উত্তরপ্রদেশে (uttarpradesh) গেরুয়া ঝড়, আবার যোগী রাজ, স্বস্তি মোদী-শাহের

Home দেশের মাটি উত্তরপ্রদেশে (uttarpradesh) গেরুয়া ঝড়, আবার যোগী রাজ, স্বস্তি মোদী-শাহের
উত্তরপ্রদেশে (uttarpradesh) গেরুয়া ঝড়, আবার যোগী রাজ, স্বস্তি মোদী-শাহের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে (uttarpradesh) একেবারে গেরুয়া ঝড়। ফের সংখ্যাগরিষ্ঠ যোগী আদিত্য়নাথের ব্রিগেড। তবে উত্তরপ্রদেশে নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে থেকে জেতার ব্যাপারে যথেষ্ট নিশ্চিত ছিলেন বিজেপি (bjp) নেতৃত্ব। আর ফল ঘোষণা হতেই দেখা গেল যোগী রাজ্যে একের পর এক আসনে জয় পাচ্ছে বিজেপি। অন্য়দিকে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচন। আর তার আগে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে বিজেপির বাম্পার জয় এরাজ্যের বিজেপি কর্মীদেরও অনেকটাই চাঙা করেছে। সন্ধে ৬টায় যে তথ্য সামনে আসছে, তা হল- ৪০৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ২৬৮টি আসনে। সমাজবাদী পার্টি (samajwadi party) এগিয়ে রয়েছে ১৩০টি আসন। এককভাবেই সরকার গড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। 

উত্তরপ্রদেশ (মোট আসন ৪০৩)

দল/জোটএগিয়ে/জয়ী
বিজেপি+২৬৮
এসপি+১৩০
কংগ্রেস
বিএসপি
অন্যান্য

আরও জানতে পড়ুন – Punjab Assembly Election 2022 – জয়ের পর আপের(AAP)বিজয়োল্লাসে ফের দৃশ্যমান ‘বেবি কেজরিওয়াল’

বিজেপি-র আসন কিছু কমল। এটুকুই যা সান্ত্বনা। টানা দ্বিতীয় বার লখনউয়ের মুখ্যমন্ত্রী আবাসের বাসিন্দা থাকছেন যোগী আদিত্যনাথই (yogi adityanath) । বিরোধীদের দাবি ছিল, বিজেপি-র শক্ত ঘাঁটি পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে যে সমীকরণের কাঁধে ভর করে বিজেপি-র জয়জয়কার হয়েছিল, সেই ভাগাভাগির রাজনীতিতে লাগাম পরানো গিয়েছে। মূলত যে জাঠ-মুসলিম যুগলবন্দি চুরমার করে দিয়ে গেরুয়া ঢেউ তুলেছিল বিজেপি (bjp), কৃষক আন্দোলন তাতে প্রলেপ দেওয়াই শুধু নয়, নতুন করে মজবুত করেছে। বিরোধীদের আরও দাবি ছিল, রাজ্যে বেকারত্ব আর মূল্যবৃদ্ধির জোড়া ফলায় বিদ্ধ হওয়া অবশ্যম্ভাবী বিজেপি-র। পাশাপাশি, বৃদ্ধ গবাদি পশু থেকে ঠাকুর সম্প্রদায়ের রমরমা, কত তিরেরই না নিশানা ছিল উত্তরপ্রদেশের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথের সরকার। কিন্তু বৃহস্পতিবার গণনা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোঝা গেল, বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগ এবং দাবিদাওয়ার গঙ্গাপ্রাপ্তি কার্যত সময়ের অপেক্ষা। জীবনের প্রথম বিধানসভা ভোটে লড়ে বিপুল ব্যবধানে জয় তো আসছেই, সেই সঙ্গে যোগীই যে উত্তরপ্রদেশের (uttarpradesh)জন্য ‘উপযোগী’— তা-ও কার্যত বুঝিয়ে দিল দেশের বৃহত্তম রাজ্যের আমজনতা। এই ভোটের ফলাফলে এটাও স্পষ্ট যে, আগামিদিনে উত্তরপ্রদেশে এসপি-ই বিজেপি-বিরোধিতার প্রশ্নে একেবারে সামনের সারিতে থাকবে। এই ভোটের ফলাফলে ভর করে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের রাস্তায় খানিকটা এগিয়ে গেল বিজেপি। এখন দেখার, আগামী লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশের ৮০টি আসনে গত লোকসভা ভোটের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি করতে পারে কি না পদ্মশিবির।

প্রথম বার বিধানসভা ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। সমর্থকদের স্থির বিশ্বাস ছিল, এ বার লখনউয়ের মুখ্যমন্ত্রী আবাসে ‘বিধায়ক’ হিসেবেই ঢুকবেন অখিলেশ যাদব (কারণ, এর আগে অখিলেশ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হলেও ছিলেন বিধান পরিষদের সদস্য)। মুলায়ম-তনয়ের জন্য আসন বেছে নেওয়া হয়েছিল সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র শক্তঘাঁটি মৈনপুরীর করহল।
বৃহস্পতিবার ইভিএমের গণনা বলছে, নিজের আসনে বিপুল জয় পাচ্ছেন। কিন্তু দল বা জোটকে নিয়ে ২০২-এর গণ্ডি টপকাতে ব্যর্থ মুলায়মপুত্র ‘টিপু’। ২০২ আসন তো দূর অস্ত, এসপি জোটকে থামতে হচ্ছে তার বহু আগেই। যদিও দল হিসেবে আগের বিধানসভা (assembly) ভোটের তুলনায় ফল ভাল করেছে এসপি।

এই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠছে, কী করবেন অখিলেশ? সরকার গড়ার লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধে নেমে তিনি কি বিরোধী দলনেতার ভূমিকায় লখনউয়ের বিধানসভায় ঢুকবেন? না কি পরিষদীয় রাজনীতিকে আপাতত বিদায় জানিয়ে ফিরবেন নিজের সাংসদ সত্তাতেই। উত্তরপ্রদেশের আজমগড় লোকসভা কেন্দ্র থেকে এসপি-র সাংসদ তিনি।

অখিলেশ যে রাস্তাই বেছে নিন, উত্তরপ্রদেশে এই বিধানসভা ভোটের পরেও অন্তত একটি উপনির্বাচন হচ্ছেই। হয় আজমগড়। নয় করহল। তবে যোগী আদিত্যনাথের কাছে ‘কিস্তিমাত’ হলেও অখিলেশের রাজনৈতিক জীবন থেমে থাকবে না।

বিরোধীদের দাবি ছিল, বিজেপি-র শক্ত ঘাঁটি পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে যে সমীকরণের কাঁধে ভর করে বিজেপি-র জয়জয়কার হয়েছিল, সেই ভাগাভাগির রাজনীতিতে লাগাম পরানো গিয়েছে। মূলত যে জাঠ-মুসলিম যুগলবন্দি চুরমার করে দিয়ে গেরুয়া ঢেউ তুলেছিল বিজেপি, কৃষক আন্দোলন তাতে প্রলেপ দেওয়াই শুধু নয়, নতুন করে মজবুত করেছে।

জীবনের প্রথম বিধানসভা ভোটে লড়ে বিপুল ব্যবধানে জয় তো আসছেই, সেই সঙ্গে যোগীই যে উত্তরপ্রদেশের জন্য ‘উপযোগী’— তা-ও কার্যত বুঝিয়ে দিল দেশের বৃহত্তম রাজ্যের আমজনতা। বিরোধীরা যে উত্তরপ্রদেশে একেবারে ধূলিসাৎ, তা নয়। বিরোধীদের একমাত্র সান্ত্বনা হল পাঁচ বছর আগের চেয়ে বিজেপি-র আসন সংখ্যা কমে যাওয়া। গত বিধানসভায় বিজেপি এবং তাদের জোটসঙ্গীরা মিলে পেয়েছিল ৩২৫টি আসন। বিজেপি একাই পেয়েছিল ৩১২টি আসন। যদিও এই ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে সাতজন বিধায়ক এসপি-তে যোগ দিয়েছিলেন। ফলে বিজেপি লড়াই শুরু করেছিল ৩০৫টি আসন নিয়ে। সেখানে এ বার হয়তো তারা থামবে তার থেকে ৩০ থেকে ৩৫টি আসন কম নিয়ে। যাই হোক মোদ্দা কথা হল, উত্তরপ্রদেশে যেভাবে গেরুয়া আবীর উড়তে শুরু করেছে, তাতে মোদীর শাহর স্বস্তি বলা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.