কৃষক আন্দোলনের ধাত্রীভূমি থেকে উত্তরপ্রদেশে শুরু সাতদফার নির্বাচন, ফের ক্ষমতায় আসার দাবি মোদির

Home দেশের মাটি কৃষক আন্দোলনের ধাত্রীভূমি থেকে উত্তরপ্রদেশে শুরু সাতদফার নির্বাচন, ফের ক্ষমতায় আসার দাবি মোদির
কৃষক আন্দোলনের ধাত্রীভূমি থেকে উত্তরপ্রদেশে শুরু সাতদফার নির্বাচন, ফের ক্ষমতায় আসার দাবি মোদির

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: কথায় বলে দিল্লির মসনদ দখলের পথ যায় উত্তর প্রদেশ হয়েই। ২০২৪ লোকসভা ভোটের সেমিফাইনাল অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের সাতদফা ভোটগ্রহণ পর্বের আজ প্রথম দিন।

কোভিড বিধিনিষেধ মেনেই বৃহস্পতিবার প্রথম দফার পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের ১১ জেলার ৫৮ আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ভাগ্য নির্ধারিত হবে ৬২৩ জন প্রার্থীর। উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৭ সালের বিধানসভা ভোটে এই ৫৮ আসনের মধ্যে বিজেপি ৫৩টিতেই জিতেছিল। অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি এবং বিএসপি ২টি করে এবং একটি আসন পায় আরএলডি। গত ভোটে সংশ্লিষ্ট এলাকায়, মুজফ্‌ফরনগর হিংসার ভালোমতো প্রভাব পড়ে। ভোটের মেরুকরণ স্পষ্ট হয়। যার জেরে জাঠ প্রভাবিত এই এলাকায় গেরুয়া শিবিরের  বিপুল জয় হয়। তবে এ বার ভোট সমীকরণ ভিন্ন। এই এলাকায় এসপি-আরএলডি এবার একজোট হয়ে বিজেপিকে কড়া টক্কর দিতে তৈরি।

প্রথম দফার ভোটে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন নয়ডা থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের ছেলে পঙ্কজ এবং আগ্রা থেকে উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন রাজ্যপাল বেবিরানি মৌর্য। অত্রৌলি থেকে লড়ছেন রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংহের নাতি সন্দীপ সিং। এঁরা সকলেই বিজেপির প্রার্থী। প্রসঙ্গত, ৪০৩ আসনের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার সাতদফা ভোটপর্ব শেষের দিন  আগামী ৭ মার্চ। বাকি চার রাজ্যের সঙ্গেই উত্তরপ্রদেশের ভোটগণনা ১০ মার্চ।

করোনা পরিস্থিতির পর যোগী সরকারের প্রতি উত্তরপ্রদেশের মানুষ যে খুশি নন, তা স্পষ্ট । সম্ভবত সে কথা মাথায় রেখেই নির্বাচন শুরুর প্রাক্কালে, পাঁচ রাজ্যের ভোট নিয়ে বড়সড় দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলে দিলেন, শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, পাঁচ রাজ্যেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা দখল করবে বিজেপি। মানুষ আবার বিজেপিকেই শাসনের সুযোগ দেবে। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী এদিন দাবি করেছেন, ‘৫ রাজ্যেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বিজেপি। রাজ্যে রাজ্যে বিজেপির  ঢেউ চলছে। আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছি। মানুষ আবার আমাদের সেবার সুযোগ দেবেন। সবাই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার কথা বলে। আমরা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে হাওয়া তৈরি করেছি।’

প্রধানমন্ত্রীর  বক্তব্য, ‘আমরা সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস নীতিতে চলি। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে বিজেপি। ভোট হোক বা না হোক, ক্ষমতায় থাকি বা না থাকি। বিজেপি সবসময় মানুষের সেবায় ব্রতী থাকে। আগে মানুষ কাজ দেখতে পেতেন না, শুধু ঘোষণা শুনতেন। আগের সরকার ফাইলের ছিল। এখনকার সরকার কাজের।’

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু উত্তরপ্রদেশই নয়, পঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, গোয়া এবং মণিপুরেও এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি গেরুয়া শিবির। বিশেষত পঞ্জাবে বিজেপি সেভাবে ঘর গুছিয়ে উঠতে পারেনি। উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে উত্তরাখণ্ডেও বিজেপির গদি টালমাটাল। গোয়া এবং মণিপুরে অবশ্য বিরোধী শিবিরের ভোটভাগ থেকে বিজেপি কিছুটা ফায়দা তুলতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও লড়াইটা কঠিনই। ঠিক এই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে, দলীয় কর্মীদের ভোকাল টনিক দিতেই স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী দাবি করে বসলেন, সব রাজ্যেই বিজেপি জিতবে।

এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী উত্তরপ্রদেশ নিয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ অখিলেষ যাদবের সমাজবাদী পার্টিকে নিশানায় রাখেন। বলেন, ‘ আগে উত্তরপ্রদেশে গুন্ডারাজ চলত। মাফিয়ারাজ চলত। যোগীর  দৌলতে অপরাধমুক্ত হয়েছে উত্তরপ্রদেশ। একটা সময় গুন্ডারা উত্তরপ্রদেশে যা খুশি করতে পারত। মহিলারা সুরক্ষিত ছিল না। বাড়ি থেকে বেরোতে পারত না। কিন্তু এখন উত্তরপ্রদেশে মহিলারা নিরাপদ। অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন যোগীজি।’

একদিকে মোদি যখন কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে যোগীর আমলে উত্তরপ্রদেশে সুশাসনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তখনই রাজ্যবাসীর কাছে বিতর্কিত ট্যুইটবার্তা উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর। ট্যুইটে যোগী আদিত্যনাথ, রাজ্যবাসীকে ভোটদানের অনুরোধ নিয়ে লিখেছেন, ‘অবশ্যই ভোট দিন। আপনার একটি ভোট উত্তরপ্রদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। নইলে কাশ্মীর, কেরল ও বাংলা হতে বেশি সময় লাগবে না উত্তরপ্রদেশের।’ ভোটের ঠিক আগে তাঁর এ হেন বার্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

এদিকে বিজেপিকে চাপে রাখতে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় এলে ১০ দিনের মধ্যে উত্তরপ্রদেশে কৃষকদের ঋণ মকুব করার প্রতিশ্রুতি দিল কংগ্রেস। শুধু তাই নয়, কথা দিল কৃষিক্ষেত্রে বিদ্যুতের বিলও অর্ধেক করে দেওয়া হবে। একেবারে শেষলগ্নে প্রকাশিত কংগ্রেসের ইস্তাহারে জানিয়ে দেওয়া হল, কোভিড আক্রান্ত দরিদ্র পরিবারগুলোকে ২৫ হাজার টাকা এককালীন সাহায্যের কথা। ইস্তাহারে আরও বলা হয়েছে, যে কোনও রোগে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিত্সা বিনামূল্যে মিলবে। দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির প্রতিটি ছাত্রীকে স্মার্টফোন দেওয়া হবে। কলেজের ছাত্রীদের দেওয়া হবে ইলেকট্রিক স্কুটি।

কংগ্রেসের ইস্তাহারে দেওয়া এই সব প্রতিশ্রুতিতে রীতিমতো বিপাকে পড়ে গিয়েছে সমাজবাদী পার্টি এবং ভারতীয় জনতা পার্টি। মঙ্গলবারই এই দুই দল তাদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছে। সেখানে সমাজবাদী পার্টি মনরেগা এবং আরবান এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্টে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারি চাকরির ৩৩ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের মধ্যে কৃষকদের ঋণমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এসবের সঙ্গে পাল্লা দিতে বিজেপিও নিজস্ব ইস্তাহারে কৃষকদের সেচের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, হিন্দুত্ববাদকে চাগিয়ে তুলতে লাভ জিহাদের শাস্তি সর্বনিম্ন ১০ বছরের কারাদণ্ড করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সঙ্গে একলক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করা হবে বলেও ইস্তাহারে জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.