কী আনন্দ! কংগ্রেসের (congress) টিকিটে জিতে তামিলনাড়ুর কর্পোরশনের মেয়র অটো চালক

Home দেশের মাটি কী আনন্দ! কংগ্রেসের (congress) টিকিটে জিতে তামিলনাড়ুর কর্পোরশনের মেয়র অটো চালক
কী আনন্দ! কংগ্রেসের (congress) টিকিটে জিতে তামিলনাড়ুর কর্পোরশনের মেয়র অটো চালক

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: খুশি আর ধরে না! আর হবে নাই বা কেন! সামান্য অটোচালক থেকে মেয়র (mayor)। যাত্রাপথ মসৃন ছিল না, তবু সাফল্য় হাতের মুঠোয় আসতেই আবেগ তাড়িত কে সারাভানান। তিনি পেশায় আটোচালক। তিনি কংগ্রেসের (congress) সহসভাপতি। প্রথমে তিনি পুরযুদ্ধে জয় করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হন। তারপর কুম্বাকোনাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র। ২০ ডিসেম্বর এই মিউনিসিপ্যালিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। সাম্প্রতিক পুর নির্বাচনে ৪৮ ওয়ার্ডের মধ্যে ডিএমকে এবং তাদের শরিক মিলে ৪৮ টা আসনের মধ্যে ৪২টায় জয় পায়।

কে সারাভানন (৪২), একজন অটো চালক (auto driver) এবং কংগ্রেসের (congress) সভাপতি। সারাভানন ১৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জিতেছেন। ডিএমকে মেয়র পদটি কংগ্রেসকে (congress) ছেড়ে দেওয়ার পর, তামিলনাড়ু (tamilnadu) কংগ্রেস কমিটি সারাভাননকে বেছে নেয়। একজন অনুগত দলীয় কর্মী, তিনি ১০ বছর ধরে কুম্বাকোনম শহর কংগ্রেসের (congress) সহসভাপতি ছিলেন। সূত্র জানায় যে তিনি অটোর মালিক, তাঁর স্ত্রী দেবী এবং তিন ছেলে। এঁদের নিয়ে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাঁর হলফনামা অনুসারে, সারাভানানের অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৪.৫৫ লক্ষ টাকা এবং তার স্ত্রীর কাছে ২৫০০০ টাকা রয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন সারাভানন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই খবর অত্যন্ত ইতিবাচক। দক্ষিণ ভারতে ক্রমশই ভারতীয় গণতন্ত্রের চর্চা বৃদ্ধি পাচ্ছে এভাবেই। সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষ, পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষের শাসন কাজে অংশগ্রহণ ঘটলে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হয়। 

কিছুদিন আগে হয়ে গেছে তামিলনাড়ুর (tamilnadu) পুরনির্বাচন। তামিলভূমের পুরভোটে দাপটে উড়ছে শাসক ডিএমকের বিজয় নিশান। ২১ টি কর্পোরেশনেই স্ট্যালিনের দল ডিএমকের জয়য়কার। শুধু তাই নয়, বিরোধী এআইডিএমকের শক্ত ঘাঁটি এডাপাড্ডির মতো এলাকাতেও জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাঘম (ডিএমকে)। ভোটের পর এই সাফল্যকে দ্রাবিড় মডেলের জয় বলে ব্যাখ্যা করেছেন ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন।

তামিলনাড়ু পুরনির্বাচনের ভোট-গণিতে অসামান্য সাফল্যের পরিচিয় দিয়েছে ডিএমকে। বিরোধী এআইডিএমকের পাওয়ার হাউস হিসাবে খ্যাত এডাপ্পাডি কেন্দ্র ছিনিয়ে নিয়েছে ডিএমকে।

উল্লেখ্য, এই কেন্দ্র প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ইপি পালানিস্বামীর হোম-পিচ বলে খ্যাত তামিল রাজনীতিতে। কংগ্রেস দলের (congress party) সঙ্গে জোট বেঁধে ডিএমকের এই সাফল্যের তালিকায় রয়েছে ২১ টির মধ্যে সব কয়টি কর্পোরেশনে প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার অঙ্কও। উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুকে ২১ টি পুর কর্পোরেশন, ১৩৮ টি পুরসভা, ৪৯০ টি শহর পঞ্চায়েতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি। ৬৪৯ টি কেন্দ্রের ফলাফল এদিন ঘোষিত হয়। আর তা ঘোষিত হতেই দেখা যায়, সমস্ত স্তরের আসনে সিংহভাগে দখল রয়েছে শাসক ডিএমকে। উল্লেখ্য, প্রথমে ১২৮৩৮ আসনের ৭৪,৪১৬ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণের ফলাফল প্রকাশ্যে আসে।

ভোটে আলাদা করে নজর কেড়েছেন কোয়েম্বাট্যুরে ডিএমকের প্রার্থী গঙ্গা নায়র। এই সমলিঙ্গ প্রার্থীকে ঘিরেও ছিল রাজনৈতিক মহলের ফোকাস। আর ভোট বৈতরণী তিনিও পার করে গিয়েছেন। তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জায়গায় যেমন করুণানিধি পার্টি দাপট দেখিয়েছে,তেমনই রাজধানী চেন্নাইয়ের কর্পোরেশন দখলে রাখতেও তারা পেরেছে।

এদিকে, তামিলাড়ুর পুরভোটে ডিএমকে ঝড়ে যখন তছনছ বিরোধী এআইডিএমকের দুর্গ, তখনই এআইডিএমকের জোটসঙ্গী, বিজেপি কার্যত মাত করে দেয় এই ভোটপর্ব। এবারের তামিলনাড়ু ভোটে  বিজেপি তৃতীয় সর্ববৃহৎ দল। উল্লেখ্য, চেন্নাইতে ডিএমকের শক্ত ঘাঁটি ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে জয় পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী উমা আনন্দন। এদিকে, তামিলনাড়ুর স্থানীয় কিছু ভোটে প্রায় ১০ এর বেশি আসনে এগিয়ে থাকেন বিজেপি প্রার্থীরা। তিরুপুরের একটি ওয়ার্ডে ২৩০ ভোটে জয় ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। এছাড়াও করুর, নাগেরকয়েলে বিজেপি রমরমা। উল্লেখ্য, যেখানে তামিলভূমের ভোটপর্বে প্রবলভাবে আহত এআইডিএমকে, সেখানে জোটসঙ্গী বিজেপির তৃতীয় বৃহত্তম পার্টি হিসাবে উঠে আসা একটি বড় দিক। ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে এই অঙ্ক যে তামিল রাজনীতিকে কে আলাদাভাবে তাৎপর্য দেবে তা বলাই বাহুল্য।

এই ভোট প্রথম থেকে গুরত্ব পেয়েছে। কংগ্রেস (congress) উঠে এসেছে। আর বিজেপির পাখির চোখ ২০২৪। এখানে মাটি কামড়ে পড়ে থাকার চেষ্টা করে বিজেপি। পুরভোটে বিজেপির সাফল্য তাদের খানিকটা অক্সিজেন দিল বলা যায়। দেশের রাজনীতিতে তামিনাড়ু গুরুত্বপূর্ণ। তাই জয়ললিতার রাজ্যকে মোটেই হালকাভাবে নেয়নি বিজেপি। এদিকে কংগ্রেসও এক অটোচালককে মেয়র করে বাজিমাত করতে চাইছে। তারা বোঝাতে চাইছে, তাদের দলে গণতন্ত্র রয়েছে। সে যাই হোক, মোদ্দা কথা হল, সাফল্যের স্বাদ এক অটোচালক তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছেন। যতদূর জানা গেছে, মেয়র (mayor) তাঁর পরিবারের সদস্যরা খানিক অবাক। তবে ভতরে ভেতরে আবেগতাড়িত। তাঁরা ধন্যবাদ জানাচ্ছেন কংগ্রেসকে। সদ্য এই মেয়রের কথায়, তিনি স্থানীয়দের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করবেন প্রথম থেকে। নিজের দায়িত্ব পালন করবেন যাথাসাধ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.