‘বাবার মৃত্যু আরও বেপরোয়া করে দিয়েছিল বিরাটকে’, কোহলির (Virat Kohli) শততম টেস্টের আগে স্মৃতিচারণা রঞ্জি সতীর্থের

Home খেলাধুলো ‘বাবার মৃত্যু আরও বেপরোয়া করে দিয়েছিল বিরাটকে’, কোহলির (Virat Kohli) শততম টেস্টের আগে স্মৃতিচারণা রঞ্জি সতীর্থের
‘বাবার মৃত্যু আরও বেপরোয়া করে দিয়েছিল বিরাটকে’, কোহলির (Virat Kohli) শততম টেস্টের আগে স্মৃতিচারণা রঞ্জি সতীর্থের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: আর মাত্র একদিন বাকি। তারপরই মোহালিতে শুরু হবে ভারত বনাম শ্রীলঙ্কার টেস্ট ম্যাচ (INDvSL)। ঘটনাচক্রে, এই টেস্ট আবার ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলির (Virat Kohli) শততম টেস্ট ম্যাচ (100th Test Match)। তাঁর ঘটনাবহুল টেস্ট জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানারকম স্মৃতি, বিভিন্ন সুখ-দুঃখের মুহূর্ত। কোহলির শততম টেস্টের আগে তাঁর রঞ্জি (Ranji Trophy) খেলার সময়ের একজন সতীর্থের স্মৃতিচারণে উঠে এলো পুরনো দিনের ‘বিরাট ভাইয়ের’ কথা।

১৬ বছর আগে ২০০৬ সালের এক শীতকালের দুপুর। সেই বছর কোহলি (Virat Kohli) জীবনে প্রথমবার অংশগ্রহণ করেছিলেন রঞ্জি ট্রফিতে (Ranji Trophy)। দিল্লির এক ১৭ বছরের ছেলের বয়স যেন একধাক্কায় বেড়ে গিয়েছিল অনেকটা। প্রতিকূল পরিস্থিতি তাঁকে পরিণত হতে শিখিয়েছিলো। সময়ই যেন দায়িত্ব নিয়ে অনেকটা বড় করে দিয়েছিলো তাঁকে।

রঞ্জি ট্রফিতে (Ranji Trophy) কর্নাটকের সঙ্গে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ চলছে তখন। প্রথমদিনের শেষে ৪০ রানে অপরাজিত বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। সেইদিন ম্যাচ খেলে বাড়ি এসে শুনেছিলেন, বাবা প্রেম কোহলির শরীরটা ভালো নেই। খানিক মন খারাপ নিয়েই শুতে গিয়েছিলেন তিনি। হঠাৎই ভোররাতে বাবার ঘর থেকে সমবেত কান্নার রোল শুনতে পান তিনি। ছুটে গিয়ে জানতে পারেন, প্রয়াত হয়েছেন তাঁর পিতা। পরদিন দিল্লির কোচ সহ তাঁর সতীর্থরা তাঁকে বলেছিলেন ম্যাচ না খেলতে। কিন্তু কোহলির (Virat Kohli) মধ্যে প্রথম থেকেই ছিল অপ্রতিরোধ্য হার না মানা মনোভাব। বাবাকে হারানোর শোকের মধ্যেই মাঠে নামেন তিনি। সেই সময় স্কোরবোর্ডের অবস্থাও করুণ। একরোখা জেদি বিরাট কোহলি (Virat Kohli) মাঠে নেমে এক অনবদ্য ইনিংস খেললেন। ঝাঁ চকচকে ৯০ রানের ইনিংস খেলে খাদের কিনারায় থাকা দলকে টেনে তুলেছিলেন তিনি।

ওই সময় দিল্লি দলে কোহলির (Virat Kohli) সতীর্থ ছিলেন পুনীত বিস্ত। কোহলির লড়াকু মনোভাবের সেই ছবি এখনও মনে করতে পারেন তিনি। ‘আমরা সকলেই গোটা ঘটনাটা জানতাম। বিরাট আসার পর ওকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সকলে মিলে ড্রেসিংরুমে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম ও এসেই প্যাড-গ্লাভস পরে তৈরি হয়ে গেল মাঠে নামার জন্য।’ বলছেন তিনি। কোহলি যখন খেলার জন্য এসেছিলেন, তখনও তাঁর বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়নি। ‘ভাবুন, ওর কতটা মনের জোর। বাবার শেষকৃত্য হয়নি, ও মাঠে চলে এসেছে। কারণ ওর মাথায় ছিল দিল্লির অবস্থা ভালো নয়। ও না আসলে দিল্লির লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে যাবে’, বক্তব্য পুনীতের।

সেদিনের লড়াকু যুবকই আজ শততম টেস্ট খেলতে নামা প্রাক্তন অধিনায়ক। মাঝের এই যাত্রাপথ কখনই মসৃণ ছিল না কোহলির। বর্তমান সময়ে বারবার বিতর্কের শিরোনামে এসেছেন তিনি। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর স্বেচ্ছায় ছেড়েছিলেন ভারত অধিনায়কত্ব। কিন্তু কয়েকদিন পরই জানতে পারা যায়, ওয়ান ডে অধিনায়কত্বই ছাড়বেন তিনি। এমনটাই ঘোষণা করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু কয়েকদিন পরই সাংবাদিক সম্মেলন করে কোহলি জানান, তিনি স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব ছাড়েননি। বোর্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে শুধু জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তুমি আর অধিনায়ক থাকছো না। পরবর্তীকালে বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাদা বলের ক্রিকেটে দু’জন অধিনায়ক থাকার পক্ষপাতী নন তাঁরা। সান্ত্বনা পুরস্কার হিসাবে কোহলিকে লাল বলের ক্রিকেটের অধিনায়ক রাখা হয়। কিন্তু কয়েকদিন পরেই কোহলি পত্রপাঠ জানিয়ে দেন, টেস্ট ক্রিকেটের অধিনায়কত্বও ছেড়ে দিতে যান তিনি। খেলতে চান শুধু ব্যাটার হিসাবে।

শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে (INDvSL) মোহালিতে দ্বাদশ ভারতীয় হিসাবে শততম টেস্ট খেলতে নামবেন বিরাট কোহলি। ২০১১ সালের ২০ জুন কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্টে অভিষেক হয়েছিল কোহলির। সাড়ে দশ বছরের দীর্ঘ যাত্রাপথে একাধিক রেকর্ড তৈরি করেছেন তিনি। ক্রিকেটের একাধিক মাইলফলক অবলীলায় পেরিয়েছেন তিনি। টেস্ট ছাড়াও ক্রিকেটের অন্যান্য ফর্ম্যাটেও নিজেকে বিশ্বের সেরা ব্যাটার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত খেলা ৯৯টি টেস্টের মধ্যে কোহলি নেতৃত্ব দিয়েছেন ৬৮টি টেস্টে। ফলে কোহলির অধিকাংশ নজির রয়েছে অধিনায়ক হিসাবেই। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির পর এই প্রথম অন্য কোনও অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলবেন কোহলি।

টেস্টে এখনও পর্যন্ত ৭৯৬২ রান করেছেন কোহলি। টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি রয়েছেন ৩২ নম্বরে। একটি টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ রান করার ক্ষেত্রে ভারতীয়দের মধ্যে তিনি তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ৪ টেস্টে ৬৯২ রান করেছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের ২১ জুলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কেরিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন বিরাট কোহলি। ২৩৮ বল খেলে ২০০ রান করেছিলেন তিনি। বিরাটের দ্বিশতরানের ইনিংস সাজানো ছিল ২৪টি চার দিয়ে। ভারতীয়দের মধ্যে টেস্টে সব থেকে বেশি দ্বিশতরান করার নজিরও তাঁর (৭টি)।পাশাপাশি, অধিনায়ক হিসেবেও সব থেকে বেশি দ্বিশতরান করেছেন বিরাট কোহলি। ।

অভিষেক টেস্ট খেলার পর কেরিয়ারের ১৪তম ইনিংসে শতরান পান বিরাট কোহলি। যদিও ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম গোলাপি বল টেস্টে শেষ বার সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ১৯৪ বল থেলে ১৩৬ রান করেছিলেন কোহলি। বিরাটের শেষ সেঞ্চুরি সাজানো ছিল ১৮টি চার দিয়ে। ওই টেস্টে কোহলির ভারত এক ইনিংস ও ৪৬ রানে জিতেছিল।

শততম টেস্ট খেলতে নামার আগে আবেগপ্রবণ বিরাট কোহলিও। বিসিসিআইয়ের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে তিনি বলেছেন-‘আমি সত্যিই কখনও ভাবিনি ১০০টি টেস্ট ম্যাচ খেলব। এটা অনেকটা লম্বা সফর। ১০০ টেস্ট ম্যাচ খেলার পথে যাঁরা আমার পাশে ছিলেন, তাঁদের সকলকে কৃতজ্ঞতা।’ কোহলির শততম টেস্টে থাকবে দর্শকও। বিসিসিআই সচিব জয় শাহ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মোহালির দর্শকাসনের অর্ধেক আসনে থাকবে দর্শক। ক্রিকেট ভক্তরা যাতে কোহলির শততম টেস্ট খেলার ঐতিহাসিক মুহূর্ত দেখতে পারেন, তার জন্যই এই ব্যবস্থা। মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছেন জয় শাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.