গোয়ায়(Goa Election 2022)  একক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি, তৃণমূল শরিক এমজিপির সাহায্যে সরকার গঠনের দাবি গেরুয়া শিবিরের

Home দেশের মাটি গোয়ায়(Goa Election 2022)  একক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি, তৃণমূল শরিক এমজিপির সাহায্যে সরকার গঠনের দাবি গেরুয়া শিবিরের
গোয়ায়(Goa Election 2022)  একক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি, তৃণমূল শরিক এমজিপির সাহায্যে সরকার গঠনের দাবি গেরুয়া শিবিরের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: গোয়ায়(Goa Election 2022) এবার অনায়াসেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে এল বিজেপি(BJP)। তবে গেরুয়া শিবিরের আসন সংখ্যা ম্যাজিক ফিগারের থেকে এখনও দুটি কম। গোয়া বিধানসভায়(Assembly) আসনসংখ্যা ৪০। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন মাত্র ২১টি আসন। এ পর্যন্ত বিজেপি পেয়েছে ২০, কংগ্রেস+১২, তৃণমূল+২, আপ+৩(AAP) এবং অন্যান্যরা ৩ আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে গোয়ায় এইবার বাংলার মানুষের নজর রয়েছে। কারণ গোয়ায় নির্বাচনের আগে নতুন করে ঘুঁটি সাজিয়েছিল তৃণমূল। এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গিয়েছে, গোয়ায় বিজেপি-র সরকার গড়তে সাহায্য করছে তৃণমূলের জোটসঙ্গী এমজিপি। ২০১৭ সালেও মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গড়েছিল বিজেপি। কিন্তু ২০১৯ সালে জোট-জট শুরু হয়। বেরিয়ে যান এমজিপি বিধায়করা। গোয়ায় এখন সরকার গঠনের চাবিকাঠি ছোট দলগুলির হাতেই।

২০২২ বিধানসভা সৈকতরাজ্যের ভোটে অভিষেক হওয়া তৃণমূলের সঙ্গে জোট করেছিল গোমন্তক পার্টি। এ বার তারা পেয়েছে দুটি আসন। গোয়া বিজেপি-র পর্যবেক্ষক, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের দাবি, এমজিপিও তাঁদের সমর্থন করেছেন। তিনি জানান, বিজেপি-র ২০টি আসন, নির্দলের ৩টি এবং এমজিপি-র ২টি আসন মিলিয়ে মোট ২৫টি আসন। সরকার গড়তে আর কোনও সমস্যা নেই। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন বিধায়কের সমর্থন পাওয়া যাবে বলেও ফড়নবিসের দাবি।

বুথ ফেরত সমীক্ষায় গোয়ায়(Goa Election 2022)  ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ছবি। খানিকটা কংগ্রেস (Congress) এবং বিজেপির(Bharatiya Janata Party)মধ্যে সেয়ানে-সেয়ানে টক্কর হওয়ার আভাস পাওয়া গিয়েছিল। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে ১৮টি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস জোট। সেখানে ১৩টি আসন আসে বিজেপির দখলে। তারপরও ঘোড়া কেনাবেচা করে সরকার গঠন করে গেরুয়া শিবিরই। তবে এবার কংগ্রেসের কাছে শাসকবিরোধী একাধিক ইস্যু ছিল। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব-সহ কোনও বিষয়কেই হাতিয়ার করতে পারেনি তারা। উল্টোদিকে যদিও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তও অবশ্য নির্বাচনের বিরাট কোনও ফল আশা করেননি। তাঁর টার্গেট ছিল ম্যাজিক ফিগার টপকে যাওয়া। তাই তিনি বলেছিলেন, বাইশে ২২। অর্থাৎ ৪০টির মধ্যে ২২টি আসন তাঁরা পাওয়ার আশা রেখেছিলেন। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারলেও, একক বৃহত্তম দলের তকমা পেয়েছে বিজেপি। তাছাড়া গোয়ায় এবার ১২টি দলের মোট ৩০১ জন নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ফলে বিজেপি(BJP)  ও কংগ্রেস ছাড়াও অন্যান্য দলেও ভোট পড়েছে। বলা যায় আঞ্চলিক শক্তিগুলি রাজনীতির ময়দানে(Goa Election 2022)  মাথাচাড়া দেওয়ায় আরও দুর্বল হয়েছে কংগ্রেস।

 সোমবারের এক্সিট পোলে অবশ্য আজকের ফলাফলের প্রতিচ্ছবি কিছুটা ধরা পড়ে। প্রায় সব বুথ ফেরত সমীক্ষায় গোয়া সহ চার রাজ্যে এগিয়ে রাখা হয় গেরুয়া শিবিরকে ৷ ছোট রাজ্য হলেও গোয়াতে রয়েছে বিশেষ নজর ৷ এই প্রথম গোয়া থেকে নির্বাচনে(Goa Election 2022) লড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ৷ এবার গোয়ায় কী ‘কিং মেকার’ হয়ে উঠবে তৃণমূল কংগ্রেস ? কারণ ইতিমধ্যেই সরকার গড়তে সম্ভাব্য কোনও জোটের ইঙ্গিত দিয়ে তৃণমূলের দিকে হাত বাড়িয়ে রেখেছে কংগ্রেস। উল্লেখ করা যেতে পারে, গত বছর থেকেই গোয়ার দিকে চোখ পড়ে তৃণমূলের। অন্য দলের নেতা নেত্রী ভাঙিয়ে নিজেদের সংগঠন বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল বাংলার শাসকদলের বিরুদ্ধে। এইবার সেই তৃণমূল কংগ্রেস গোয়ায় নিজের জায়গা কতটা জায়গা করে নিতে পারল তার দিকে নজর ছিল সকলের।

এদিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তৃণমূলের নাম করেও বিজেপি বিরোধীদের একহাত নিয়েছে। দুর্নীতিবাজ ও বহিরাগতদের বাতিল করেছে সাধারণ মানুষ- গোয়ায় বিজেপি-র জয়ের ছবি পরিষ্কার হতেই মন্তব্য পদ্ম শিবিরের। গোয়ার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা প্রমোদ সাওয়ান্ত বলেন, ‘এই জয়ের কৃতিত্ব দলের কর্মীদের। গোয়ায় বিজেপি সরকার গড়ছে।’ তিনি জানান, দ্রুত রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন তাঁরা।

তবে এবারের গোয়া বিধানসভা ভোট((Goa Election 2022) ছিল বিজেপির জন্য লিটমাস টেস্ট। চারবারের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পরিক্করের মৃত্যুর পর গোয়াতে এটাই ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রথম নির্বাচন। বিজেপি ভোটারদের মন জয় করার জন্য উন্নয়ন এবং পরিক্করের উত্তরাধিকারের ভোটের উপর নির্ভরশীল ছিল।

গোয়ায় বিধানসভাকেন্দ্রের সংখ্যা ৪০। বুথ ফেরৎ সমীক্ষা বলছে এবারে গোয়াতে(Goa Election 2022) হাডডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে কংগ্রেস(Congress) ও বিজেপির(BJP) মধ্যে। সেক্ষেত্রে গোয়ায়(Assembly) ৪০টি আসনের মধ্যে ১৫ থেকে থেকে ২০টি পেতে পারে কংগ্রেস। বিজেপি পেতে পারে ১৪ থেকে ১৮টি আসন। ২ থেকে ৫টি আসন পেতে পারে মহারাষ্ট্র গোমন্তক পার্টি বা এমজিপি ও তার সহযোগী দলগুলি। প্রসঙ্গত এই এমজিপি-র সঙ্গেই এবার জোট বেঁধে নির্বাচনী লড়াইতে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ০ থেকে ৪টি আসন পেতে পারে অন্যান্যরা। 

গোয়ায় ত্রিশঙ্কু সরকার গঠনের সম্ভাবনা থাকতে পারে। ত্রিশঙ্কু বিধানসভায় এগিয়ে বিজেপি। দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারে কংগ্রেস। ফলে সামান্য ব্যতিক্রমেই একক বৃহত্তম দল হয়ে ওঠার লড়াই এবারও বিজেপি বনাম কংগ্রেসের মধ্যে। সম্ভাব্য ভোটের হারেও কংগ্রেসকে পিছনে ফেলেছে বিজেপি। বুথ ফেরত সমীক্ষায় আলাদা করে তৃণমূলের ভোট শতাংশ পাওয়া যায়নি। তবে এই অন্যান্যদের ভোটের মধ্যেই ছিল তৃণমূলের অংশও।

পঞ্জাবে বিপুল ব্যবধানে জয়ের সুবাদে রাজনৈতিক কৌলিন্যে একেবারে সামনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। একই সঙ্গে সৈকতরাজ্য গোয়াতেও খাতা খুলল তারা। গত বিধানসভা ভোটে লড়লেও একটি আসনও পায়নি কেজরির দল। এবার তৃণমূল প্রার্থী তথা বেনোলিমের প্রাক্তন বিধায়ক চার্চিল আলেমাওকে পরাজিত করলেন আপের ক্যাপ্টেন ভেনজি ভিয়েগাস। উল্লেখ্য, এই আসনটি নিয়ে আশাবাদী ছিল গোয়ায় প্রথম বার ভোটে লড়া তৃণমূল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.