অ্যানোনিমাসের (ANONYMOUS) সাইবার যুদ্ধের (cyber war) ঘোষণা, ইউক্রেনের সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক

Home বিদেশ-বিভূঁই অ্যানোনিমাসের (ANONYMOUS) সাইবার যুদ্ধের (cyber war) ঘোষণা, ইউক্রেনের সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক
অ্যানোনিমাসের (ANONYMOUS) সাইবার যুদ্ধের (cyber war) ঘোষণা, ইউক্রেনের সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: হ্যাকার দল ‘অ্যানোনিমাস’ রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধের ঘোষণা করেছে। অ্যানোনিমাসের নিয়ন্ত্রণে থাকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কিছু পোস্ট দেওয়া হয়। যেখানে বলা হয়, আমরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ সরকারের বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধ চালাচ্ছি।

এদিকে ইউক্রেন সরকারের একাধিক ওয়েবসাইট (website) হ্যাক করার অভিযোগ উঠল রাশিয়ার বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম- এর তরফে এই খবর জানানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, প্রায় ১০০ টি ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটারে ডেটা মুছে দেওয়ার (Data Wiping) টুল খুঁজে পাওয়া গেছে। এখনও পর্যন্ত ইতিমধ্যে ইউক্রেন সরকারের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সেখানকার শিক্ষা মন্ত্রকের ওয়েবসাইট এবং বিদেশ মন্ত্রকের ওয়েবসাইটের সমস্ত ডেটা মুছে ফেলা হয়েছে। জানা গেছে, ওয়েবসাইটগুলির দখল নিতে সক্ষম হয়েছে রাশিয়া।
এবিষয়ে আগেই সাইবার সিকিউরিটি গবেষকরা জানিয়েছিলেন, রাশিয়া যে কোনও সময় ম্যালওয়ার ছড়িয়ে সাইবার অ্যাটাক করতে পারে।
এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিখ্যাত সাইবার সিকিউরিটি সংস্থা Mandian এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার চার্লস কার্মাকল জানিয়েছেন, আজ সকালে ইউক্রেনের একাধিক সরকারি এবং বাণিজ্যিক ওয়েবসাইটে একাধিক ম্যালওয়ার অ্যাটাকের খবর আমাদের কাছে এসেছে। যদিও ইউক্রেন সরকার এখনও এবিষয়ে কিছু জানায়নি। কিন্তু পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে তাতে সাইবার হামলা করা খুবই স্বাভাবিক।

এবিষয়ে একটি রিপোর্টে প্রকাশ, ইউক্রেনের একটি ফিনান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন এবং ইউক্রেন সরকারের চুক্তিভিত্তিক একটি সংস্থার ওয়েবসাইটে হামলা চালানো হয়েছে।

ইউক্রেন সরকারের স্টেট সার্ভিস অফ স্পেশাল কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ইনফর্মেশন প্রোটেকশন

(The State Service of Special Communications and Information Protection) একটি রিপোর্ট অনুযায়ী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখ প্রথম সাইবার হামলা করেছিল রাশিয়া। বর্তমানেও একইভাবে বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা চালাচ্ছে তারা।

এছাড়াও ডেটা ওয়াপিং টুল ব্যবহার করছে রাশিয়া। একটি বিশেষ ম্যালওয়ারের মাধ্যমে এই টুল পাঠাচ্ছে রাশিয়া। মূলত বড় বড় সংস্থাগুলিতে সাইবার অ্যাটাক করার জন্য এই টুল ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ম্যালওয়ারটি যে কোনও কম্পিউটারের ভিতর ঢুকিয়ে যে কোনও তথ্য মুছে ফেলতে সক্ষম। এরই সঙ্গে জানা গেছে, বিশেষ হ্যাকিং টুল তৈরি করেছে রাশিয়া।

ইউক্রেনের ডিজিট্যাল ট্রান্সফর্মেশন মন্ত্রী মাইকাইলো ফেডর্ভ জানিয়েছেন, একটি DDoS অ্যাটাক করা হয়েছে। ডেটা মুছে দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই তথ্য আরও অনেক ডেটা ব্যাঙ্কে স্টোর করা রয়েছে।

সামরিক যুদ্ধের মাঝে এবার একবিংশ শতকের নয়া অস্ত্র দিয়েই আঘাত। রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্যে এবার শুরু সাইবার যুদ্ধ। সময় যত এগোচ্ছে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে পরিস্থিতি। ইউক্রেনিয় সংস্থাগুলির সিস্টেম এবার হ্যাকারদের দখলে চলে যাচ্ছে। ইউক্রেন সরকারের তরফে বলা হচ্ছে যে রাশিয়া-সমর্থিত হ্যাকাররা ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইট এবং ব্যাঙ্ক হ্যাক করেছে।

আইবিএম সিকিউরিটি এক্স-ফোর্স টিম জানিয়েছে ইউক্রেনের একাধিক সিস্টেমকে হ্যাক করা ধ্বংসাত্মক ‘হার্মেটিকওয়াইপার’ ম্যালওয়্যারের একটি নমুনা পেয়েছে তাঁরা। হার্মেটিকওয়াইপার HermeticWIper হল এক ভয়ঙ্কর ম্যালওয়ার। যা গত দুই মাসে ইউক্রেন এবং পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলিতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।                          তবে পাল্টা হানা হচ্ছে রাশিয়াতে, এমনটাও দাবি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র দাবি করেছে যে রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের ডাটাবেস ফাঁস করেছে হ্যাকাররা।

অন্যদিকে রাশিয়ার সমর্থনে কন্টি। কন্টি হল রাশিয়ার বাইরে পরিচালিত একটি রাষ্ট্র-স্পন্সর গ্রুপ। কন্টি ডার্ক ওয়েবে তার সাইটে একটি বার্তা পোস্ট করে, সেখানে জানানো হয়, কন্টি দল আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ান সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন করবে। যদি কেউ সাইবার আক্রমণ বা রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধ কার্যক্রম সংগঠিত করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এই গ্রুপ শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোতে পাল্টা আঘাত করতে পারে।

এছাড়াও, ইউক্রেনের হামলার জবাবে গত শুক্রবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধের ঘোষণা দেয় অ্যানোনিমাস। সেদিনই তারা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংবাদ সংস্থা রাশিয়ান টুডে ওয়েবসাইটে একের পর এক হামলা চালাতে শুরু করে বলে অভিযোগ।

এর পাশাপাশি রাশিয়া সাইবার আক্রমণ চালিয়ে ইউক্রেইনের মাধ্যমে ইউরোপে রপ্তানি হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে বাজার ব্যবস্থা, দেখা দিতে পারে পণ্য সঙ্কট, বাড়তে পারে পণ্য ও সেবার মূ্ল্য। আর বাজার ব্যবস্থা অস্থিতিশীল হলে তার প্রভাব অস্ট্রেলিয়ার উপরও পড়বে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

কারা আক্রান্ত হতে পারেন?

বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তিবান্ধব প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেইন, উভয় দেশের সঙ্গে লেনদেন বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। উভয় দেশের সঙ্গে ডিজিটাল এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভিপিএন সেবার মাধ্যমে সরাসরি নেটওয়ার্ক সংযোগ থাকতে পারে প্রতিষ্ঠানগুলোর। ফলে, ম্যালওয়্যার সংক্রমণ বা সাইবার হামলার পরোক্ষ ভুক্তভোগী হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.