‘এখানে মরি মরব, এদের ছেড়ে যাব না’! পোষ্য দুই চিতাকে ফেলে ইউক্রেন ছাড়তে নারাজ  ভারতীয় (Indian) ডাক্তার

Home Uncategorized ‘এখানে মরি মরব, এদের ছেড়ে যাব না’! পোষ্য দুই চিতাকে ফেলে ইউক্রেন ছাড়তে নারাজ  ভারতীয় (Indian) ডাক্তার
‘এখানে মরি মরব, এদের ছেড়ে যাব না’! পোষ্য দুই চিতাকে ফেলে ইউক্রেন ছাড়তে নারাজ  ভারতীয় (Indian) ডাক্তার

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্থ ইউক্রেন(Ukraine) ছেড়ে এখন প্রাণ বাঁচাতে স্বদেশে আসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন ভারতীয় পড়ুয়া বা অনাবাসীরা। কেন্দ্রের তরফে নেওয়া হয়েছে তাঁদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ। এই পর্বের উদ্ধারকাজের নাম দেওয়া হয়েছে, অপারেশন গঙ্গা। কিন্তু প্রবাসী ভারতীয়দের(Indian) ভিড়ে এমন একজন রয়ে গেছেন, যিনি এখনই দেশে ফিরতে চান না।

ভারত সরকার অনেককেই পোষ্য নিয়ে দেশে ফিরতে সাহায্য করলেও, এক্ষেত্রে বিষয়টা অতটাও সহজ ছিল না। কারণ এই ভারতীয়(Indian)  ডাক্তারের অন্যতম দুটি প্রিয় পোষ্যের একটি জাগুয়ার এবং অন্যটি চিতা। তাদের নিয়ে তিনি রয়ে গেছেন বাড়ির বাঙ্কারেই।

আরও জানতে পড়ুন – Russia Ukraine War: হাতে মায়ের চিঠি, ১৪০০ কিমি পথ হেঁটে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পথিক এক বালক

বছর চল্লিশের ডাক্তার কুমার বান্দি। ইউক্রেনবাসী এমন এক ভারতীয়(Indian), যিনি তাঁর পোষ্যদের মৃত্যুর মুখে ফেলে, নিজের প্রাণ বাঁচাতে দেশে  ফিরতে নারাজ। কুমার বান্দির আদি বাড়ি, অন্ধ্র প্রদেশের পশ্চিম গোদাবরী জেলার তানুকু শহরে। বর্তমানে থাকে ইউক্রেনের রাজধানী কিভ(Kyiv) থেকে ৮৫০ কিমি দূরের শহর ডনবাসে। দীর্ঘদিন ইউক্রেনের বাসিন্দা কুমার, সেখানে পড়তে যাওয়া ছাত্রদেরও(Indian)  নিজে উদ্যোগ নিয়ে নিকটবর্তী সীমান্তে পৌঁছতে লাগাতার সাহায্য করে যাচ্ছেন। যাতে তাঁরা ভারতে ফিরতে পারেন। যদিও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্য এবং বন্ধুবান্ধব দেশে ফিরে এসে তাঁকে বারবার ভারতে ফিরে আসার অনুরোধ করলেও এতটুকু টলাতে পারেনি। আত্মীয় পরিজনদের কাছে তিনি বারবার একই কথা বলেছেন, এই পোষ্যরাও তাঁর পরিবারের একজন। সুতরাং তাদের একা ফেলে আসার মতো অমানবিক কাজ তিনি করতে পারবেন না। জাগুয়ার(leopard) আর কালো চিতাটি (black panther) ছাড়াও, তাঁর পরিবারের আরও তিনটি সদস্য হল তিনটি কুকুর।

১৫ বছর আগে ডাক্তারি পড়তে ইউক্রেনে(Ukraine) আসেন কুমার। ২০০৭ সালে দেশ ছাড়ার পর ডাক্তারি পাশ করে, এদেশেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজে যোগ দেন। তারপর থেকে ডনবাসেই পাকাপাকিভাবে বসবাস। কুমার ছোট থেকেই পশুপ্রেমী হিসাবে পরিচিত এবং একটি তেলুগু সিনেমায় এক পর্তুগীজকে চিতা পুষতে দেখেই অনুপ্রাণিত হয়ে কুমারও চিতা পুষে ফেলেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পর থেকেই, বেশ কয়েকদিন যাবৎ বাঙ্কারে পোষ্যদের নিয়ে থাকছেন কুমার। ইউটিউবার কুমার বান্দা নিজের পোষ্যদের নিয়ে ভিডিও আপলোড করতে শুরু করেন। সেখানেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, তাঁর দুই পোষ্য একটি চিতা ও ব্ল্যাক প্যান্থারকে ছেড়ে দেশে ফিরবেন না বরং ইউক্রেনে(Ukraine) তাঁর বাড়ির মধ্যে বাঙ্কারে থাকবেন। কারণ তাঁকে ছাড়া ওদের আর দেখার কেউ নেই।      

ওই ভিডিওতে,নিজের পোয্যদের নিয়ে তাঁকে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। ভিডিওতে কুমার বলেন, ‘‌আমি ইউক্রেন ছেড়ে যেতে পারব না কারণ আমার পোষ্য চিতাদের এখানে দেখভাল করার কেউ নেই।’ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে নিজের আগ্রহ এবং বন্যপ্রাণকে ভালোবাসার কথা নিজের ব্লগে শেয়ার করে এই ভারতীয়(Indian) বলেন, ‘‌‌আমি প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে বা ভারতে ফিরে বোমা হামলা থেকে বাঁচতে পারি। কিন্তু আমি চাই না আমার অনুপস্থিতিতে আমার পোষ্যগুলো অনাহারে মারা যাক।’‌

স্থানীয় একটি চিড়িযাখানা থেকে অসুস্থ এবং অনাথ জাগুয়ারটিকে(leopard) উদ্ধার করেন কুমার। পরে চিড়িয়াথানা কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে সেটিকে পুষতে থাকেন। নাম দেন ইয়াশা। কুমার দাবি করেছেন যে এই জাগুয়ারের বিশেষ প্রজাতিটি বিশ্বের বিরলতম এবং তা মাত্র  ২১টি রয়েছে। মাত্র দু মাস আগে ঘরে আনেন ইয়াশার সঙ্গী কালো চিতা সাবরিনাকে। জাগুয়ার ইয়াশার বয়স এখন ২০ মাস এবং কালো চিতা(black panther) সাবরিনার বয়স মাত্র ৬ মাস।

এখন এরাই তাঁর ধ্যানজ্ঞান। বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডাক্তার কুমার জানিয়েছেন, চারদিকে বোমা হামলা চলছে। পোষ্যগুলিও সেই শব্দে ভয় পেয়ে যাচ্ছে। চারদিকের পাল্টে যাওয়া পরিস্থিতিতে প্রাণীগুলি এতটাই আতঙ্কিত যে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও করছে না। এখন দিনরাত বাঙ্কারই তাদের ভরসা।

যদিও তাঁর বন্ধু ও পরিবার দেশে ফিরে এসে কুমারকে তাঁরা সকলেই তাঁর সুরক্ষার জন্য ওই দেশ ছেড়ে আসার কথা বলেন। কিন্তু কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তাঁর পোষ্যরা তাঁর পরিবারের মতো এবং তিনি কখনও তাদের ছেড়ে আসবেন না। কুমার তাঁর ব্লগে বলেন, ‘আমি যদি তাদের পরিত্যাগ করি, তারা অবশ্যই মারা যাবে, এবং আমি তা সহ্য করতে পারব না, আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তাদের দেখব এবং যদি আমি মারা যাই তবে আমি তাদের সঙ্গে মরব।’‌

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই, ইউক্রেন থেকে প্রায় একইভাবে নিজের পোষ্যটিকে ছাড়া কোনওভাবেই দেশে ফিরবেন না বলে জানিয়ে দেন ভারতীয়(Indian) ছাত্র ঋষভ কৌশিক। ভিডিও পোস্ট করে সমস্যার কথা তুলে ধরেন, খারকিভ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া এবং দেহরাদুনের বাসিন্দা ঋষভ। পোষ্যটিকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে ফেরার জন্য মোদি সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছিলেন। সারাক্ষণ গুলি, বোমার শব্দে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে আনা কুকুর ছানাটির প্রাণ বাঁচিয়ে, তার সঙ্গে এক মায়ার বন্ধনে জড়িয়ে যায়। অবশেষে অপারেশন গঙ্গায়, নিজের বিলিতি সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়েই দেশে ফিরেছেন ঋষভ। তাই এখনও আশায় আছেন ডাক্তার কুমার বান্দা। তাঁর পোষ্যদের যদি সঙ্গে নিয়ে আসার অনুমতি পান!

Leave a Reply

Your email address will not be published.