ইংরাজিতে নয়, বিশেষজ্ঞের প্রশ্নের উত্তর হিন্দিতে দিয়ে ফের একবার ভারতীয়দের হৃদয় জয় যশ ধুল ও রাজ বাওয়ার

Home খেলাধুলো ইংরাজিতে নয়, বিশেষজ্ঞের প্রশ্নের উত্তর হিন্দিতে দিয়ে ফের একবার ভারতীয়দের হৃদয় জয় যশ ধুল ও রাজ বাওয়ার
ইংরাজিতে নয়, বিশেষজ্ঞের প্রশ্নের উত্তর হিন্দিতে দিয়ে ফের একবার ভারতীয়দের হৃদয় জয় যশ ধুল ও রাজ বাওয়ার

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: যে কোনও ম্যাচের শেষে সাংবাদিক সম্মেলন কিংবা বিশেষজ্ঞদের প্রশ্নের উত্তর সাধারণত ইংরাজিতেই দিয়ে থাকেন খেলোয়াড়রা। এই রীতিই এতদিন দস্তুর ছিল। এর জন্য বর্তমানে একজন খেলোয়াড়কে ভালো খেলার পাশাপাশি স্পোকেন ইংলিশেও যথেষ্ট সড়গড় হতে হতো। কিন্তু ক্রিকেট এক বৈচিত্র্যময় খেলা। কয়েকদিন আগে পর্যন্ত মাঠের সেরা খেলোয়াড়ও যদি ভালোভাবে ইংরাজিতে কথা বলতে না পারতেন, তাঁকে দর্শকরা হীনদৃষ্টিতে দেখতো। এক অদ্ভুত কথাও প্রচলিত ছিল ক্রীড়াজগতে। আজকের এই বিজ্ঞাপন ‘শাসিত’ বাজারে কোনও ক্রিকেটার যদি ভালো করে ইংরাজি না জানেন কিংবা ইংরাজিতে কথা বলতে না পারেন, তবে মনে করা হতো ওই ক্রিকেটার ‘বিপণনযোগ্য’ নন। সেই কারণে ব্যাটে বলে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স করলেও বিজ্ঞাপনের বাজারে তাঁর দর পড়ে যেতো।

সময় বদলাচ্ছে, একই সঙ্গে বদলাচ্ছে বেশ কিছু পুরনো ধ্যানধারণাও। এবার চিরাচরিত ধারা ভাঙলেন এক নবীন যুবক। তাঁর নাম যশ ধুল। বয়স এখনও উনিশ না পেরোলেও সদ্যসমাপ্ত অনূর্ধ্ব উনিশ বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই। গত শনিবার পঞ্চমবার অনূর্ধ্ব উনিশ বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। ভারতীয় ক্রিকেটার রাজ বাওয়ার দুরন্ত পারফর্ম্যান্সের পর এই জয় এসেছে। বিশ্বকাপ জয়ের পর যশ ধুল ও রাজ বাওয়া যে কটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, সেগুলিতে ইংরাজির বদলে হিন্দিতে উত্তর দিয়েছেন তাঁরা। কারণ হিসাবে স্পষ্টতই জানিয়েছেন, তাঁরা ইংরাজিতে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর হিন্দিতেই দিয়েছেন তিনি।

গত শনিবার ওয়েস্ট ইণ্ডিজের স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডসের নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামে ইংল্যাণ্ডকে চার উইকেটে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ঘরে তোলে ভারত। প্রথম ব্যাটিং করে ইংল্যান্ড। শুরুতেই রবি কুমার এবং রাজ বাওয়ার দুর্দান্ত বোলিং সামলাতে হিমশিম খেয়ে যায় ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা। ব্যক্তিগত ২ রানের মাথায় রবি কুমারের সুইং বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হন ওপেনার জ্যাকব বেথেল। এরপরে কোনও না রান করেই তৃতীয় ওভারে রবি কুমারের বলে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক টম প্রেস্ট। দলগত রান তখন তিন ওভার তিন বলে ১৮। দশম ওভারে রাজ বাওয়ার বলে ব্যক্তিগত ২৭ রানের মাথায় যশ ধুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন অপর ওপেনার জর্জ থমাস। দুই পেসারের দাপটে ধারাবাহিক ভাবে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা আউট হতে থাকেন। চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে নেমে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন জেমস রিউ। ১১৬ বলে ৯৫ রানের দুরন্ত এক ইনিংস খেলেন তিনি। ১৬ টি চারে এই ইনিংস সাজান রিউ। কিছুটা সঙ্গ দেন জেমস সেলস। ৬৫ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। জেমস রিউের অসামান্য ওই ইনিংস না থাকলে ইল্যান্ডের রান তিন সংখ্যায় পৌঁছাত কিনা সন্দেহ। অবশেষে ৪৪.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড তোলে ১৮৯ রান। রবি কুমার ৯ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৪ টি উইকেট নেন। অপর পেসার রাজ বাওয়া ৯.৫ ওভারে ৩১ রান দিয়ে ৫ উইকেট তোলেন। স্পিনার কুশল তাম্বেও একটি উইকেট পান।

ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে যায় ভারত। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে কোনও রান না করেই আউট হয়ে যান ছন্দে থাকা অঙ্ক্রিশ রঘুবংশী। দলগত ৪৯ রানের মাথায় আউট হয়ে যান অপর ওপেনার হর্নুর সিং। সেমিফাইনালে দুরন্ত ইনিংস খেলা সহ-অধিনায়ক শেখ রশিদ ৫০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। আগের ম্যাচে শতক হাঁকানো অধিনায়ক যশ ধুল আজ ব্যর্থ হন। মাত্রন১৭ রান করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। ব্যাটে বলে আজ উজ্জ্বল ছিলেন রাজ বাওয়া। ৩৫ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। তবে নিশান্ত সিঁধুর ৫০ রানের ইনিংস না থাকলে ইংল্যান্ডের রান টপকে যাওয়া কঠিন হতে পারত ভারতের জন্য। দিনেশ রানার ৬ বলে ১৫ রানের ক্যামিও ইনিংসের সাহায্যে ৪৭.৪ ওভারেই প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় টিম ইন্ডিয়া। ইংল্যান্ডের পক্ষে জসুয়া বয়ডেন, জেমস সেলস, থমাস এসপিনওয়াল দুটি করে উইকেট নেন। থমাস এসপিনওয়াল শুরুতেই প্রথম উইকেট তুলে ভারতকে ঝটকা দিলেও শেষ রক্ষা হয় নি। ৬ উইকেট হারিয়েই জিতে যায় ভারত। ব্যাটে বলে দুরন্ত পারফর্ম্যান্স করে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের খেতাব জিতে নেন ভারতের রাজ বাওয়া।

ফাইনালে চার উইকেটে জয়ী হওয়ার পর অনূর্ধ্ব ১৯ ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক যশ ধুল এবং প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ রাজ বাওয়াকে ওয়েলশ ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার এবং প্রাক্তন ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটার অ্যালান উইলকিনসের সঙ্গে কথোপকথনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। সেখানে উইলকিনসের ইংরাজিতে করা প্রশ্ন ধৈর্য্য সহকারে শুনেছিলেন এই দুই ক্রিকেটার। তারপরই ইংরাজির বদলে হিন্দিতে উত্তর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দোভাষীর মাধ্যমে গোটা সাক্ষাৎকার পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। আর এরপরই ভারতীয় ক্রিকেট অনুরাগীরা প্রশংসায় ভরিয়ে দেন এই দুই ক্রিকেটারকে। হিন্দিতে উত্তর দেওয়ার জন্য যশ ধুল ও রাজ বাওয়া নেটিজেনদের একশো শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁদের সমর্থনে একের পর এক পোস্ট করেন সমর্থকেরা।

প্রসঙ্গত, এই বিষয়টি এখানেই প্রথম ঘটেনি। এর আগেও ভারতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাডেজা সঞ্চালকের ইংরাজিতে করা প্রশ্নের উত্তর হিন্দিতে দিয়েছেন। শুধু ক্রিকেটেই নয়, বিশ্ব ফুটবলেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কিংবা লিওনেল মেসির মতো তারকাও নিজেদের মাতৃভাষাতেই সঞ্চালকদের উত্তর দিয়েছেন ও সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। এখান থেকেই একটি বিষয় খুব সহজেই অনুধাবন করা যায়। বিদেশি ভাষায় কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করা কোনওভাবেই কোনও খেলোয়াড়ের অপারগতা নয়, বরং একজন খেলোয়াড়ের পারফর্ম্যান্সই সর্বদা শেষ কথা বলে। আর এই কথাটাই আরও একবার প্রমাণ করলেন যশ ধুল ও রাজ বাওয়া। শুধু ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তরাই নয়, গোটা বিশ্বের ক্রিকেট অনুরাগীরা তাঁদের এই কীর্তিকে কুর্নিশ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.