পরের শীতে আসছে ‘হত্যাপুরী’! এবার অনির্বাণই কি ‘Feluda’?

Home জলসাঘর পরের শীতে আসছে ‘হত্যাপুরী’! এবার অনির্বাণই কি ‘Feluda’?
পরের শীতে আসছে ‘হত্যাপুরী’! এবার অনির্বাণই কি ‘Feluda’?

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: বাঙালিদের কাছে ‘ফেলুদা’ (Feluda) শব্দটি শুধুই একটি শব্দ নয়, রহস্য-রোমাঞ্চের আবেগসর্বস্ব বাঙালিদের কাছে ফেলু মিত্তির একটা শিহরনের নাম। সম্পূর্ণ কাল্পনিক হলেও কবে যে সত্যজিৎ রায়ের এই চরিত্র বাঙালির ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে রহস্য সন্ধানে সেই খোঁজ নেই কারুর। পরিচালক সন্দীপ রায়ের (Director Sandip Ray) হাত ধরে বড়ো স্ক্রিনে ফেলুদার ফিরে আসার কথায় আবেগে আপ্লুত ফেলুদাপ্রেমীরা। ‘হত্যাপুরী’র (Hatyapuri) মধ্যে দিয়েই ফেলুদা করবে আবার এক রহস্যভেদ। কিন্তু কে হচ্ছেন পর্দার ফেলুদা? এই প্রশ্ন এখন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ফেলুদাপ্রেমীদের কারণ এই চরিত্র নিয়ে বাঙালি বরাবরই উন্নাসিক।

‘হত্যাপুরী’ এমন একটি থ্রিলার (Thriller) যেখানে তিন মূর্তি ফেলুদা, তোপসে, জটায়ু সমুদ্রতীরে গিয়ে আবিষ্কার করে এক নতুন রহস্য। সমুদ্র ভ্রমণে গিয়ে সৈকতে একটি অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মৃতদেহ (Deadbody) দেখতে পাওয়া থেকেই শুরু ফেলুদার রহস্য উদ্ঘাটনের গল্প। ফেলুদার তদন্তের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডটি ডি. জি. সেন নামে একজনের কাছে যায়। এই ব্যক্তির বিরল পাণ্ডুলিপি (Manuscript) সংগ্রহ করার প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল। এদিকে একটা সময়ে ডি.জি.-র বিখ্যাত পাণ্ডুলিপিগুলির মধ্যে একটি হারিয়ে যায় এবং একইসঙ্গে পুরীতে আরও একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়।

রবিবার প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ-এর (SVF) তরফে প্রকাশিত হয়েছে তাদের আগামী ৮টি ছবির নাম। সেখানেই জ্বলে উঠলো ‘হত্যাপুরী’ নাম। আর রবিবার সকালেই অনুরাগীদের গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের (Anirban Bhattacharya) একটি পোস্ট। ‘হত্যাপুরী’ সিনেমার প্রথম মুক্তি পাওয়া পোস্টার (Poster release) ‘ব্যোমকেশ’ (Byomkesh) শেয়ার করেছেন নিজের ফেসবুক ওয়ালে। সেখানেই মুক্তির তারিখও উল্লেখ করে দিয়েছেন অনির্বাণ। সেইসঙ্গে ক্যাপশনে তিনি ব্যবহার করেন ‘ফ্যাসিনেটিং’ (Fascinating) শব্দটি। তিনি লেখেন ‘Fascinating – এই কথাটাও বোধহয় সঠিক বর্ণনা নয় মানিক বাবুর এই সৃষ্টির…’। এই ‘ফ্যাসিনেটিং’ শব্দের বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘চিত্তাকর্ষক’। আর তারপরেই কমেন্ট বক্স জুড়ে একটাই প্রশ্ন যে তাহলে কি তিনিই হতে চলেছেন ‘ফেলুদা’ (Feluda)?

অনির্বাণ ভট্টাচার্যের শেয়ার করা পোস্ট

যদিও মাঝখানে আবার এটাও শোনা গিয়েছিলো যে ফেলুদা চরিত্র নিয়ে হাজির হচ্ছেন অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত (Indraneil Sengupta)। কিন্তু অনির্বাণের এই পোস্ট যে সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিলো সেটা বলাই বাহুল্য। এদিকে আবার এই সিনেমার পোস্টার মুক্তি (Poster release) পেলেও সেখানে কোনও অভিনেতার মুখ দেওয়া হয়নি। ফেলুদা হিসেবে সেখানে শুধুই স্থান পেয়েছে সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) হাতে আঁকা সেই বিখ্যাত এক ছবি। ফেলুদার সঙ্গে তাঁর দুই সঙ্গী তোপসে আর জটায়ু। তাই অনুরাগী মহল থেকে অনির্বাণের উদ্দেশ্যে এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কিন্তু অনুরাগীদের এই প্রশ্নে রহস্য সমাধান করলেন না নায়ক। কোনও উত্তরই দেননি ওটিটির (OTT platform) ‘ব্যোমকেশ’ ওরফে অনির্বাণ ভট্টাচার্য।

গত বছরের শেষের দিকে সংবাদ মাধ্যমকে পরিচালক সন্দীপ রায় জানিয়েছিলেন যে ফেলুদা হিসেবে কাকে বাছবেন তা এখনই প্রকাশ করতে চান না তিনি। বরং সেই উত্তরটা তিনি দর্শকদের কাছ থেকে পেতে চাইছেন। এদিকে ছবির পোস্টার রিলিজ হতেই তা শেয়ার করেছেন অনির্বাণ। আর এর থেকেই দর্শক যে যে ঠিক হিসেবে মিলিয়ে নিয়েছেন সে ধারণা করাই বৃথা। তাহলে ‘ব্যোমকেশ’ই কি আগামী ‘ফেলুদা’? রহস্য সন্ধান করতে আগামী ২৩ ডিসেম্বর অবধি অপেক্ষা করতেই হচ্ছে বাঙালিদের। সিনেমাহলে গিয়েই ফেলুদার পরিচয়ের রহস্যভেদ করতে পারবে দর্শকমহল।

              ‘ব্যোমকেশ’ চরিত্রে অনির্বাণ ভট্টাচার্য

এদিকে অনির্বাণ অভিনেতা থেকে আবার পরিচালকের ভূমিকাতেও অবতীর্ণ হয়েছেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সফলভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন প্রথম কাজ ‘মন্দার’-এর মাধ্যমে। প্রায় সর্বস্তরেই দুর্দান্ত প্রশংসা পেয়েছে সেই ওয়েব সিরিজ। মন্দারেই থেমে থাকেননি পরিচালক অনির্বাণ। তাই এবার দ্বিতীয় সিনেমা ‘বল্লভপুরের রূপকথা’-এর পরিচালনার কাজও হাতে নিয়ে নিয়েছেন অনির্বাণ। তবে প্রথম পরিচালনার কাজ করেছেন ডিজিটাল পর্দায়। আর এবার দ্বিতীয় কাজ করছেন বড়ো পর্দায় শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের প্রযোজনায়। এদিকে ‘হত্যাপুরী’ ছাড়াও আরও সাতটি ছবির মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেছে এসভিএফ। তালিকায় রয়ে‌ছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এক্স ইক্যুয়ালস টু প্রেম’, অরিন্দম শীলের ‘খেলা যখন’, সন্দীপ রায়ের পরিচালনায় ‘ব্যোমকেশ’, অনির্বাণ পরিচালিত প্রথম ছবি ‘বল্লভপুরের রূপকথা’, ইত্যাদি।

এই সবকটি ছবি ঘিরেই দর্শকদের উন্মাদনা তুঙ্গে। সামাজিক মাধ্যমে এগুলি নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এর মধ্যেও সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু অনির্বাণ এবং ফেলুদাকে নিয়েই। সত্যিই কি এবার ফেলুদা হতে চলেছেন অনির্বাণ? ব্যোমকেশের পোশাক ছেড়ে কি এবার তাঁর হাতেই উঠবে কোল্ট রিভলভার আর চারমিনার সিগারেট? অজিতের বদলে কি এবার তাঁর পাশে দেখা যাবে তোপসে এবং লালমোহন গাঙ্গুলিকে?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর এক ও একমাত্র সময়ই দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.