কলকাতায় রাজ্য দফতর বানানোর প্রস্তুতি শুরু আপের (AAP), চলছে নেতৃত্বের খোঁজও

Home রাজ্য কলকাতায় রাজ্য দফতর বানানোর প্রস্তুতি শুরু আপের (AAP), চলছে নেতৃত্বের খোঁজও
কলকাতায় রাজ্য দফতর বানানোর প্রস্তুতি শুরু আপের (AAP), চলছে নেতৃত্বের খোঁজও

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: কয়েকদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে ভারতবর্ষের পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর ও গোয়াতে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও পাঞ্জাবের (Punjab) শাসনক্ষমতা দখল করেছে আম আদমি পার্টি (AAP) । দিল্লির (Delhi) পর ভারতবর্ষের আরেকটি রাজ্য দখল করলো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের (Arvind Kejriwal) দল। এবার পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন বাড়াতে উদ্যোগী হলো তারা। জানা গিয়েছে, খোদ কলকাতার (Kolkata) বুকেই রাজ্য দফতর বানানোর প্রস্তুতি শুরু করছেন পশ্চিমবঙ্গের আপ নেতারা।

এতদিন রাজ্যে বিচ্ছিন্নভাবে আপের (AAP) কয়েকজন সমর্থক ছিলেন। সেভাবে সংগঠনও ছিল না তাদের। সাধারণত প্রতিটি রাজনৈতিক দলই কোনও একটি দফতর থেকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করে। পশ্চিমবঙ্গে এতদিন আপের কোনও দফতরও ছিল না। কলকাতায় তাদের একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকলেও তাতে এখন আর ভরসা করতে চাইছেন না আপ নেতৃত্ব। তাই রাজ্যের আপ নেতৃত্বকে কলকাতায় একটি দফতর বানানোর নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির নেতারা। সেই আদেশ মোতাবেক মধ্য কলকাতায় দফতর বানানোর জন্য একটি বাড়ি ভাড়া নেওয়ার তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে আপের তরফ থেকে।

জানা গিয়েছে, এই গোটা প্রক্রিয়াটি যথাসম্ভব গোপনেই করা হচ্ছে। দিল্লি থেকেই নির্দেশ এসেছে, আপাতত নীরবেই সব কাজকর্ম করতে হবে। দলীয় মুখপাত্রদেরও এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নিষেধ করা হয়েছে। যদিও তাঁরা জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই আপের (AAP) রাজ্য পর্যায়ের কমিটি গঠিত হতে চলেছে। রাজ্য কমিটি গঠনের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে পশ্চিমবঙ্গের আপ নেতৃত্ব আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি সকলকে প্রকাশ্যে জানাবেন, এমনটাই খবর মিলেছে। ইতিমধ্যেই গঠন হয়ে গিয়েছে আপ মহিলা শাখার স্টিয়ারিং কমিটি। এই প্রসঙ্গে আপের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার নেত্রী তুলিকা অধিকারী জানিয়েছেন, কয়েকদিনই পরই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

প্রসঙ্গত, দিল্লির বাইরে এই প্রথমবার কোনও রাজ্যের ক্ষমতায় এলো আপ (AAP)। বিজেপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে টক্কর দেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখালেন কেজরিওয়াল। নির্বাচনের পরে যে বুথফেরত সমীক্ষাগুলি হয়েছিল, প্রায় প্রতিটি সমীক্ষাই বলেছিল পাঞ্জাবের ক্ষমতা দখল করতে চলেছে আপ। বস্তুত ১১৭টি আসনের মধ্যে ৯২টি আসনে এগিয়ে থেকে পাঞ্জাবে প্রায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। গোটা পাঞ্জাব জুড়েই গত দু’বছর ধরে ছিল বিজেপিবিরোধী হাওয়া। সংসদে বিজেপির আনা তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে যে রাজ্য থেকে কৃষকরা একত্রিত হয়ে আন্দোলন করতে শুরু করেন, সেই রাজ্যটির নাম পাঞ্জাব (Punjab)। সিঙ্ঘু সীমান্তে জমায়েত হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন পাঞ্জাবের কৃষকেরা। এরপর সারা দেশের কৃষকেরা একত্রিত হয়ে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। দেশজোড়া বিক্ষোভের সামনে পিছু হটতে বাধ্য হন নরেন্দ্র মোদি। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি কৃষি আইন বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনটি কৃষি আইন বাতিলের জেরই হয়তো পাঞ্জাব থেকে বিজেপিকে প্রায় মুছে দিয়েছে।

পাঞ্জাবে কেজরিওয়ালের মুখে হাসি ফোটাতে যাঁর অবদান সবথেকে বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, তাঁর নাম ভগবন্ত মান। একদা কৌতুকশিল্পী ভগবন্তই ছিলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী। বৃহস্পতিবার গণনার শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো পাঞ্জাবে ভগবন্তের পরিচয় রাজনীতিবিদ হিসাবে নয়, কৌতুকশিল্পী ও অভিনেতা হিসাবে। নব্বইয়ের দশকে টেপরেকর্ডার-ক্যাসেটের জমানায় ভগবন্তের নাম শুনলেই হাসি খেলে যেতো আমজনতার মুখে। দেশের রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে ভগবন্তের নানা কৌতুকের ক্যাসেট বিক্রি হতো প্রবল পরিমাণে। সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর অভিনীত একটি সিনেমা জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছিল। এখন এই কৌতুকশিল্পীই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী।

দিল্লি ও পাঞ্জাবের পর পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেও সংগঠন বৃদ্ধি করতে তৎপর আম আদমি পার্টি (AAP)। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল গঠনের সময় থেকেই পশ্চিমবঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হয় আপের কাজকর্ম। মধ্য কলকাতার এন্টালি বাজারের কাছে দেব লেনে তৈরি হয় একটি দফতরও। তবে আপের উথ্থানের পর থেকে সেটিকে আর রাজ্য দফতর হিসাবে মানতে চাইছেন না নতুন করে বাংলায় সংগঠন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া আপ কর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আপ নেতা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কলকাতায় দফতর চাইছেন না নেতৃত্ব। তাঁরা চাইছেন, এমন জায়গায় দফতর করা হোক যেখানে হাওড়া, শিয়ালদহের মতো স্টেশন থেকে মানুষ সহজে আসতে পারেন। তাই মধ্য কলকাতাতেই অন্য একটি স্থানে দফতর তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পাঞ্জাবে আপের (AAP) বিপুল জয়ের পর রবিবার কলকাতায় ‘পদার্পণ যাত্রা’ নাম দিয়ে একটি মিছিল করেন আপ সমর্থকেরা। বাংলায় আপের পর্যবেক্ষক সঞ্জয় বসু জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই আপের পশ্চিমবঙ্গ শাখার নামে ফেসবুক ও ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে। তার মাধ্যমেই সদস্য সংগ্রহ অভিযান চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, দিল্লি, পাঞ্জাবের পর বাংলা দখলের লক্ষ্যে এখন থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন আম আদমি পার্টির নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.