তিন বছর পূর্ণ পুলওয়ামা হামলার (Pulwama Attack), ট্যুইট করে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)

Home দেশের মাটি তিন বছর পূর্ণ পুলওয়ামা হামলার (Pulwama Attack), ট্যুইট করে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)
তিন বছর পূর্ণ পুলওয়ামা হামলার (Pulwama Attack), ট্যুইট করে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ভালোবাসার দিন (Valentines Day) হিসাবে। প্রত্যেকেই তাঁর প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চায় এই দিনটি। কিন্তু ভারতবর্ষের ইতিহাসে এই দিনটি স্মরণীয় হয়ে আছে এক ‘কালো দিবস’ (Black Day) হিসাবে। আজ থেকে তিন বছর আগে ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা সীমান্তে (Pulwama) সন্ত্রাসবাদীদের অতর্কিত হামলায় শহিদ হয়েছিলেন ভারতের ৪০ জন জওয়ান। আজ সেই ঘটনার তিন বছর পূর্ণ হলো।

ঠিক কী ঘটেছিল ওইদিন? ২০১৯ এর ১৪ ফেব্রুয়ারি ২৫০০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের ৭৮টি কনভয় (CRPF Convoy) ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে জম্মু (Jammu) থেকে কাশ্মীর (Kashmir) যাচ্ছিল । বিকেল ৩টে ১৫ মিনিট নাগাদ লেথপোরায় অওয়ান্তিপোরা এলাকায় সেনাদের কনভয়ের মধ্য ঢুকে পড়ে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি। গাড়িতে ছিলেন আত্মঘাতী জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা।সিআরপিএফ জওয়ানের ৭৬তম ব্যাটেলিয়ানের গাড়িকে ধাক্কা মারে । দুর্ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৪০ জন জওয়ান । আহত হন আরও অনেকে । তদন্তে উঠে আসে, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদের নাম (Jaish-e-Mohammed)

পুলওয়ামা হামলার পরই এই ঘটনার প্রতিবাদে পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর একধাক্কায় ২০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিল ভারত সরকার । সেইসঙ্গে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন ট্যাক্স ফোর্সকে (Financial Action Tax Force) সরকারের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়, পাকিস্তানকে কালো তালিকা (Blacklisted) ভুক্ত করতে । পাশাপাশি ১৭ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করেছিল। পুলওয়ামা হামলার পরই তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় ভারত (India) ও পাকিস্তানের (Pakistan) মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এই হামলায় জড়িত সন্ত্রাসবাদীদের নিশ্চিহ্ন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীকে । এরপরই ২০১৯ এর ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোটের (Balakot) খাইবার পাখন্তুনখাওয়ায় জৈশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি সংগঠনের ডেরায় বোমাবর্ষণ করে ভারতের বায়ুসেনা। ধ্বংস হয়ে যায় জঙ্গিঘাঁটি।

ভারতীয় বায়ুসেনার এই হামলার প্রতিশোধ নিতে ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান এফ-১৬ (F-16) আকাশপথে ভারতে ঢুকে হামলার চেষ্টা চালায়। কিন্তু ভারতীয় বায়ুসেনার তৎপরতায় পাকিস্তানের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার ৩৮ বছর বয়সী অভিনন্দন বর্তমান (Abhinandan Varthaman) পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬-র পিছু নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন পাকিস্তানের আকাশসীমায়। পাকিস্তানে প্রবেশের পরই ভারতের যুদ্ধ বিমান মিগ-২১-কে (Mig 21) গুলি করে নামানো হয় পাকিস্তানের মাটিতে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের সীমান্তে প্রবেশের দায়ে ঢুকে পড়ায় বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে বন্দি করে পাকিস্তান। তাঁকে নানারকম প্রশ্নও করা হয় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তরফ থেকে। কিন্তু মাথা নোয়াননি অভিনন্দন বর্তমান। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ভারতের কোন অঞ্চলের মানুষ, অভিনন্দন স্পষ্ট ও নির্ভীকভাবে জানিয়েছিলেন তিনি সেই উত্তর দিতে বাধ্য নন। পরে অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে গোটা বিশ্ব। রাষ্ট্রসঙ্ঘের (UNO) তরফ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় পাকিস্তানকে। অবশেষে কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়ে অভিনন্দনকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। আকাশপথে নয়, সড়কপথেই আইএএফ উইং কম্যান্ডারকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। অবশেষে ২০১৯ সালের ১ মার্চ অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তি দিয়েছিলো পাকিস্তান। ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তান থেকে ভারতে প্রবেশ করেন অভিনন্দন। পরে তাঁর সাহসিকতার জন্য ভারত সরকারের তরফ থেকে ‘বীরচক্র’ (Vir Chakra) উপাধি দেওয়া হয় তাঁকে। অভিনন্দনের ধ্রুপদী গোঁফও ট্রেন্ডিং হয়ে যায় ভারতে। বহু যুবক তাঁর মতো করে গোঁফ রাখতে শুরু করে। ভারত জুড়ে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘অভিনন্দন কাট’ (Abhinandan Cut)। কয়েকদিন আগেই সাহসিকতার আরও একটি পুরস্কার পেয়েছেন অভিনন্দন বর্তমান। গত বছরের নভেম্বর মাসে ভারতীয় বায়ুসেনার ‘গ্রুপ ক্যাপ্টেন’ (Group Captain) পদে উন্নীত হন তিনি। বায়ুসেনার এই পদটি স্থলবাহিনীতে কর্নেল পদের সমকক্ষ। প্রসঙ্গত, অভিনন্দন বর্তমানের বাবা প্রাক্তন এয়ার মার্শাল সিন্থাকুট্টি বর্তমান (Sinthakutti Varthaman)। সিন্থাকুট্টি ‘মিরাজ ২০০০’ (Miraz 2000) যুদ্ধবিমানকে উন্নত করে কার্গিল যুদ্ধে বাহবা পেয়েছিলেন। তাঁরই সুযোগ্য পুত্র অভিনন্দন। তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের জলবায়ু বিহারের বাসিন্দা তিনি। কাঞ্চিপুরমের তিরুপানামুর গ্রামে তাঁর আদি বাড়ি।

পুলওয়ামা হামলার তিন বছর পূর্ণ হলো আজ। সকালেই এই বিষয় নিয়ে ট্যুইট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ট্যুইটারে (Twitter) তিনি লিখেছেন-‘২০১৯ সালের এই দিনটিতে পুলওয়ামায় যাঁরা শহিদ হয়েছিলেন, আমি তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাচ্ছি। আজকের দিনে স্মরণ করছি জাতির প্রতি তাঁদের অসামান্য অবদান। তাঁদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ প্রত্যেক ভারতবাসীকে প্রেরণা জোগায় ও এক শক্তিশালী দেশ গড়ে তুলতে প্রেরণা জোগায়।’ এই ঘটনার তিন বছর পরে সমগ্র ভারতবর্ষের মানুষ স্মরণ করছেন পুলওয়ামার শহিদ হওয়া ৪০ জন বীর জওয়ানকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.