চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ইউক্রেনে ভ্যাকুয়াম বোমা (vaccum bomb) ফেলেছে রাশিয়া

Home বিদেশ-বিভূঁই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ইউক্রেনে ভ্যাকুয়াম বোমা (vaccum bomb) ফেলেছে রাশিয়া
চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ইউক্রেনে ভ্যাকুয়াম বোমা (vaccum bomb) ফেলেছে রাশিয়া

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। একাধিক মানবাধিকার সংগঠন ও আমেরিকায় ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতের অভিযোগ, ভ্যাকুয়াম বোমও (vaccum bomb) যুদ্ধে ব্যবহার করেছে রাশিয়া। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামক ২টি মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, ইউক্রেনে নিষিদ্ধ ভ্যাকুয়াম বোমা (vaccum bomb) ব্যবহার করেছে রাশিয়া (Russia)। এমনকি ইউক্রেনের উত্তর–পূর্ব প্রান্তে একটি স্কুলে এই ক্লাস্টার বোমা ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে অ্যামনেস্টি। আমেরিকায় ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওকসানা মারকারোভা সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর জানান, ‌রাশিয়া ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের শহরগুলি ধ্বংস করাই রাশিয়ার (Russia) লক্ষ্য।‌ ভ্যাকুয়াম বোমার আর এক নাম থার্মোবারিক ওয়েপন। এই বোমা ফাটলে বাতাসে অক্সিজেনের (oxygen) পরিমাণ কমে যায়। বিস্ফোরণ স্থলের আশেপাশে প্রবল তাপ তৈরি হয়।
এক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, তাঁদের রিপোর্টারদের একটি দল নাকি দেখেছিল ইউক্রেন সীমান্তে থার্মোবারিক মাল্টিপল লকেট লঞ্চার বসিয়েছে রাশিয়া (Russia)। এদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন পেস্কি বলেছেন, ‌তাঁর কাছেও এরকম তথ্য আছে, যে রাশিয়া ভ্যাকুয়াম বোমা (vaccum bomb) ব্যবহার করেছে।‌ তবে তিনি এবিষয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তবে এই বোমা রাশিয়া (Russia) সত্যিই ব্যবহার করেছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজ নেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন (international organization)। জানিয়েছেন পেস্কি। যদিও ওয়াশিংটনের রুশ দূতাবাস থেক এবিষয়ে এখনও কিছুই বলা হয়নি।
এদিকে ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাচ্ছে আমেরিকা। জো বাইডেনের সঙ্গে কথা হয়েছে আমেরিকায় ইউক্রেন রাষ্ট্রদূত মারকারোভার। তাঁর কথায়, ‘‌রাশিয়াকে এর মূল্য চোকাতে হবে।’‌

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি রাখতে বলেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শান্তির লক্ষ্যে গতকাল দুইদেশের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। তার মধ্য়েই ইউক্রেনের খারকিবে ভ্যাকুয়াম বোমা (vaccum bomb) ও ক্লাস্টার বোমা ফেলার অভিযোগ আনলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত। এতে শিশু-সহ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে এমনটাই দাবি করলেন ওকসানা মারকারাভা।

মারকারাভা বলেন, ওরা ভ্যাকুয়াম বোমা (vaccum bomb) ব্যবহার করেছে। জেনেভা চুক্তি অনুযায়ী এই বোমার ব্য়বহার নিষিদ্ধ। তাই বুঝতেই পারছেন কী ধরনের ধ্বংস শুরু করেছে রাশিয়া। কিন্তু ইউক্রেন এর বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আমরা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করছি। আমরা থামব না। আমরা ক্লান্ত হব না। শুধু সেনাই নয়, ইউক্রেনের পুলিস, ন্যাশনাল গার্ড-সহ ইউক্রেনের মানুষ রুশ আগ্রাসনের প্রতিরোধ করছে।

এই ভ্যাকুয়াম বোমা (vaccum bomb) কী

এই ধরনের বোমা আসলে একটি থার্মোবারিক অস্ত্র। বোমাটি ফেলার সঙ্গে সঙ্গে এটি সেই এলাকার কয়েক কিলোমিটার এলাকার অক্সিজেন শোষণ করে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আচমকাই বিশাল তাপ উত্পন্ন হয়ে যায়। পাশাপাশি এই বিস্ফোরণে যে শব্দ ও তাপের তরঙ্গ তৈরি হয় তার প্রভাব অন্যান্য বোমার থেকে অনেক বেশি। কয়েক মুহুর্তে কোনও মানুষের দেহ পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে। এক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের দাবি, ইউক্রেন-রাশিয়া সীমান্তে তাদের টিম থার্মোবারিক রকেট লঞ্চার দেখতে পেয়েছে।

বেলারুশে ইউক্রেনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল রাশিয়া। সেই বৈঠকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইউক্রেন। যুদ্ধ থামাতে দ্রুত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আশ্বাস দিল রাশিয়াও (Russia)। দ্বিতীয় বৈঠক হবে পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তে। এরই মধ্যে সোমবারই একটি সূত্র মারফৎ দাবি করা হয়, রাশিয়া পরমাণু যুদ্ধাভ্যাস শুরু করে দিয়েছে। যা নিয়ে চিন্তিত রাষ্ট্রসংঘও।

ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বর্তমানে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) বিশেষ অধিবেশন চলছে। যুদ্ধ চলাকালীন নিহতদের শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। সেখানেই রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতারেস বলেছেন, এই যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। মারাত্মক রূপ ধারণ করছে এই যুদ্ধ। অবিলম্বে এটি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কারণ ভয়ানক এই ভ্যাকুয়াম বোম্ব vaccum bomb)।

অ্যান্টনিও গুতারেস বলেছেন, সোমবার রাশিয়া তার দেশের পারমাণবিক বাহিনীর ওপর রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। এটি কিন্তু কোনও সামান্য বিষয় নয়। পারমানবিক সংঘাত কল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। বাস্তবে এর কোনও অস্তিত্ব না হওয়াই কাম্য। পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারকে সমর্থন করতে পারে না বিশ্ব।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিসিয়াস বলেন, “যদি  [পুতিন] আত্মহত্যা করতে চান তবে তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার ব্যবহার করার দরকার নেই। বার্লিনের লোকটি ১৯৪৫ সালের মে মাসে যা করেছিল, সেই পথেই হাঁটতে পারেন।” পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব বলেই যে এই আবহে শান্তিই একমাত্র সমাধান।

রাশিয়া-ইউক্রেন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সমাধানসূত্র বের করতে, সোমবার জরুরি অধিবেশন ডাকে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভা। সেখানে ইউক্রেনের প্রতিনিধি বলেন, রাশিয়ার হামলায় এখনও অবধি ৩৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১৬ জন শিশুও রয়েছে। এখনও রাশিয়া গোলাবর্ষণ থামায়নি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন মেনে, সেনা প্রত্যাহার করুক।

পাল্টা রাশিয়া জানায়, ইউক্রেন দখলের কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতারেস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির একমাত্র সমাধান শান্তি। আমরা সব পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে গুতারেস জানান, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে আশ্বাস দিয়েছেন যে রাষ্ট্রপুঞ্জ তাঁদের সবরকম সহায়তা করবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.