আমার সঙ্গে দিদির সম্পর্ক যেমন ছিল, তেমনই আছে, জল্পনায় জল ঢাললেন পিকে

Home রাজ্য আমার সঙ্গে দিদির সম্পর্ক যেমন ছিল, তেমনই আছে, জল্পনায় জল ঢাললেন পিকে
আমার সঙ্গে দিদির সম্পর্ক যেমন ছিল, তেমনই আছে, জল্পনায় জল ঢাললেন পিকে

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক:  দিদির এবার কুর্সিতে বসা নিয়ে যাঁর অবদান বেশি করে আলোচনা হয়েছে, তিনি প্রশান্ত কিশোর। সম্প্রতি সেই বন্ধুতায় ফাটল ধরা নিয়েও আলোচনা হয়। এদিন সেই জল্পনায় জল ঢাললেন প্রশান্ত কিশোর নিজে। বললেন, দিদির সঙ্গে সম্পর্ক যেমন ছিল তেমনই আছে। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। সম্প্রতি খবরের একটি ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক ভিডিয়ো সাক্ষাৎকারে তিনি মমতা ও তৃণমূল প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ব্যক্তি পিকে এবং তাঁর সংস্থা আইপ্যাকের সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে ফাটল তৈরি হওয়ার কথা চাউর হয়েছিল। কিন্তু এত দিন তৃণমূল নেতৃত্ব বা পিকে — কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।

ওই সাক্ষাৎকারে মমতা ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ ওঠে। সেখানে পিকে বলেন, ‘ওই সব সব খবর দেখে আমি শুধু হেসেছি। আমার সঙ্গে দিদির সম্পর্ক যেমন ছিল তেমনই আছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমকে তো কিছু করতে হবে। তাই হয়তো এ সব করছে’। এরপর তৃণমূলের অন্দরের চলা সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়েই নিজের বক্তব্যের পক্ষে সওয়াল করেছেন পিকে। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে বলা হল, দিদি এবং আমার মধ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারপর বলা হল, দিদি আর অভিষেকের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তারপর বলা হল, অভিষেক ও আমার সঙ্গেই দিদির দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে’। এর পর তাঁর মন্তব্য, তিনি দলের সর্বোচ্চ নেত্রী হিসাবে দলের সংগঠনকে নতুন করে সাজাচ্ছেন। তা নিয়েও সংবাদমাধ্যমে গল্প তৈরি করা হল।

প্রশান্তের দাবি, ২০১৯ সালের জুন মাসে তৃণমূলের সঙ্গে তাদের হয়ে কাজ করার চুক্তি হয় আইপ্যাকের। পিকে-র কথায়, তার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমে আইপ্যাক ও আমাকে টার্গেট করে খবর করা হল। বলা হল, আমাদের জন্যই নাকি একের পর এক নেতারা দল ছেড়ে বিজেপি-তে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু ফল ঘোষণার দিন সবাই সব জবাব পেয়ে গিয়েছেন। আমাকে কিছু বলতে হয়নি। তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে বলেই দাবি করেন পিকে। তিনি বলেন, ‘আমাকে সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করে, মমতার সঙ্গে সম্পর্ক কি আগের মতোই আছে? নীতীশ কুমারের সঙ্গে কি সম্পর্ক আগের মতো আছে? অমরেন্দ্র সিংহের সঙ্গে সম্পর্ক কি আগের মতো আছে? এমন সব প্রশ্ন কেন আসে আমি বলতে পারব না। গত ১০ বছরে আমি একাধিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করেছি। সব সময় সম্পর্ক নষ্ট হয় না। আমারও কোনও সম্পর্ক নষ্ট হয়নি’।

তৃণমূলের সঙ্গে ফাটলের আবহে দিল্লিতে প্রশান্ত কিশোর এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বৈঠক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বৈঠকের পরে নীতীশ কুমারের ছোট্ট মন্তব্যকে ঘিরেও প্রশান্ত কিশোরের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পরে দুই নেতার সাক্ষাৎকার নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা উঠে আসছে। ২০১৫ সালে নীতীশ কুমার বিহারে মহাজোট গড়ে বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। সেই জোটে সেই সময় সামিল ছিল জেডিইউ ছাড়াও আরজেডি এবং কংগ্রেস। সেই নির্বাচনে বিজেপি পরাস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে অবশ্য নীতীশ কুমার মহাজোট ছেড়ে বেরিয়ে বিজেপির সঙ্গে জোট করেছিলেন। প্রশান্ত কিশোর ২০১৮ তে জেডিইউতে যোগও দিয়েছিলেন। নীতীশ কুমার তাঁকে জেডিইউ-এর সহসভাপতিও করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নীতীশ কুমারের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতির কারণে প্রশান্ত কিশোর জেডিইউ ছাড়েন।

পুরসভার প্রার্থী তালিকা নিয়ে গণ্ডগোলের জেরে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক এখন শীতল। এমাসের শুরুর সপ্তাহে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল সেই ভুয়ো প্রার্থী তালিকা। পাশাপাশি, প্রশান্ত কিশোর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টেক্সট মেসেজ করে জানিয়েছিলেন তিনি বাংলা, ত্রিপুরা আর মেঘালয়ে তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করতে চান না। যার উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ বলে জবাব পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ট্যুইটারে আনফলো এবং ফলো করা নিয়েও জল্পনা ছড়ায়। তবে প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে তৃণমূলের অবস্থান এখনও স্পষ্ট করে কিছু সামনে আসেনি।

যদিও, পিকে-নীতীশের এই বৈঠকের নেপথ্যে অন্য সম্ভাবনা দেখছে রাজনৈতিক মহল। প্রথমত, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে একজোট করার চেষ্টা করছেন প্রশান্ত কিশোর। আর নীতীশ কুমার এই মুহূর্তে বিজেপির ‘অতৃপ্ত’ শরিক। দুই শিবিরের মধ্যে কাজিয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সেক্ষেত্রে নীতীশকে বিরোধী শিবিরে ভাঙিয়ে আনার একটা সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। তাছাড়া সামনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বিভিন্ন রাজ্যের যা পরিস্থিতি তাতে শরিকরা ভোট না দিলে বিজেপি মনোনীত প্রার্থী নাও জিততে পারেন। সেদিক থেকে দেখতে গেলেও এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ। আবার প্রশান্ত কিশোর নিজেও রাজনীতিতে ঢোকার চেষ্টা করছেন এই মুহূর্তে। কংগ্রেসের সঙ্গে বেশ কয়েক রাউন্ড আলোচনার পরও তা ভেস্তে গিয়েছে। নতুন করে রাজনীতিতে ঢোকার আগে প্রাক্তন বসের সঙ্গে স্রেফ শলা-পরামর্শ করার জন্যও এই বৈঠকটি করে থাকতে পারেন প্রশান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.