‘আসল লড়াই চব্বিশেই’! পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের (Assembly Election 2022) পর মোদিকে ‘সাহেব’ সম্বোধন করে হুঁশিয়ারি পিকের

Home দেশের মাটি ‘আসল লড়াই চব্বিশেই’! পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের (Assembly Election 2022) পর মোদিকে ‘সাহেব’ সম্বোধন করে হুঁশিয়ারি পিকের
‘আসল লড়াই চব্বিশেই’! পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের (Assembly Election 2022) পর মোদিকে ‘সাহেব’ সম্বোধন করে হুঁশিয়ারি পিকের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: গতকাল প্রকাশিত হয়েছে উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, গোয়া ও মণিপুরের বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2022) ফলাফল। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে ও মার্চের শুরুতে এই রাজ্যগুলিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের আগে এই রাজ্যগুলির বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির কাছে কার্যত ‘অ্যাসিড টেস্ট’ ছিল। গোটা দেশের নজর ছিল এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের ফলের দিকে। কাল সকাল থেকে ফলপ্রকাশ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরে দেখা যায়, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গোয়া ও মণিপুরে বিপুল সংখ্যক আসনে ভোটে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। বেলা গড়াতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, এই চার রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। কিন্তু উলটপুরাণ দেখা যায় পাঞ্জাবে। সেখানে ৯২টি আসনে জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (AAP)। মাত্র দুটি আসন পায় বিজেপি। আজ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন প্রসঙ্গে নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishore) । ট্যুইটারে তিনি লিখেছেন, পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে চারটি রাজ্যে বিজেপি জয়লাভ করলেও আসল লড়াই হবে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনেই।

শুক্রবার সকালে প্রশান্ত কিশোর ট্যুইটারে লেখেন-‘ভারতে আসল লড়াই হবে ২০২৪ সালে। ওই ভোট কোনও রাজ্যের ভোট নয়। সাহেব তা জানেন। তাই সুচতুর ভাবে বিরোধীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রাধান্য বিস্তারের জন্য বিধানসভা ভোটের ফল ঘিরে উন্মাদনা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই মিথ্যা ব্যাখ্যার শরিক হবেন না।’ পিকে সরাসরি কোনও ব্যক্তির নাম না করলেও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সাহেব’ বলে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই চিহ্নিত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বার্তা দিতে চেয়েছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে। তাই উত্তরপ্রদেশসহ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2022) প্রভাব কোনভাবেই লোকসভা নির্বাচনের ওপর পড়বে না।

ঘটনাচক্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার চারটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটে (Assembly Election 2022) বিজেপির বিপুল ভোটে জয়ের পর চব্বিশের লোকসভা ভোটের প্রসঙ্গ টেনেছিলেন। নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর সফতর থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানানোর পর তিনি বলেন, ভারতের চার প্রান্তের চারটি রাজ্যের এই জয় চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে জয়ের ভিত্তি প্রস্তুত করবে। এই রাজ্যের ফলাফলই চব্বিশের ফলাফল ঠিক করে দিলো। এখানেই থামেননি তিনি।এই প্রথম পরপর দু’বার একই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত করায় তিনি উত্তরপ্রদেশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানান। গোয়াতে তৃতীয়বারের জন্য বিজেপি নির্বাচিত হওয়ায় গোয়াবাসীকেও অভিনন্দন জানান মোদি। উত্তরাখণ্ড ও মণিপুরেও নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বিজেপি, এমনটাও জানান তিনি। বিরোধীদেরও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। তাদের পুরনো কৌশল বদলে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদিই নন, বহু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে এই পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election 2022) ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের আগে কার্যত ‘সেমিফাইনাল’ ছিল। পাঁচ রাজ্যের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের দিকে নজর ছিল গোটা দেশের। যোগী আদিত্যনাথের শাসনকালেই উত্তরপ্রদেশে ঘটেছিল হাথরস, উন্নাওয়ের মতো ঘটনা। এমনকি কয়েক মাস আগে লখিমপুরে কৃষকদের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এক মন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে। সমাজবাদী পার্টির নেতা ও উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী জনসভাতেই হাথরস ও উন্নাওয়ের ঘটনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উত্তরপ্রদেশে অখিলেশের সমর্থনে জনসভায় গিয়ে এই বিষয়গুলির কথা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের ফল বেরোতে দেখা যায়, বিজেপিই দ্বিতীয়বারের জন্য উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতা দখল করতে চলেছে। যদিও গতবারের তুলনায় তাদের আসনসংখ্যা কমেছে।

উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে অখিলেশের সমাজবাদী পার্টিকে সমর্থন করলেও গোয়াতে কিন্তু দলীয় প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল (TMC)। গত কয়েক মাস ধরে গোয়াতে সংগঠন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের তরফে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে গোয়া তৃণমূলের দায়িত্বও দেওয়া হয়। কিন্তু এবারের নির্বাচনে গোয়া থেকে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে তৃণমূলকে। তৃতীয়বারের জন্য গোয়াতে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। যদিও তৃণমূল গোয়াতে যাদের সঙ্গে জোট করেছিল, সেই মহারাষ্ট্র গোমন্তক পার্টি তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে।

উত্তরাখণ্ড ও মণিপুরেও জয়ী হয়েছে বিজেপি। কিন্তু উলটপুরাণ দেখা গেল পাঞ্জাবে। মোদির তিন কৃষি আইনের প্রতিবাদে পাঞ্জাবের সিঙ্ঘু সীমান্ত থেকেই আন্দোলন শুরু করেছিল কৃষকেরা। সেই পাঞ্জাবে মাত্র দুটি আসন পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো বিজেপিকে। পাঞ্জাবের ১১৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৯২টি আসনে জয়লাভ করে দিল্লির বাইরে অন্য রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে আপ।

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2022) ফলাফল প্রমাণ করলো, ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে জাতীয় কংগ্রেস (Congress)। দেশের প্রধান বিরোধী দলের অবস্থা দিনের পর দিন করুণ হচ্ছে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। পাঁচ রাজ্যের একটিতেও ক্ষমতা দখল দূরের কথা, সম্মানজনক আসনও পেলো না তারা। এমনকি পাঞ্জাবেও হারতে হলো তাদের। অনেকের মতে, কংগ্রেস হাইকম্যান্ড ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংকে সরিয়ে চরণজিৎ সিং চান্নিকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী করায় কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সকলের সামনে পরিষ্কার হয়ে যায়। সেই কারণেই হয়তো কংগ্রেসের ওপর আর ভরসা করতে পারেননি পাঞ্জাববাসী।

মোদির মতে, চার রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করছে চব্বিশে দিল্লির কুর্সিতে ফের বসতে চলেছে বিজেপিই। কিন্তু তা মানতে নারাজ প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। সম্প্রতি, তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল রাজ্য রাজনীতিতে। কিন্তু গত মঙ্গলবার মমতা ও অভিষেকের সঙ্গে এক মঞ্চেই দেখা গিয়েছে তাঁকে। অনেকের মতে, পিকের সঙ্গে মমতার দূরত্ব নেহাতই রটনা। পিকে তৃণমূলের সঙ্গেই আছেন। সবশেষে বলা যায়, পাঁচ রাজ্যের মধ্যে চারটি রাজ্যে বিজেপির জয় (Assembly Election 2022) দু’বছর পর লোকসভা নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সময়ই তার উত্তর দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.