অশান্ত আসানসোল, চলল গুলি, মাথা ফাটল প্রার্থীর, বিক্ষিপ্ত অশান্তি বিধাননগরেও

Home রাজ্য অশান্ত আসানসোল, চলল গুলি, মাথা ফাটল প্রার্থীর, বিক্ষিপ্ত অশান্তি বিধাননগরেও
অশান্ত আসানসোল, চলল গুলি, মাথা ফাটল প্রার্থীর, বিক্ষিপ্ত অশান্তি বিধাননগরেও

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: বিধাননগরের ৪১টি, চন্দননগরের ৩২টি, শিলিগুড়ির ৪৭টি এবংআসানসোলের ১০৬টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নিজেদের কাউন্সিলর বেছে নিতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন।সশস্ত্র পুলিসে মুড়ে দিলেও রাজ্যের চার পুরনিগম বা কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্বে বিক্ষিপ্ত অশান্তি চলছেই। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে, বিধাননগর, আসানসোল, চন্দননগর এবং শিলিগুড়ি- চার পুরনিগমেই ভোটগ্রহণ পর্বে নিরাপত্তার দিকে বাড়তি নজর দেয় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। স্রেফ ৯ হাজার পুলিসকর্মীই নন, ৪ পুরনিগমে দায়িত্ব থাকছেন অতিরিক্ত ৪ আইপিএস অফিসারও। বুথে বুথে রাখা হয়েছে সশস্ত্র পুলিস। সঙ্গে সিসিটিভি-র নজরদারি। তারপরও বহিরাগতদের ঢোকানো, বিরোধী দলের এজেন্টদের হুমকি, প্রার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির মত ঘটনা সামনে চলে আসছে। বেশ কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

আসানসোল

পুরভোট যত শেষের দিকে গড়াচ্ছে, ততই উতপ্ত হচ্ছে শিল্প শহর আসানসোল। খানে ফের গুলি চলার অভিযোগ উঠেছে। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২১ নম্বর বুথ ধাদকা নারায়ণচন্দ্র লাহিড়ি স্কুলে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় । সেখানে  আট রাউন্ড গুলি চলার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিস। গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

এর আগে জামুরিয়ায় গুলি চলার খবর আসে। বুথ দখলের চেষ্টায় সিপিএম প্রার্থীকে লক্ষ্য করে গুলি চলে বলে অভিযোগ। তাঁকে ভয় দেখাতেই তৃণমূল গুলি চালিয়েছে বলে ফেসবুক লাইভে দাবি করেছেন সিপিএম প্রার্থীর মেয়ে। অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা সিপিএমের বিরুদ্ধেই গোলমাল পাকানোর অভিযোগ করেছে তৃণমূল।য়ে পুলিসের গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিসকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টির অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায়পুলিস আধিকারিক ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী আদর্শ শর্মার মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল প্রার্থী স্যাম সরেনের বিরুদ্ধে। যদিও তৃণমূল প্রার্থী সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।

আসানসোলের ধাদকা এলাকায় সশস্ত্র রক্ষীদের নিয়ে বুথে ঢোকার অভিযোগ পেয়ে বিজোপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে নোটিস দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। জিতেন্দ্রর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে তৃণমূল। যদিও জিতেন্দ্রর পাল্টা অভিযোগ, ছাপ্পা ভোট পড়ছে। তা আটকাতেই তিনি ওই এলাকায় যান। কিন্তু কোও নিরাপত্তা রক্ষী সঙ্গে ছিল না। তাঁকে একা বুথে ঢুকতেও বাধা দেওয়া হয়।

এছাড়াও বিধাননগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১১ নম্বর বুথে তৃণমূল বিজেপি প্রার্থীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা সামনে এসেছে। তৃণমূল প্রার্থী বহিরাগতদের নিয়ে বুথে ঢুকছেন বলে অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর। যার ভিত্তিতে রিপোর্ট তলব কমিশনের।পুরনিগমের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থীকে  হেনস্থার অভিযোগ উঠল। এই ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন জিতেন্দ্রর স্ত্রী চৈতালি। জিতেন্দ্রর অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীকে হেনস্থা করা হয়েছে।  পাল্টা জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তৃণমূলের। এই ওয়ার্ডেই জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠায় পুলিশ জিতেন্দ্রকে বুথে ঢুকতে বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। জিতেন্দ্র অভিযোগ করে বলেন,‘বহিরাগতদের দিয়ে ভোট করাচ্ছে তৃণমূল।’ পাল্টা তৃণমূল ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ করেছে জিতেন্দ্রর বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশনে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছে রাজ্যের শাসকদল।

বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালকে আসানসোলে পুলিসের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সিআইএসএফ-এর নিরাপত্তারক্ষীদের ছাড়া তিনি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোট দিতে ঢুকতে পারবেন বলে পুলিসের পক্ষে জানানো হয় বলে বিজেপি-র অভিযোগ।

বিধাননগর

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তপ্ত বিধাননগর পুরভোট। সকাল থেকেই মোট ৪১টি ওয়ার্ডে বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যে  চলতে থাকে ভোটগ্রহণ। ধীরে ধীরে বাড়ছে উত্তেজনা। বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের শৌচাগারে ভুয়ো ভোটারদের লুকিয়ে রাখার অভিযোগ করেছে বিজেপি। পুলিস দেখে ‘ভুয়ো’ ভোটাররা দৌড়ে পালায় বলে অভিযোগ। তৃণমূল অবশ্য সমস্ত অভিযোগই উড়িয়ে দিয়েছে।

বিধাননগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১১ নম্বর বুথে তৃণমূল বিজেপি প্রার্থীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা সামনে এসেছে। তৃণমূল প্রার্থী বহিরাগতদের নিয়ে বুথে ঢুকছেন বলে অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর। যার ভিত্তিতে রিপোর্ট তলব কমিশনের।

কেষ্টপুরে সিপিএম প্রার্থী অলোক রায়কে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি এজেন্টকে বুথ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে  তৃণমূলের বিরুদ্ধে।  পুর এলাকার আটঘড়া স্কুলের বুথে সিপিএম ও নির্দল প্রার্থী বচসায় জড়িয়ে পড়েন। সিপিএম প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ নির্দল প্রার্থীর। সিপিএম প্রার্থী ইচ্ছাকৃত ভাবে ভোটগ্রহণে দেরি করছেন বলে তাঁর অভিযোগ।   ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস জানা বহিরাগতদের গিয়ে ভোট করানোর অভিযোগ এনেছেন শাসকদলের বিরুদ্ধে। দাবি করেন, এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরেছেন তিনি। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে, দৌড়ে পালান ওই ব্যক্তি।  তৃণমূল বহিরাগত জমায়েত করে ভোট লুঠ করতে চায় বলেও অভিযোগ তাঁর। এই ওয়ার্ডে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন সব্যসাচী দত্ত।

বিধাননগরেও সশস্ত্র পুলিস বাহিনী মোতায়েন করে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা হয়েছে। ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন আইজি সিআইডি আনন্দ কুমার। বিধাননগরের বুথের সংখ্যা ৫২৩। মোট ভোটার ৪লক্ষ ৪৬হাজার ৭৪০। ২০১৫ সালে ৪১টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ৩৭টি আসন বাকি পায় বাম-কংগ্রেস। এবার কী হয় সে দিকে নজর থাকবে।

চন্দননগর

নির্বাচনী অশান্তির হাত থেকে রেহাই মিলল না চন্দননগরেরও। পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী মোহিত নন্দীর বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে ছড়াল উত্তেজনা। বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রাণী মিত্রের অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থী কি ভোটারদের হাত ধরে টোটে করে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু নিজেদের কীর্তি ঢাকতে তাঁকেই বুথে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল প্রার্থীর পাল্টা মন্তব্য, হারের ভয়েই এই সব আজগুবি অভিযোগ তুলছেন বিজেপি প্রার্থী। অন্যায় হয়ে থাকলে ইন্দ্রাণী দেবী নির্বাচন কমিশনে নালিশ কেন ঠুকছেন না বলে পাল্টা প্রশ্ন মোহিতবাবুর।

এদিকে সকালেই, চন্দনগর পুরনিগমের গোন্দলপাড়া ১৩২-১৩৩ নম্বর বুথে বিজেপি কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বৌবাজারের ৬২ নম্বর বুথে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তোলা হয়েছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এদিকে চন্দননগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জোর করে পুলিস দিয়ে সিপিএম প্রার্থীর বাড়ির সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চন্দননগরের নিচুপট্টি এলাকার বাসিন্দা সিপিএম প্রার্থী রেখা তিওয়ারির বাড়ির সিসিটিভি সকালে বন্ধ করার নির্দেশ দেন এলাকার তৃণমূল কর্মীরা। সিপিএম প্রার্থী সেই নির্দেশ অগ্রাহ্য করলে বাড়িতে পুলিস পাঠিয়ে জোর করে সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ভোটের জন্য বাড়ির সিসিটিভি কেন বন্ধ করতে হবে, বুঝতে পারছেন না রেখা।

চন্দননগরে মোট ৩৩টি ওয়ার্ড রয়েছে। তার মধ্যে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে সম্প্রতি বিজেপি প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই ওয়ার্ডে ভোট স্থগিত হয়ে গিয়েছে। বাকি ৩২টি ওয়ার্ডে পুর প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়া হচ্ছে। চন্দননগরে ঢোকা এবং বেরনোর জায়গায় নাকা চেকিং চলেছে। গঙ্গাবক্ষে চলেছে পুলিস বোটের টহলদারি। চার পুরনিগমের মধ্যে বুথের সংখ্যা সব চেয়ে কম চন্দননগরে। মোট বুথের সংখ্যা ১৭৩। চন্দননগরে মোট ভোটার ১লক্ষ ৪৪হাজার ৮৪৩।

এরইমধ্যে অবশ্য ইতিহাসের শহর চন্দননগরে দেখা গেল বিরল সৌহার্দ্যের ছবিও। পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী মুন্না আগরওয়াল ও ফরোয়ার্ড ব্লক প্রার্থী অরূপ দাসকে একসঙ্গে চায়ের কাপ হাতে গল্পে মজে থাকতে দেখা গেল। ভোট কত হল তার খোঁজখবর নিচ্ছেন একে অপরের থেকে।

শিলিগুড়ি

কড়া পুলিসি প্রহরায়,উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতেও চলছে ভোটগ্রহণ। শিলিগুড়ির ৪নং ওয়ার্ড এলাকার একটি বুথে প্রিসাইডিং অফিসার ছাড়াই ভোটদান চলছে  বলে অভিযোগ।  এরইমধ্যে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে বচসায় জড়ায় পুলিস।তাঁকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শঙ্কর ঘোষ। পাল্টা তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ করেছে তৃণমূল।

শিলিগুড়ি পুর নির্বাচনে মোট বুথের সংখ্যা ৫০২। এর মধ্যে ৮১টি বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্পর্শকাতর বুথে সিসিটিভি-সহ ভিডিওগ্রাফির বন্দোবস্ত রয়েছে  বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক তথা শিলিগুড়ি মহকুমা শাসক শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাও পাটিল।  মোট ২ হাজার ২৭২ জন পুলিসকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে শিলিগুড়িতে। যার মধ্যে বাইরের জেলা থেকেই এসেছে দেড় হাজার।শুক্রবার সারা দিন ধরেই শিলিগুড়ির বিভিন্ন জায়গায় নাকাচেকিং করে পুলিস। তল্লাশি চালানো হয় বিভিন্ন কমিউনিটি হলে।  শিলিগুড়িতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪লক্ষ ২হাজার ৮৯৫।

Leave a Reply

Your email address will not be published.