বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধির জোড়া ফলা, দেশের আর্থিক বৃদ্ধিতে আজ কোন পথে হাঁটবেন নির্মলা?

Home দেশের মাটি বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধির জোড়া ফলা, দেশের আর্থিক বৃদ্ধিতে আজ কোন পথে হাঁটবেন নির্মলা?
বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধির জোড়া ফলা, দেশের আর্থিক বৃদ্ধিতে আজ কোন পথে হাঁটবেন নির্মলা?

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ। একটা ভাইরাসের কারণে একেবারে ধস্ত দেশ। এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। এই প্রেক্ষাপটে আজ সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এই বার্ষিক বাজেটে চলতি অর্থবর্ষের জন্য স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, শিক্ষাক্ষেত্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, ট্যাক্স, জ্বালানির দাম-এ কী পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার তা আজ জানান হবে বাজেট পেশের মাধ্যমে। কোভিড এর কারণে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে এখনও লড়াই করছে দেশ। যদিও জনমুখী বাজেট পেশের মাধ্যমে সেই চাপ কিছুটা মুক্ত করতে পারেন নির্মলা সীতারমন, এমনটাই আশা।

গত আর্থিক বছরে অপর্যাপ্ত ত্রাণ দেওয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল বিজেপি সরকার। আগের বাজেটে রাস্তা, রেলপথের মতো যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঢেলে অর্থব্যয় করা হয়েছিল বাজেটে। । যদিও আগামী অর্থবর্ষে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ থেকে ৮.৫ শতাংশেই রাখল কেন্দ্র। জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর যদিও এর আগে ৯.২ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছিল।

দুশ্চিন্তার কারণ হল, বাজারে কেনাকাটা এখনও কোভিডের আগের বছরের তুলনায় কম। তার উপরে মূল্যবৃদ্ধি মাথাচাড়া দিয়েছে। ডিসেম্বরে খাদ্যপণ্যের দাম সামান্য কমলেও অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম কমছে না। গতকাল আর্থিক সমীক্ষাতেও বলা হয়েছে, মূল্যবৃদ্ধি আগামী দিনে চিন্তার কারণ। অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার ছুঁয়েছে। পাঁচ রাজ্যের ভোট মিটলেই ফের পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা। ওমিক্রনের পরে ভবিষ্যতে করোনা ভাইরাস আবার কী রূপ নিয়ে হাজির হবে, কেউ জানে না। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ফের কী বাধা আসবে, তা-ও অজানা।

রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তা হল, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে এই সব রাজ্যের গ্রামের মানুষের জন্য কিছু সদর্থক বার্তা দেওয়া। যাতে তার সুফল বিজেপির ভোটের বাক্সে এসে পড়ে। বিশেষত তিন কৃষি আইন নিয়ে এক বছর ধরে গোঁ ধরে থাকার পরে নরেন্দ্র মোদী তা প্রত্যাহার করলেও, চাষি, গ্রামের মানুষের ক্ষোভে প্রলেপ দেওয়া জরুরি। অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, সে দিকে লক্ষ্য রেখে চাষিদের জন্য ভর্তুকিতে ঋণের জোগান অনেকটা বাড়ানো হতে পারে।

রাজনীতি সামলে অর্থনীতির দিক থেকে নির্মলা সীতারামনের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ পাঁচটি। এক, আর্থিক বৃদ্ধিকে যতটা সম্ভব ঠেলে তোলা। বেকারত্বের সমাধানে কর্মসংস্থান বা চাকরির সুযোগ তৈরি হয়। মানুষের আয় বাড়ে। ফলে কর্মসংস্থান তৈরি ও আয় বাড়ানো, এই দু’টি ক্ষেত্রে আলাদা ভাবেই অর্থমন্ত্রীকে নজর দিতে হবে। দুই, বাজারে কেনাকাটা বাড়ানো। তিন, রাজকোষের ঘাটতিকে যথাসম্ভব বাগে রাখা। চার, মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানা। এবং পাঁচ, কোভিডের পরে অর্থনীতির হাল ফিরলেও ধনী, গরিবের হাল সমান ভাবে ফেরেনি। আর্থিক অসাম্য বেড়েছে। সমাজের নিচু তলার মানুষের কাছে, অসংগঠিত ক্ষেত্রেও যাতে আর্থিক বৃদ্ধির সুফল পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করা।

অর্থমন্ত্রীর হাতে হাতিয়ার একটিই। পরিকাঠামোয় খরচ বা মানুষের হাতে নগদ জোগান বাড়িয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। মানুষের হাতে টাকার জোগান বাড়াতে অর্থমন্ত্রী আয়করে ছাড় দিতে পারেন। আয়করে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাড়াতে পারেন। তাতে আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ইতিমধ্যেই পেট্রল-ডিজ়েলে শুল্ক কমানো হয়েছে। অথচ বিলগ্নিকরণ থেকে যতখানি টাকা ঘরে তুলবেন বলে সীতারামন ভেবেছিলেন, এয়ার ইন্ডিয়া বেচে দিলেও তার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেননি। সবেধন নীলমণি এখন জীবন বিমা নিগম বা এলআইসি-র আইপিও।

অর্থনীতিতে গতি আনতে জাতীয় পরিকাঠামো প্রকল্পের পাইপলাইন, রেল-সড়ক-বিমান-বন্দরের মতো যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরিতে গতি শক্তি প্রকল্পে জোর দিতে হবে। শুধু ঘোষণা ও বরাদ্দ নয়। রূপায়ণও দরকার। পরিকাঠামোর কাজ হলে ইস্পাত, সিমেন্টের মতো অনেকগুলো ক্ষেত্রে একসঙ্গে গতি আসবে। সরাসরি ও পরোক্ষ ভাবে কাজের সুযোগ তৈরি হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে ছোট-মাঝারি শিল্প এবং শ্রমনিবিড় ক্ষেত্রেও নজর দিতে হবে। লকডাউনের ধাক্কা কাটিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনও পুরোদমে শুরু হয়নি। লকডাউনের সময় গ্রামে ফেরা মানুষের এখনও সবাই শহরে ফিরতে পারেননি। চাষ থেকে সামান্য আয় আর একশো দিনের কাজের ভরসায় থাকা মানুষের জন্য একশো দিনের কাজ ও খাদ্য ভর্তুকিতেও বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

গোটা ২০২১ সালজুড়ে শেয়ার-বাজারের অবস্থা ছিল বেশ ভালো। সেনসেক্স-এবং নিফটি নিজের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিল। একাধিক স্টক মাল্টিব্যাগারে পরিণত হয়েছিল। তবে বছর শেষের আগে শেয়ার বাজারে হঠাৎ করেই বেশ কিছুটা পতন আসে। টানা পতন আসে সেনসেক্স-এবং নিফটতে। একাধিক শেয়ার বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা ছিল হঠাৎ করে শেয়ার বাজারেরে এতটা বৃদ্ধি এবং পতন আসলে কিছুটা চিন্তার। বাজার কেন বাড়ছে, বা বলা ভালো ঠিকঠাক কারণে বাড়ছে কিনা, তার আভাস পাওয়াটা জরুরি। কিন্তু এরকম হঠাৎ করে বাড়া এবং তারপর কমে যাওয়া অনেকসময়েই বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষতিকারক প্রমাণিত হতে পারে। আজ কেন্দ্রীয় বাজেট৷ কী প্রভাব পড়ে, শেয়ার বাজারে বাজেট পেশের ফলে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.