আমি পালাইনি, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ঠিকানা জানালেন ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelensky)

Home বিদেশ-বিভূঁই আমি পালাইনি, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ঠিকানা জানালেন ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelensky)
আমি পালাইনি, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ঠিকানা জানালেন ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelensky)

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তিনি চম্পট দিয়েছেন। বারবার রাশিয়া এই খবর ছড়িয়েছে যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলনস্কি (Volodymyr Zelensky) ভয়ে পালিয়েছেন। পরিবার নিয়ে লুকিয়ে আছেন বাঙ্কারের ভেতর। আগেও ইউক্রেন জানিয়েছে, এই খবর ঠিক নয়। এদিন আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media) নিজের ঠিকানা শেয়ার করলেন জেলনস্কি। ইনস্টাগ্রামে এক পোস্ট দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ভয়ে গা ঢাকা দেননি, দেশের মাটিতেই আছেন। তাঁর কথায়, আমি আছি কিয়েভে ব্যাঙ্কোভা স্ট্রিটে। আমি লুকিয়ে নেই। কাউকে ভয়ও পাই না। প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, এটা আমাদের স্বাধীনতার লড়াই।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদোমির জেলনস্কি (Volodymyr Zelensky) আরও লেখেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের (russia ukraine war) আজ দ্বাদশ দিন। আমরা ১২ দিন ধরে লড়াই করছি। আমরা সবাই কাজ করছি। আমি কিয়েভে আছি। আমার সঙ্গে আমার টিম রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি দেশের সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর বিশ্বাস, একদিন তারা রাশিয়ার (russia) হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নেবে।

এর আগে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি জেলনস্কি (Volodymyr Zelensky) বলেন যে তিনি শত্রু রাশিয়ার এক নম্বর লক্ষ্য এবং রাশিয়ান বাহিনী তাঁর পরিবারকেও খুন করতে চাইছে। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, শত্রু আমাকে এক নম্বর টার্গেট এবং আমার পরিবারকে দুই নম্বর টার্গেট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান মিশেল ব্যাচেলেটকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে রাশিয়া কিছু ইউক্রেনীয়দের হত্যা অথবা ক্যাম্পে পাঠানোর জন্য একটি হিটলিস্ট তৈরি করেছে। এর একদিন পরেই নিজের বিবৃতিতে এই বক্তব্য দেন ভলদোমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelensky)।  

তার উপরে, রাশিয়ানরা একটি ইউক্রেনীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দখল করেছে। মনে করা হচ্ছে যে এই দখল হওয়ার পরে বিকিরণ ডেটাতে অ্যাক্সেসের অভাবের ফলে পারমাণবিক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে কোনও তাত্ক্ষণিক রেডিওলজিকাল ঝুঁকি এই ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। রাশিয়ান বাহিনী জাপোরিঝিয়া প্লান্ট দখল করেছে। এই প্লান্ট ইউরোপের বৃহত্তম। শুক্রবার ভোরে আক্রমণ করার পরে, এই প্লান্ট সংলগ্ন পাঁচ তলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।

আরও জানতে পড়ুন- Russia Ukraine war: যুদ্ধ পাগলামি, ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার আবেদন পোপ ফ্রান্সিসের

অন্যদিকে, ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন যে তারা ইউক্রেনের উপর কোনও নো-ফ্লাই জোন বানাবে না। তারা সতর্ক করছে জানিয়েছে যে এই ধরনের পদক্ষেপ ইউরোপে একটি বিস্তৃত যুদ্ধের সৃষ্টি করতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলনস্কি (Volodymyr Zelensky) পশ্চিমের দেশগুলির কাছে তাঁর দেশের উপর একটি নো-ফ্লাই জোন কার্যকর করার জন্য আবেদন করেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাহিনী ইউক্রেনে তাদের আক্রমণ বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত। শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও কামান দিয়ে হামলা চালিয়েছে তারা। দেশের দক্ষিণ অংশে উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করেছে তারা।

কিছুদিন আগে রাশিয়া একই রকম দাবি করেছিল। রাশিয়া দাবি করেছিল, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট (Ukraine president) রাজধানী কিয়েভ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন৷ তাঁকে নিরাপদে ইউক্রেন থেকে বের করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল আমেরিকাও৷ কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলনস্কি (Volodymyr Zelensky) কিয়েভের রাস্তা থেকে ভিডিও বার্তায় জানিয়ে দেন, যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে তিনি কোথাও যাচ্ছেন না৷ বরং দেশবাসীর কাছে তাঁর আবেদন, কোনওভাবেই যেন রুশ আক্রমণের সামনে আত্মসমর্পণ না করেন তাঁরা৷

রাশিয়ার আক্রমণের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যে ইউক্রেনের পক্ষে সম্ভব নয়, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না৷ রাশিয়া কিয়েভ দখল করলে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির বন্দি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল৷ তা সত্ত্বেও বিপদের সময় দেশ ছেড়ে যেতে নারাজ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট৷

শনিবার নিজেই সেলফির আদলে একটি ভিডিও শ্যুট করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘আমি এখানেই আছি৷ আমরা নিজেদের অস্ত্র নামিয়ে রাখব না৷ আমরা নিজেদের রাষ্ট্রকে রক্ষা করব৷ কারণ আমাদের অস্ত্রই আমাদের কাছে সত্য৷’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেটে অনেক ভুয়ো তথ্য পরিবেশিত হচ্ছে৷ দাবি করা হচ্ছে আমি সেনাবাহিনীকে অস্ত্র নামিয়ে রেখে পালানোর চেষ্টা করছি৷’

ভিডিওতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে দৃশ্যতই ক্লান্ত, বিধ্বস্ত লেগেছে৷ অনেকটা সেনার আদলে পোশাক পরেছিলেন তিনি৷  দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করে জেলনস্কি বলেন, ‘আমাদের মাটি, আমাদের দেশ, আমাদের সন্তানেরাই আমাদের কাছে সত্যি৷ আমরা এই সবকিছু রক্ষা করব৷’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যখন এই বার্তা দিচ্ছেন, তখনও দূর থেকে সাইরেনের শব্দ ভেসে আসছে৷ ইতিমধ্যেই রাজধানী কিয়েভে আঘাত হানতে শুরু করেছে রুশ সেনা৷ ইউক্রেনের সেনাঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে মিসাইল৷

২৪ তারিখ ইউক্রেনে হামলার নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর গোলাগুলি, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চলছে। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। দেশবাসীকে যুদ্ধে নামার আহ্বান ও করণীয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলনস্কি। দুই দেশের চলমান সংঘাত শুরুর পর জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.