‘কোনও রাজনীতি নেই’! ট্যাবলো বিতর্কে ইতি টানতে মমতাকে চিঠি রাজনাথের

Home কলকাতা ‘কোনও রাজনীতি নেই’! ট্যাবলো বিতর্কে ইতি টানতে মমতাকে চিঠি রাজনাথের
‘কোনও রাজনীতি নেই’! ট্যাবলো বিতর্কে ইতি টানতে মমতাকে চিঠি রাজনাথের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: কোনও কারণ ছাড়াই কেন দিল্লির রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বাতিল করা হল বাংলার ট্যাবলো? কারণ জানতে চেয়ে আসরে নেমেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে তিনি ‘বিস্মিত’ও‘ব্যথিত’। এ ব্যাপারে মমতা, নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানান। গত রবিবার মোদিকে লেখা মমতার সেই চিঠির জবাব দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। বাংলা ও তামিলনাড়ুর ট্যাবলো বাদ পড়া নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়তেই মাঠে নামলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। চিঠি দিয়ে জানালেন বাংলার ট্যাবলো বাদ দেওয়ার কারণ।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিজে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনকে চিঠি লিখলেন। যেখানে রাজনাথ স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, ট্যাবলো নির্বাচনের বিষয়টি কেন্দ্রের হাতে নেই। বিদ্বজ্জনেদের নিরপেক্ষ কমিটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

মঙ্গলবার দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই পৌঁছেছে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চিঠি । চিঠিতে মমতাকে রাজনাথের ব্যাখ্যা, কেন্দ্র নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে অসম্মান করেনি। এই প্রেক্ষিতে কেন্দ্র নেতাজিকে সম্মান প্রদর্শন করতে কী কী পদক্ষেপ করেছে, তারও বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের ট্যাবলো বাতিলের সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। চিঠিতে রাজনাথ  মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৯ এবং ২০২১ সালে কেন্দ্রে মোদি সরকার থাকাকালীনই সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে স্থান পেয়েছিল বাংলার ট্যাবলো। উল্লেখ্য, এদিন সকালেই ট্যাবলো বিতর্ক নিয়ে ট্যুইট করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। তবে সেই ট্যুইটের ভাষায় ছিল চ্যালেঞ্জের সুর। তবে নবান্ন সূত্রের খবর কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর ব্যবহৃত ভাষার তুলনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চিঠির ভাষা অনেক মার্জিত।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি  উপলক্ষে এবছর বাংলার ট্যাবলোর বিষয় ছিল নেতাজি ও বাংলার শ্বাধীনতার শহিদরা।যাতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হত ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তিতে নেতাজির আইএনএ-র অবদান।  কিন্তু, ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজধানীর রাজপথে  সেই ট্যাবলোর দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা কালির এক আঁচড়ে বাতিল করেছে দিল্লি। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখেন। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ‘ কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আমি বিস্মিত এবং ব্যথিত। কোনও কারণ বা ব্যাখা ছাড়াই এভাবে বাংলার ট্যাবলো বাদ পড়ায় আমি হতবাক।’ চিঠিতে নিজের ক্ষোভ উগরে তিনি বলেন, ‘ বাংলার মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণে গভীরভাবে ব্যথিত। ট্যাবলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অসম্মানিত স্বাধীনতা সংগ্রামীরা।’

বাংলার নেতাজি-ট্যাবলো বিতর্ক চলার মধ্যেই প্রতিবাদে সামিল হয় তামিলনাড়ুও। দক্ষিণের এই অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যের ট্যাবলোও প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড থেকে বাদ পড়েছে বলে খবর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথে হেঁটেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও। স্ট্যালিনের চিঠি থেকে জানা যাচ্ছে, তাঁদের ট্যাবলোর বিষয় ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনে তামিলনাড়ুর ভূমিকা। ট্যাবলোয় সে রাজ্যের স্বাধীনতাসংগ্রামীদের ভূমিকা তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

ট্যাবলো বিতর্কের আঁচ বাড়তেই কেন্দ্রীয় সূত্রে জানানো হয়েছিল, ট্যাবলো মোদি সরকার বাছাই করে না। তাই এই ইস্যুকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রীরা কেন্দ্র বনাম রাজ্যের যে সংঘাত তুলে ধরতে চাইছে, তা ঠিক নয়।

এদিকে ট্যাবলো বিতর্কে মমতা বন্দোপাধ্যায় স্বয়ং আসরে নামায় মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।তাঁরও যুক্তি এরমধ্যে রাজনীতির কোনও যোগ খুঁজতে চাওয়া অর্থহীন।কারণ পুরো সিদ্ধান্তই থাকে আমলাদের হাতে। মমতাকে সরাসরি আক্রমণ করে সুকান্তর অভিযোগ, ‘বাংলার সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারের নাম করে মুখ্যমন্ত্রী নিজের বিজ্ঞাপন করে থাকেন, যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটূ।মুখ্যমন্ত্রীকে বাদ দিয়েও বাংলার সংস্কৃতি আছে।’মমতাকে সংখ্যালঘু খোঁচা দিয়ে সুকান্তর সংযোজন,‘মুখ্যমন্ত্রী চেষ্টা করেন আরবের সংস্কৃতিকে বাংলার সংস্কৃতি বলে চালানোর।আরবের সংস্কৃতি আর বাংলার সংস্কৃতি এক নয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.