কাটা ঘা সারাতে মা শিম্পাঞ্জির পছন্দ উড়তে থাকা পোকা, গবেষকরা বলছেন এটাই প্রথম

Home আজব কাটা ঘা সারাতে মা শিম্পাঞ্জির পছন্দ উড়তে থাকা পোকা, গবেষকরা বলছেন এটাই প্রথম
কাটা ঘা সারাতে মা শিম্পাঞ্জির পছন্দ উড়তে থাকা পোকা, গবেষকরা বলছেন এটাই প্রথম

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: সবুজ জঙ্গলে সন্তানদের নিয়ে খেলা করছিল মা শিম্পাঞ্জি। তার ছোট্ট ছেলের পায়ে একটা আঘাত লেগেছে। কেটে গিয়েছে। ঘায়ের মতো হয়ে গেছে। সন্তানের কষ্ট সহ্য করতে পারেনি মা। অনেক ভেবে মা নিজেই ওষুধ বের করে। উড়তে থাকা পোকা। তা প্রয়োগ করে সন্তানের কাটা জায়গায়।সন্তানের কষ্ট মায়ের চেয়ে ভালো কেউ বোঝে না। একটি ভিডিওতে ধরা পড়েছে যে মা শিম্পাঞ্জি ছেলের কষ্ট দেখে হঠাৎ তার পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি পতঙ্গকে খপাৎ করে ধরে ফেলে। তারপর সেটা মুখে পুরে দেয়।তার ঠোঁট দিয়ে পোকাটিকে কার্যত চটকে ফেলে শিম্পাঞ্জিটি। তারপর তা মুখ থেকে বার করে লাগিয়ে দিতে থাকে ছেলের কাটায়। এই চটকে ফেলা পতঙ্গই তাদের ঘা সারানোর মলমের কাজ করে।

ঘটনাটি ২০১৯ সালের নভেম্বরের। আফ্রিকার গ্যাবনের লোয়ানগো জাতীয় উদ্যানে শিম্পাঞ্জি মায়ের এমন আজব কাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন এক বিজ্ঞানী। শুরু হয় বিষয়টি নিয়ে আরও বিশদে খোঁজ নেওয়া।আর তা নিতে গিয়ে ওই বিজ্ঞানী অনেকটাই নিশ্চিত হন যে শিম্পাঞ্জিরা তাদের কাটা ছেঁড়া সারাতে পোকা ধরে চিবিয়ে তা মলমের মত প্রয়োগ করে থাকে। এটাই তাদের মত করে ওষধি উদ্ভাবন।খোঁজ নিতে গিয়ে প্রায় আশির কাছে এমন ঘটনা দেখতে পান বিজ্ঞানীরা। বিষয়টি কারেন্ট বায়োলজি নামে একটি জার্নালে প্রকাশিতও হয়।তাদের ওষুধ দেওয়ার কেউ নেই। তাই তারাই তাদের চিকিৎসার পথ খুঁজে নেয়। এভাবেই বনের প্রাণিরা নিজেদের মত করে নিজেদের চিকিৎসা করে থাকে। যেমনটা দেখা গেল শিম্পাঞ্জিদের ক্ষেত্রে।
নতুন ভিডিও দারুণ সাড়া ফেলেছে সোশ্য়াল মিডিয়ায়। ছেলের কাটা জায়গায় মা সযত্নে পোকা মলমের মতো লাগিয়ে দিচ্ছে। যেভাবে আমরা ব্যান্ডেজ বেঁধে দিই, অ্যান্টি সেপটিক লাগিয়ে দিই, অনেকটা সেরকমই। বিশ্বের গবেষকরা বলছেন, প্রথমবার শিম্পাঞ্জির এরকম আচরণ সামনে এল। ভিডিও ইউটিউবে পোস্ট করে তাতে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে, নিজেদের ক্ষত সারাতে শিম্পাঞ্জি উড়ন্ত পোকা ব্যবহার করছে। মা শিম্পাঞ্জির নাম সুজি। আর তার ছেলের নাম সিয়া। শিম্পাঞ্জিদের এই নামকরণ করেছেন গবেষকরা। তাঁরা সবসময় শিম্পাঞ্জির কার্যকলাপ নজরে রাখছেন।

ভিডিও-তে কী দেখা যাচ্ছে? মা শিম্পাঞ্জি একটি উড়ন্ত পোকা ধরছে। তারপর তা পিষে মারছে। এরপর তা মলমের মতো সন্তানের কাটা জায়গায় প্রয়োগ করছে। তাদের বিশ্বাস এটা ওষুধের মতো কাজ দেবে। অনেকটা যেন বেটাল ডাইন।
মানুষ ও শিম্পাঞ্জির জিনের মধ্যে ৯৩.৫ থেকে ৯৯.৪ শতাংশ মিল রয়েছে৷ এছাড়া শিম্পাঞ্জিদের চিন্তা করার ক্ষমতা রয়েছে৷রয়েছে আগে থেকে পরিকল্পনা করার দক্ষতা ও দুঃখের অনুভূতি৷তাই কি শিম্পাঞ্জির এরকম আচরণ? এই নিয়ে গবেষকরা মাথা ঘামাচ্ছেন।কারণ শিম্পাঞ্জির এরকম পোকা ধরে চিকিৎসার প্রমাণ আগে পাওয়া যায়নি।গবেষক জেইন গুডঅল হলেন একমাত্র মানুষ, যিনি শিম্পাঞ্জি সমাজে গৃহীত হয়েছিলেন৷ ১৯৬০ থেকে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত তিনি তাদের জীবনযাত্রা লক্ষ্য করেছেন৷ তারাও চুম্বন দিয়ে থাকে৷ আলিঙ্গন করে থাকে৷ পারস্পরিক সম্পর্কের দিক দিয়ে মানুষের সঙ্গে আশ্চর্য রকমের মিল রয়েছে৷কিন্তু চিড়িয়াখানাগুলিতে তাদের যেভাবে রাখা হয় তা রীতিমত দুঃখজনক৷ জার্মানির ৩৮টি চিড়িয়াখানায় ৪৩০টি এইপ রয়েছে৷ পশুপালন আইন অনুযায়ী তাদের রাখার কথা৷ কিন্তু এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ কাজ নয়৷বাইরের চত্বরের বেড়াটা ৫০০ বর্গমিটার হওয়ার কথা৷ কিন্তু প্রায় ক্ষেত্রেই এটা ২০০ বর্গমিটার৷ এছাড়া ভেতরের খাঁচায়, অনেক সময় আলাদা খাঁচায়, মানসিক সমস্যাগ্রস্ত কোনো কোনো গরিলাকে রাখা হয়৷ অনেকটা ‘একক সেলে’ আবদ্ধ করে রাখার মতো৷
এইসব প্রাণীর দুরবস্থা দূর করার ব্যাপারে পশু অধিকারবাদীরা উদ্যোগ নিয়েছেন৷ ২০১১ সালে জার্মানিব্যাপী একটি ‘গ্রেট এইপ প্রকল্প’ যাত্রা শুরু করেছে৷মূল দাবি হল, এই প্রজাতির ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, বাঁচার অধিকার ও শারীরিক অখণ্ডতা সংরক্ষিত করতে হবে৷

গবেষণার প্রয়োজনে এই প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা, হত্যা করা কিংবা তাদের আবাসস্থল ধ্বংস করা নিষিদ্ধ করতে হবে৷ অবশ্য পশু অধিকারবাদীরা এব্যাপারে সচেতন যে, মানুষ ও বন্যপ্রানীদের মধ্য পার্থক্য রয়েছে৷ কিন্তু তবু তাদেরও সম্মানজনকভাবে বাঁচার অধিকার রয়েছে৷ আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করেছেন মনস্তত্ত্ববিদরা৷ আর তা হল অনেক প্রাণীকে ওষুধ দিয়ে শান্ত করে রাখার প্রবণতা৷ ক্লিনিক্যাল মনস্তাত্ত্বিক হিসাবে ড. কলিন অভিজ্ঞ চোখ দিয়ে লক্ষ্য করেছেন এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া৷ ডিপ্রেশন নিরাময়ক ওষুধ অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস দিয়ে রাখা হয় এইপগুলিকে৷ অথচ এটা আসলে মানুষের জন্য তৈরি ওষুধ৷ মানুষের সঙ্গে এদের অনেকাংশে মিল থাকায় আচরণেও এমন মমতা দেখা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.