যুদ্ধ চলছে, ২টি রুশ যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামাল ইউক্রেন (Ukraine)

Home বিদেশ-বিভূঁই যুদ্ধ চলছে, ২টি রুশ যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামাল ইউক্রেন (Ukraine)
যুদ্ধ চলছে, ২টি রুশ যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামাল ইউক্রেন (Ukraine)

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: যুদ্ধ করে করবি কি তা বল? কে কার কথা শুনছে! রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত। সেই সঙ্গে চলছে দাবি-পাল্টা দাবির লড়াইও।

এ বার ইউক্রেন (Ukraine) সেনার দাবি, রাশিয়ার দু’দুটি যুদ্ধবিমানকে (Russian aircraft) গুলি করে নামিয়েছে তারা। তাদের হাতে বন্দি দু’জন রুশ পাইলটও (pilot)। পাশাপাশি, গুলির মধ্যে যুদ্ধবিমান নামাতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক সহকারী পাইলটের। নেটমাধ্যমে সেই ভিডিয়োও প্রকাশ করল ইউক্রেন।

দু’টি ঘটনাই শনিবারে ঘটেছে বলে দাবি ইউক্রেন (Ukraine) প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের। ইউক্রেন সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সরকারি টুইটার হ্যান্ডল থেকে একটি রুশ যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামানোর ভিডিয়ো শেয়ার করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ভিডিয়োটি উত্তর ইউক্রেনের চেরনিহিভের। সেই যুদ্ধবিমানের পাইলটকে বন্দি করা হয়েছে। পাশাপাশি, মৃত সহকারী পাইলটের নামও জানিয়েছে ইউক্রেন (Ukraine)। ইউক্রেনের (Ukraine) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, তাদের সেনার গুলিতে নিকোলেইভে আরও একটি রুশ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে। তারও পাইলটকে বন্দি করেছে তারা।

রবিবার এগারো দিনে পড়ল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia Ukraine war) । ইউক্রেনের (Ukraine) দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর অন্তত ১০ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে। তা ছাড়া ২৬৯টি ট্যাঙ্ক, ৪০টি হেলিকপ্টার, ৫০টি এমএলআরএস-সহ রাশিয়ার বহু অস্ত্র ও সরঞ্জাম তারা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

আরও জানতে পড়ুন – পুতিন (‌Putin)‌ কিন্তু হারছেনই!‌ হয় আজ, নয় কাল

ইউক্রেন (Ukraine) দাবি করছে ভলনোখাভার কাছে তারা একটি রুশ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। ইউক্রেনের (Ukraine) মারিওপোল শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে এক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাশিয়া রাজি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা আবার শহরটির ওপর হামলা চালাচ্ছে। ফলে এই পরিকল্পনা এখন ভেস্তে গেছে।

আমি এখন মারিওপোলে, শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। আমি তিন হতে পাঁচ মিনিট পরপর গোলার শব্দ শুনতে পাচ্ছি, বলছিলেন শহরের একজন বাসিন্দা, ৪৪-বছর বয়সী আলেক্সান্ডার। তিনি জানান, শহরের লোকজনকে বের করে নেয়ার জন্য যে নিরাপদ করিডোর স্থাপন করা হয়েছে, তা কাজ করছে না।

আমি দেখছি যাঁরা পালানোর চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা ফিরে আসছেন। একেবারেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু মারিওপোল শহরের ডেপুটি মেয়র এখন অভিযোগ করছেন, রুশরা এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, তারা সেখানে ক্রমাগত গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছে। এর ফলে শহর থেকে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তাদেরকে এখন স্থগিত রাখতে হচ্ছে।

শহরের ডেপুটি মেয়র সের্গেই অরলভ বলেন, রুশ গোলাবর্ষণের কারণে এখন সেখানে রাস্তায় বেরুনো মোটেই নিরাপদ নয়। তবে এব্যাপারে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক একেবারেই ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তারা বলছে, ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদীরাই শহর থেকে বেসামরিক মানুষকে বেরোতে বাধা দিচ্ছে। তারা আরও বলছে, রুশ বাহিনী যখন একটি মানবিক ত্রাণ করিডোর তৈরি করে, তখন রুশ বাহিনীর ওপর গুলি চালানো হয়।

মারিওপোল শহরে গত কদিন ধরেই তীব্র লড়াই চলছে। আরেকটি শহর, ভলনোভাখা, সেখানকার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে কোন খবর সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এর আগের খবরে বলা হচ্ছিল, ২৫,০০০ মানুষের এই শহরটিতে এত তীব্র গোলাবর্ষণ করা হয়েছে যে, শহরের প্রায় প্রতিটি ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় একজন এমপি দাবি করেন যে, যেরকম তীব্র লড়াই সেখানে চলছিল, রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহ পর্যন্ত সরানো যাচ্ছিল না।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, রুশ বাহিনী এখন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং দ্বিতীয় বড় শহর খারকিভ-সহ চারটি শহর চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে অবরোধ জারি করতে চাইছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী (ukranian forces) পাল্টা আঘাত হানছে।

কিয়েভের মানুষ বলছেন, গতরাতে বিমান হামলা তুলনামূলক-ভাবে কিছুটা কম ছিল, হামলার সতর্ক সংকেত হিসেবে সাইরেনের আওয়াজও কম শোনা গেছে। তবে কিয়েভের কাছের অন্য কিছু শহরে, যেমন চেরনিহিভ বা ঝিটোমিরে নতুন করে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত শোনা গেছে।

কিয়েভের ৩০০ কিলোমিটার পূর্বের সুমি শহরের লোকজনকে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বলা হয়েছে, কারণ সেখানে রাস্তায় লড়াই চলছে।

রুশদের সামরিক কৌশলের একটা লক্ষ্য হচ্ছে, ক্রাইমিয়া থেকে কৃষ্ণসাগর উপকুল বরাবর একটি ল্যান্ড করিডোর তৈরি করা। ওডেসা বন্দরে রুশরা একটি অ্যাম্ফিবিয়ান, অর্থাৎ উভচর হামলা চালাতে পারে, এমন কথা বলা হচ্ছিল। এখন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো বলছে, রুশ বাহিনী এখন দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর মাইকোলেইভের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য অবশ্য ওডেসা বন্দর।

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহিনী রয়েছে রাশিয়ার। আগের প্রতিটি যুদ্ধে তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতার পরিচয় পাওয়া গেছে। ইউক্রেনে হামলায়ও তাদের সেই ভূমিকা দেখা যাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। পশ্চিমী গোয়েন্দারাও তেমনই আভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু হামলার এগারো দিনেও ইউক্রেনের আকাশের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি রাশিয়ার বিমানবাহিনী।

এখন পশ্চিমী যুদ্ধবিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনে রুশ বিমানবাহিনীর তৎপরতা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের আভাসের বিপরীত চিত্রই যেন দেখা গেছে। যুদ্ধে এখনো নিজেদের পূর্ণ শক্তির ব্যবহার করেনি রাশিয়ার বিমানবাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.