আমেরিকায় উবের চালাচ্ছেন আফগানিস্তানের (Afghanistan) প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী খালিদ পায়েন্দা!

Home আজব আমেরিকায় উবের চালাচ্ছেন আফগানিস্তানের (Afghanistan) প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী খালিদ পায়েন্দা!
আমেরিকায় উবের চালাচ্ছেন আফগানিস্তানের (Afghanistan) প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী খালিদ পায়েন্দা!

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক : আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতা দখলের প্রায় ছয় মাস পর দ্য পোস্ট রিপোর্ট করেছে দেশটির প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ওয়াশিংটন ডিসিতে (Washington DC) একটি উবার (uber cab) চালাচ্ছেন। খালিদ পায়েন্দা আফগানিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আশরাফ ঘানির সাথে তার সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর তালিবান কাবুল দখল করার এক সপ্তাহ আগেই অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

জীবন উত্থান-পতন এবং ক্রমাগত অনিশ্চয়তায় পূর্ণ। দর্শনে এই অনিশ্চয়তা নিয়ে অনেক তত্ত্ব উত্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যেকে তাদের আশেপাশে এর অগণিত উদাহরণ খুঁজে পান। মোহাম্মদ খালিদ পায়েন্দারের (Mohammad Khalid Payenda) গল্পও প্রায় একই রকম। তিনি মাত্র কয়েক মাস আগে পর্যন্ত নিজের দেশে অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাতেন, কিন্তু আজ পরিবারকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন আমেরিকায় ট্যাক্সি চালাতে।

আফগানিস্তানের (Afghanistan) রাজধানী কাবুল গত বছর আগস্টে সশস্ত্র গোষ্ঠী তালিবান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগের দিন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। সেসময় তাকে স্বাগত জানিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। পালানোর সময় ১৬৯ মিলিয়ন ডলার অর্থও নিয়ে যান তিনি এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে তার সময়ের মন্ত্রীরা এখন কে কোথায়, তা জানা মুশকিল। তবে মাঝে মধ্যে ব্যতিক্রমী খবর পাওয়া যায়।

পোস্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানের (Afghanistan) প্রাক্তন  অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ খালিদ পায়েন্দা আজকাল আমেরিকায়  উবার ক্যাব (Uber Cab)চালাচ্ছেন। আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতা দখলের আগে তিনি অর্থমন্ত্রী ছিলেন।  তালিবান অভ্যুত্থানের পূর্বাভাস পেয়ে, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান, যেখানে তিনি  জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহযোগী অধ্যাপক, কিন্তু তিনি তার পরিবারের ভরণ  পোষনের জন্য পাশাপাশি  উবার ক্যাবও (Uber Cab) চালান।

 সূত্রের খবর,  পায়েন্দা বলেছেন তিনি তার পরিবারকে সাহায্য করার  সুযোগ পেয়েছেন বলে নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘এখন আমার জন্য কোনো জায়গা নেই। আমি এখানকার (আমেরিকা) নই, না সেখানকার (আফগানিস্তান)। এটা খুবই খারাপ  অবস্থা।’ উবার (Uber Cab) থেকে আয়ের বিষয়ে আফগানিস্তানের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যদি আগামী ২  দিনে ৫০ টি ট্রিপ সম্পূর্ণ করি, তাহলে আমি ৯৫ ডলার বোনাস পাব।’ খবরে প্রকাশ যে পায়েন্দারের মা ২০২০ সালে কোভিডের শিকার হয়েছিলেন। এর কিছুদিন পরই তাঁকে আফগানিস্তানের (Afghanistan) অর্থমন্ত্রী করা হয়। তবে কেন তিনি মন্ত্রী হলেন তা নিয়ে  এখনও  আফসো করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক পাগলামি দেখেছি। আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমিও সেই সম্পুর্ন ভাবে দায়ি সেই ব্যর্থতার। আপনি যখন মানুষের দুর্দশা দেখেন তখন নিজেকে সামালানো খুব কঠিন।’ পায়েন্দা আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও দায়ি বলে মনে করেন। তিনি বলেছেন যে আফগানিস্তানের (Afghanistan) জনগণের সংস্কারের ইচ্ছা নাও থাকতে পারে, কিন্তু মার্কিন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে গেছে। এর পেছনে কিছু ভালো চিন্তা থাকতে পারে, কিন্তু যা হয়েছে, আমেরিকা হয়তো এমন পরিণতি চায়নি।

৪০ বছর বয়সী সাবেক এই মন্ত্রী এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ৬ বিলিয়ন ডলারের বাজেট তদারকির কাজ করেন। অথচ এখন এই সপ্তাহের শুরুতে এক রাতে, তিনি ছয় ঘণ্টার কাজের জন্য ১৫০ ডলারের একটু বেশি উপার্জন করেছেন। খালিদ বলেন, আমার পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। বর্তমানে আমার কোনো জায়গা নেই। এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ানোর জন্য মাঝে মাঝে শূন্যতা অনুভব করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত সরকারের পতন হয়েছে আফগানিস্তানে (Afghanistani)। তালিবান ক্ষমতা নেওয়ার কারণে দেশটির অর্থ আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখনো মিলেনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। চরম মানবিক সংকটে পড়েছে দেশটি। জানা গেছে, খালিদ পায়েন্দার মা ২০২০ সালে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তবে তালিবান ক্ষমতা নেওয়ার এক সপ্তাহ আগে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলে নেয় তালিবান। এরপর ৩১ আগস্ট টানা ২০ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশটি থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা। এরপর রাজনৈতিক গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেয় বহু আফগান পরিবার। দেশ ছাড়েন আশরাফ ঘানির সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা অনেকেই।

 সম্প্রতি আফগানিস্তানের (Afghanistan) দখল নিয়েছে  তালিবানরা। আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের মার্কিন সিদ্ধান্ত তালিবানদের মনোবল বাড়িয়ে দেয়। আফগান সেনাবাহিনী এবং তৎকালীন সরকার তালিবানদের মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। তালিবান রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এক সপ্তাহ আগে, পায়েন্দা অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তালিবান ক্ষমতায় আসার আগেই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি আহমদজাইয়ের সঙ্গে পায়েন্দার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পায়েন্দা এর পর ভয় পেয়েছিলেন যে গনি তাকে গ্রেফতার করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.