে তার পরেই এসে পড়েছে সরস্বতী পুজো। তাই সরস্বতী দেব্বৌ নমঃ—বলতে উদ্যোগ নিতে চায় স্কুলের পড়ুয়ারা। তাতে সম্মতি দিয়েছেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে একদিকে স্কুল খোলার প্রস্তুতি, অন্যদিকে সরস্বতী পুজো করার প্রস্তুতিও তুঙ্গে উঠেছে।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, এখন অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অফলাইন (Offline) পঠনপাঠন চলবে। পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণির জন্য ‘পাড়ায় পাড়ায় শিক্ষালয়’ হবে। তবে সরস্বতী পুজোর আগে আবার স্কুল খোলায় খুশি পড়ুয়ারা। স্কুল খোলার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘আগামী ৪–৫ তারিখে সরস্বতী পুজোর ছুটি দেওয়া রয়েছে। ৩ তারিখ স্কুল খুললে ছেলেমেয়েরা সরস্বতী পুজো করতে পারবে।’

এখন শহর থেকে জেলায় স্কুল খোলার প্রস্তুতি এবং সরস্বতী পুজো নিয়ে মেতে উঠেছে পড়ুয়ারা। বেশ কয়েকজন শিক্ষক–শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন, স্কুলে পুজোর প্রস্তুতি চলছে। ছাত্ররা পুজো নিয়ে মেতে উঠবে এটা দেখতেও আনন্দ লাগে। কতদিন পর সবাই এক হয়ে যাবো। বাঁশবেড়িয়া (Banshberia) স্কুলের এক শিক্ষিকা জানান, এটা একটা নির্মল আনন্দ। শিক্ষক–ছাত্রছাত্রীরা এক হতে পারবে সেটা সত্যিই আনন্দের বিষয়।’

উল্লেখ্য, ‘পাড়ায় সমাধান’ এবং ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। এবার স্কুল খুলে গেলে তাতে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এই কর্মসূচি চলে স্কুল চত্বরে। শহরে তা হয় না। সর্বত্রই এমন হয় না। এই ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির চলবে ১৫ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি। এই সব মিলিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।
তবে এখন পড়ুয়ারা মনে করছেন, আগে বাণীবন্দনা হোক। অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত আরও আগে নেওয়া হলে এই আয়োজন ভালোভাবে করা যেত। এখনো করা যাবে তবে নম নম করে। এতকিছুর পরও এখন একটাই আনন্দের বিষয়, ছাত্রছাত্রী–শিক্ষক–শিক্ষিকা দেখা হবে। এই পুজো আবার সবাইকে আনন্দ দেবে। অনেক হয়েছে। একটা ভাইরাস সব ছারখার করে দিয়েছে। অনেকদিন পর আবার সরস্বতী বন্দনা ঘিরে পড়ুয়াদের মেতে ওঠার পালা। আজ থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। পড়ুয়াদের সঙ্গে মেতে উঠেছেন শিক্ষকরাও। সবমিলিয়ে বঙ্গে আবার উৎসবের মেজাজ। আর এই সুযোগে নিজের এলাকায় জনসংযোগ সেরে নিলেন কাউন্সিলর। ঘরে ঘরে পৌঁছে গেলেন তাঁর খুদে সরস্বতী। বাচ্চাদের তুলে দিলেন খাতা পেন্সিল। সবমিলিয়ে বাতাসে আবার ফিরে আসছে উৎসবের গন্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.