‘ইস বার অখিলেশ সরকার… ৩০০ পার’, অখিলেশের হয়ে সপাটে ব্যাট চালালেন দিদি

Home দেশের মাটি ‘ইস বার অখিলেশ সরকার… ৩০০ পার’, অখিলেশের হয়ে সপাটে ব্যাট চালালেন দিদি
‘ইস বার অখিলেশ সরকার… ৩০০ পার’, অখিলেশের হয়ে সপাটে ব্যাট চালালেন দিদি

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: বাংলায় বিজেপিকে ঘায়েল করে দিদির লক্ষ্য এখন উত্তরপ্রদেশ। তবে সেখানে যোগীকে সরানো যে মোটেই সহজ হবে না, তা ভালোই জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অখিলেশকে অক্সিজেন দিতে তাঁর হয়ে ব্যাট ধরলেন দিদি। বিজেপির বিরুদ্ধে ঝড় তুলতে উন্নাও, হাতরাসকেও হাতিয়ার করলেন তিনি।
লখনউতে ‘ভাই’ অখিলেশের সমর্থনে চালিয়ে ব্যাট করলেন ‘দিদি’ মমতা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিশানা করলেন বিজেপিকে। তোপ দাগলেন যোগীর আমলে উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা, নারী নিরাপত্তা নিয়ে। তুলে ধরেন হাথরাস, উন্নাওয়ের প্রসঙ্গ। লখনউয়ের মসনদ দখলে বিজেপির স্লোগান ‘ইসবার তিনশ পার’। যার পাল্টা মমতা বললেন, ‘আবকি বার অখিলেশ ৩০০ পার’। উত্তরপ্রদেশেও ‘খেলা’ শুরু হয়ে গিয়েছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবার মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অখলেশকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের কাছে তাঁর আবেদন, ‘বিজেপিকে হারাতে আমার ভাইকে ভোট দিন।’ প্রচারে তাঁর দাবি, ‘উত্তরপ্রদেশ থেকে বিজেপির চলে যাওয়া মানে গোটা দেশ থেকে বিদায় নেওয়া।’

এ দিনই উত্তরপ্রদেশে জয়ের লক্ষ্যে অমিত শাহ বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশ করেন। যা নিয়েও খোঁচা দিতে ছাড়েননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, ‘শুনেছি আমি আসছি বলে আজ বিজেপি ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করেছে। ওটা ম্যানিফেস্টো নয়, ওটা মানিফেস্টো। আগে করে দেখান। তারপর মুখে বড় বড় কথা বলবেন।’ তাঁর সংযোজন, ‘ শুনেছি আপনারা নাকি স্কুটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। খালি প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছেন। আপনারা খালি মিথ্যা কথা বলেন। টিকা দেওয়ার জন্য টাকা কোথা থেকে আসছে? যোগীজি তো বলেছেন সাত কোটি টাকা খরচ করেছেন। সেই টাকা কি পিএম কেয়ারস থেকে আসছে? ওই তহবিলের তো আবার অডিট হয় না।’

যোগী প্রশাসনের তুলোধনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, ‘উত্তরপ্রদশে গুলির রাজত্ব চলে। বিজেপি ক্ষমতায় থেকেও গুলির রাজনীতি করছেন। এখানে মা-বোনেদের খুব খারাপ অবস্থা।’ হাথরাস-উন্নাওয়ের কথা তুলে ধরে মমতা বলেন, ‘হাথরাস-উন্নাওয়ের মতো ঘটনার জন্য আপনাদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। ইতিহাস এই ঘৃন্য ঘটনা মনে রাখবে। আগে ক্ষমা চান, তারপর ভোট চাইবেন।’
উত্তরপ্রদেশবাসীকে সমাজবাদী পার্টিকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেছেন, ‘এ রাজ্যে নতুন সূর্য আনতে পারবে একমাত্র অখিলেশ। ওঁকে ভোট দিয়ে জেতান।বিজেপিকে কে দেশ থেকে হটানোর কাজটা আপনারাই শুরু করুন।’
আগামী ১৫ তারিখ মোদির লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে সমাজবাদী পার্টির সমর্থনে প্রচারে যাবেন তৃণমূল নেত্রী। অখিলেশ যাদব জিতলে বাংলা আর উত্তরপ্রদেশ মিলে শিল্প তৈরি হবে। লখনউয়ে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, অখিলেশ যাদব জিতলে বাংলা আর উত্তরপ্রদেশ মিলে শিল্প তৈরি হবে। আমরা একসঙ্গে পর্যটন শিল্পের উন্নতি করতে পারব।

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার ভোটে লড়ছে না তৃণমূল। তবে সমাজবাদী পার্টিকে সমর্থন জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অখিলেশ যাদবের আমন্ত্রণে, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটের প্রচারে মঙ্গলবার লখনউয়ে ভার্চুয়াল সভা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এদিন তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে বিজেপি হারলে, দেশেও বিজেপি হারবে। ভোটের পর বিজেপির কাউকে দেখা যায় না। ভোটের পর কোকিলের মতো উবে যায় বিজেপি। হাথরাসের ঘটনার জন্য আগে ক্ষমা চান, তারপর ভোট চাইবে। উন্নাওয়ের ঘটনার জন্য আগে ক্ষমা চাও। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে মমতা বলেন, পবিত্র গঙ্গায় লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেই লাশ তুলে তার সৎকার করেছি। কত মানুষের দেহ আপনারা গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন ? তাঁদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চান আপানারা। কোভিডে যখন মানুষ মরছিল তখন যোগীজি কোথায় ছিলেন ? তখন আপনি বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে গেছিলেন। উত্তরপ্রদেশে যে টাকা বিনিয়োগ হয়েছে বলছেন সেই টাকা কোথায় গেল? সেই অর্থ পিএম কেয়ারে গেছে, অডিট হবে না বলে ? কত পরিযায়ী শ্রমিক অনাহারে মারা গেছেন? কোভিডে, কৃষক আন্দোলনে, এনআরসি আন্দোলনে বহু মানুষ মারা গেছেন। তাঁদের সবার পরিবারের একজনকে রেলে চাকরি দিতে হবে। ম্যানিফেস্টোতে আগে সেকথা লিখুন।
একইসঙ্গে এদিন তিনি বলেন, সাতমাস আমাদের দেশের কৃষকরা রাস্তায় বসেছিলেন। মন্ত্রীর ছেলে গাড়ি নিয়ে তাদের পিষে দিয়েছে। তার জন্য অন্তত ক্ষমা চাওয়া উচিত। বিজেপি এখন ভারতের জন্য বিপজ্জনক রাজনৈতিক দল। মা-বোনরা যদি এককাট্টা হতে পারেন তাহলেই বিজেপিকে হারানো সম্ভব। অখিলেশের হয়ে ঝড় তুললেন দিদি। যদিও বিভিন্ন সমীক্ষা এগিয়ে রেখেছে যোগীকে। বিভিন্ন সমীক্ষার বিচারে দ্বিতীয় স্থানে আসতে পারে অখিলেশ। কিন্তু অখিলেশ শেষ কামড় দিতে দিদিকে সঙ্গে নিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের মানুষ কী রায় দেন, দেখা যাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.