সদবির হংকং শাখায় নিলাম হতে চলেছে দুষ্প্রাপ্য নীল হিরা, দাম চমকে দিতে পারে

Home বিদেশ-বিভূঁই সদবির হংকং শাখায় নিলাম হতে চলেছে দুষ্প্রাপ্য নীল হিরা, দাম চমকে দিতে পারে
সদবির হংকং শাখায় নিলাম হতে চলেছে দুষ্প্রাপ্য নীল হিরা, দাম চমকে দিতে পারে

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক:  ব্লু ডায়মন্ড। বিশ্ববিখ্যাত নিলামঘর সদবির হংকংয়ের শাখায় আগামী এপ্রিলেই নিলামে উঠতে চলেছে এমনই একটি দুষ্প্রাপ্য রত্ন। নিলামঘর সূত্রে জানা গিয়েছে, এটি সবচেয়ে বড় আকারের ব্লু ডায়মন্ড। ফলে দামও উঠবে রেকর্ড ভেঙে, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মনে করা হচ্ছে হিরেটির দাম উঠতে পারে ৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। হিরেটি ১৫ ক্যারেটেরও বেশি। জি বিয়ার কালিনান ব্লু ডায়মন্ড (de beers cullinan blue diamond) খনি থেকে তোলা হয়েছিল গত বছরেই। দক্ষিণ আফ্রিকার কালিয়ান খনি থেকে পাওয়া গিয়েছিল এই দুষ্প্রাপ্য হিরেটি। খনির নাম অনুসারেই হিরেটিরও নামকরণ করা হয়েছে। বিশ্বের সামান্য কিছু হিরের খনি থেকেই দুষ্প্রাপ্য ও মহার্ঘ্য কিছু হীরে পাওয়া যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার কালিনান খনি সেগুলির মধ্যেই একটি। সদবির সিনিয়ন ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সেলস ডিরেক্টর ফর জুয়েলারি ফ্র্যাঙ্ক এভারেট জানিয়েছেন, এই বিশেষ হিরেটি সবদিক থেকেই অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, ‘আকার ও আয়তনের কারণেই এটি দুষ্প্রাপ্য। ১৫ ক্যারেটেরও বেশি হিরেটি। নীল রঙের হিরে। কোনওরকম খুঁত নেই হিরেটিতে। এর কাটও অত্যন্ত ভাল।’ নিলামের সময়ে বিশ্বজুড়ে হীরেটির প্রতি প্রবল উৎসাহ দেখা যাবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন ফ্র্যাঙ্ক এভারেট। তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে রত্নের বাজার অত্যন্ত ভাল। গত কয়েকবছর ধরে বাজার ভালই যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ রয়েছে রঙিন হিরে নিয়ে। নীল রঙ হলে আগ্রহ আরও বেড়ে যায়’।

কিন্তু নীল রঙের হিরে এত দামি কেন হয়? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নীল রঙের হীরে অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য। হিরেতে কীভাবে নীল রং আসে তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রত্ন বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট ধারনা ছিল না। পরে দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়, বোরন নামের একটি বিশেষ মৌলের উপস্থিতির কারণে এই রং পায় কোনও হিরে। যা তৈরি হতে কয়েক মিলিয়ন বছর লাগতে পারে। সদবিতে এর আগেও বহু দুর্মূল্য রত্ন নিলাম হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গোলাপি বেগুনি হিরে। সালটা ২০২০। সদবি নিলাম ঘরে সেটিও বিক্রি হয় চড়া দামে। বলা ভালো আকাশ ছোঁয়া দাম, যার জেরে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।

গোলাপি হিরে। ভেতর থেকে বেগুনি আলো ঠিকরোচ্ছে। রাশিয়ার খনি থেকে পাওয়া যায় এই অত্যন্ত দুর্মূল্য হিরে। সদবি নিলাম ঘর এর বর্ণনা করেছিল প্রকৃতির অসামান্য বিস্ময় বলে। ২৬.৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁয় বিক্রি এই হিরেটি বিক্রি হয় বলে সদবি জানিয়েছে। ডিমের মতো এই নিখুঁত হিরের নাম দ্য স্পিরিট অফ দ্য রোজ। ১৯১১ সালে রুশেস ব্যালের প্রবাদপ্রতিম নৃত্যশিল্পী ভাসলাভ নিজিনস্কি যে ব্যালে নাচ পারফর্ম করেন, তার নামে রাখা হয়েছে এর নাম। এর ওজন ১৪.৮৩ ক্যারাট, এই রঙের এত বড় হিরে এই প্রথম পাওয়া যায়। জেনেভার নিলামে এর দাম ওঠার কথা ছিল ২৩ থেকে ৩৮ মিলিয়ন ডলার। দর শুরু হয় ১৬ মিলিয়ন ডলার থেকে, শেষ হাতুড়ি পড়ে ২১ মিলিয়ন ডলার এবং কমিশনে। এটি টেলিফোনে দর দিয়ে কিনেছেন একজন, যিনি নিজের নাম প্রকাশ করেননি। নিলাম পরিচালনা করেন অলঙ্কার বিশেষজ্ঞ বেনঁ রেপেলিঁ, তিনি জানিয়েছেন, নিলামে এই হিরের দাম রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ২০১৭-র জুলাইতে রুশ হিরে সংস্থা আলরোসা খননের পর এই হিরেটি পায়। রাশিয়ায় পাওয়া সব থেকে বড় গোলাপি স্ফটিক থেকে এটি কেটে বার করা হয়েছে। এখনকার দিনে বিশ্বের ধনীতমরা দুর্মূল্য রঙিন পাথরের অনুরাগী হয়ে পড়েছেন। সেরা গুণমানের গোলাপি হিরে তাঁদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ।

সদবিতে আরও আশ্চর্য সব জিনিস নিলাম হয়েছে অতীতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অষ্টাদশ শতাব্দীর রত্ন খচিত চশমা। দুর্মূল্য দু’টি চশমা নিলামে ওঠে গত বছর অক্টোবর মাসে। অষ্টাদশ শতাব্দীর ওই চশমায় সাধারণ কাচের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে হিরে এবং পান্না। দু’টির ফ্রেমেই বসানো আছে ছোট ছোট হিরে। বহুমূল্য রত্নখচিত এই চশমাগুলি মুঘল আমলের বলে দাবি করা হয়। এক বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়ে, নিলামে ওই চশমা দু’টির দাম উঠতে পারে ৩৫ লক্ষ ডলার। অনুমান অসত্য প্রমাণ হয় না। ভারতীয় মুদ্রায় দাম প্রায় ২৫ কোটি টাকা। সদবি নিলাম সংস্থা এর আয়োজক। তার আগে নিউইয়র্ক, লন্ডন, হংকংয়ে চশমাগুলি প্রদর্শন করা হয়। ওই সংস্থার চেয়ারম্যান এডওয়ার্ড গিবস জানিয়েছেন ওই চশমাগুলি মুঘল আমলের। তিনি এক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, যত দূর আমি জানি, এ গুলির মতো চশমা আর নেই। সারা বিশ্বে বিরল এই দুই চশমা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.