কাশ্মীর নিয়ে নাক গলাতে শুরু করেছে চিন, ভালো ভাবে দেখছে না নয়াদিল্লি

Home দেশের মাটি কাশ্মীর নিয়ে নাক গলাতে শুরু করেছে চিন, ভালো ভাবে দেখছে না নয়াদিল্লি
কাশ্মীর নিয়ে নাক গলাতে শুরু করেছে চিন, ভালো ভাবে দেখছে না নয়াদিল্লি

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: আবার স্বমহিমায় চিন। কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে আবারও নাক গলাতে শুরু করে দিল চিন। সৌজন্যে চিন-পাকিস্তান নয়া সিপিইসি চুক্তি। বেজিংয়ে আয়োজিত শীতকালীন অলিম্পিক্স উপলক্ষে চারদিনের চিন সফরে যান পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেখানেই সিপিইসি প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। আর সেই চুক্তিকে শিখণ্ডী করেই কাশ্মীর ইস্যুতে ফের একবার পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন চিনের প্রেসিসেন্ড শি জিনপিং। তাঁর বক্তব্য, কাশ্মীর সমস্যার ‘যথাযথ এবং শান্তিপূর্ণ’ সমাধান চায় বেজিং! এবং এক্ষেত্রে কোনও ‘এক পাক্ষিক পদক্ষেপ’ই চিনের সরকার সমর্থন করবে না!

রবিবার ছিল ইমরানের চিন সফরের শেষ দিন। ওই দিনই তাঁকে আলোচনার জন্য ডেকে পাঠান শি জিনপিং। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনায়কের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়। যার মধ্যে China-Pakistan Economic Corridor (CPEC)-ই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কেন এই প্রকল্পর রূপায়ণে দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে ইমরানকে প্রশ্ন করেন জিনপিং। ইমরান অবশ্য দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সবরকম সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাকিস্তানের মাটিতে আরও একাধিক চিনা প্রকল্পের কাজ চলছে। অভিযোগ, ইদানীংকালে সেইসব প্রকল্প এলাকায় নিযুক্ত চিনা আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন বেজিং। পাক প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন জিনপিং।চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সম্মান যাতে কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জিনপিং। এই বিষয়গুলিতে ইসলামাবাদকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলা লড়াইতেও ইসলামাবাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন চিনের রাষ্ট্রপ্রধান। আর ঠিক এখানেই উঠে এসেছে কাশ্মীর প্রসঙ্গ। ইমরান খান এবং শি জিনপিং, দু’জনেই মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পাশাপাশি এশিয়ার এই অংশের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতেও চিন ও পাকিস্তানের বোঝাপড়া এবং সহযোগিতা আবশ্যিক।কাশ্মীরও তার ব্যতিক্রম নয়!চিনা সংবাদমাধ্যমে এই প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বেজিংকে বিস্তারিত তথ্য পেশ করেছে ইসলামাবাদ। চিনের সরকার মনে করে, কাশ্মীর সমস্যার সূত্র রয়েছে ইতিহাসে এবং এই সমস্যা মেটাতে শান্তিপূর্ণভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরই পক্ষপাতী বেজিং। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও এই ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উপর জোর দিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করেই চিন সরকার কাশ্মীর নিয়ে কোনও পক্ষেরই একক পদক্ষেপকে সমর্থন করে না। প্রসঙ্গত, এর আগে কাশ্মীর ইস্যুতে চিন এবং পাকিস্তান, উভয় পক্ষের হস্তক্ষেপই খারিজ করে দিয়েছে ভারত। আমেরিকা এ নিয়ে মধ্যস্থতা করতে চাইলেও নারাজ নয়াদিল্লি। এই অবস্থায় সিপিইসি -কে অস্ত্র করে ফের একবার কাশ্মীর নিয়ে চিনের আগ্রহ ভারতের সমস্যা বাড়াবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।এদিকে বৈঠকের পর কাশ্মীর ইস্য়ুতে চিন ও পাকিস্তানের তরফে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশই চায় দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় থাকুক। তাই যাবতীয় সমস্যার সমাধান শান্তিপূর্ণ পথেই করতে হবে। এরপর চিন জানায়, জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে কাশ্মীর নিয়ে কোনও একতরফা সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে রাজি নয় চিন। এতে জটিলতা বাড়বে। উল্লেখ্য, এর আগে লাদাখকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করায় ভারত তার তীব্র বিরোধিতা করেছিল।

গোটা বিশ্বে এমনিতেই সন্ত্রাসের আশ্রয়দাতা হিসেবে কোণঠাসা ইমরান খানের দেশ। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে আর্থিক মদত দেওয়ার অভিযোগে ঢুকতে হয়েছে এফএটিএফের (FATF) ধূসর তালিকাতে। এরই পাশাপাশি তাদের বিরাট মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে মুদ্রাস্ফীতি। যা ভেঙে দিয়েছে ৭০ বছরের রেকর্ড। এমন পরিস্থিতিতে চিন সফরে গিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন চিনা সরকারের মালিকানাধীন এবং বেসরকারি সংস্থাগুলির শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও। তাঁদের কাছে বিনিয়োগের আবেদনের পাশাপাশি চিনের থেকে ঋণও চান তিনি। আর চতুর্থ দিন জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় ফের চিনকে নিজেদের পাশে পেল পাকিস্তান।
চারদিনের সফরের চতুর্থ দিন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ইমরান। যেখানে চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে আর্থিক করিডরের কাজের প্রথম উঠে আসে। কাজ দ্রুতগতিতে না এগোনোয় উদ্বেগ প্রকাশ করেন জিনপিং। পাশাপাশি পাকিস্তানকে আরও জঙ্গিদমন করার পরামর্শও দেওয়া হয়। পাক ভূমে চিনা প্রকল্পের উপর সন্ত্রাস হামলায় অসন্তোষ প্রকাশ করে চিনা প্রেসিডেন্ট জানান, জঙ্গিদমনে চিনও পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াবে। আর্থিক করিডরের কাজের গতি বাড়াতে ইমরান সরকারকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাসও দেয় চিন। জানানো হয়, দুই দেশের ইকোনমিক করিডর মজবুত করতে ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৪৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.