পঞ্চমবার ‘যশ’ অর্জন ভারতের! ইংল্যান্ডকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় ভারতের ছোটদের

Home খেলাধুলো পঞ্চমবার ‘যশ’ অর্জন ভারতের! ইংল্যান্ডকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় ভারতের ছোটদের
পঞ্চমবার ‘যশ’ অর্জন ভারতের! ইংল্যান্ডকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় ভারতের ছোটদের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক : একবার নয়, দু’বার নয়, পাঁচ-পাঁচবার বিশ্বকাপ জয়! ক্রিকেট-বিশেষজ্ঞরা মানেন এই কৃতিত্ব আছে বিশ্বে শুধুমাত্র দুটো টিমেরই। ফুটবলে ব্রাজিল আর ক্রিকেটে অষ্ট্রেলিয়া। কিন্তু এবার এই বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলো ভারতীয় ক্রিকেট দল। হোক না অনূর্ধ্ব-১৯, দিনের শেষে তো বিশ্বকাপ! গতকাল ভারতীয় সময় রাত ১:৩৫ এ স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডসের নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে চার উইকেটে হারিয়ে ২০২২ অনূর্ধ্ব – ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের খেতাব জিতল ভারত। ছোটদের জয়ে আপ্লুত গোটা দেশ।

২০১৭-১৮ সালে নিউজিল্যাণ্ডে পৃথ্বী শয়ের নেতৃত্বে শেষবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। চার বছর আগের সেই সুখস্মৃতি আবারও ফিরে এল গতকাল। জেমস সেলসের চতুর্থ বলটি দিনেশ বানা মাঠের সীমানা পার করতেই উৎসব শুরু হয়ে যায় ভারতের সাজঘরে। যশ ধুলের অধিনায়কত্বে দাপটের সঙ্গেই খেতাব জিতল টিম ইন্ডিয়া। যদিও এটাই প্রথমবার নয়। এর আগে আরও চারবার বিশ্বকাপ জেতে ভারতের যুব দল। মহম্মদ কাইফের অধিনায়কত্বে ভারত প্রথম অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জেতে ২০০০ সালে। এই জেতায় মুখ্য ভুমিকা নেন যুবরাজ সিং। ২০০৮ সালে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে দ্বিতীয় বারের জন্য অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জেতে ভারত। এরপর ২০১২ সালে উন্মুক্ত চান্দের নেতৃত্বে তৃতীয় বার এবং ২০১৮ সালে পৃথ্বী শ্ব-এর নেতৃত্বে চতুর্থ বার অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেতাব জেতে ভারত। গত বছর তীরে এসেও তরী ডোবে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয় প্রিয়ম গর্গের নেতৃত্বাধীন ভারত। ২০২২ এর খেতাব জিতে সেই ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ লাগল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

গ্রুপ ‘বি’তে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছিল ভারত। ক্রিকেট দুনিয়ায় নবাগত উগান্ডাকে ৩২৬ রানে হারায় তারা। সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয় শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। স্পিনের জাদুতে অস্ট্রেলিয়াকে চূর্ণ করে ফাইনালে ওঠে টিম ইন্ডিয়া। আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ হয়েই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচে মাঠে নেমেছিল তারা। প্রথম ব্যাটিং করে ইংল্যান্ড। শুরুতেই রবি কুমার এবং রাজ বাওয়ার দুর্দান্ত বোলিং সামলাতে হিমশিম খেয়ে যায় ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা। ব্যক্তিগত ২ রানের মাথায় রবি কুমারের সুইং বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হন ওপেনার জ্যাকব বেথেল। এরপরে কোনও না রান করেই তৃতীয় ওভারে রবি কুমারের বলে বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক টম প্রেস্ট। দলগত রান তখন তিন ওভার তিন বলে ১৮। দশম ওভারে রাজ বাওয়ার বলে ব্যক্তিগত ২৭ রানের মাথায় যশ ধুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন অপর ওপেনার জর্জ থমাস। দুই পেসারের দাপটে ধারাবাহিক ভাবে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা আউট হতে থাকেন। চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে নেমে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন জেমস রিউ। ১১৬ বলে ৯৫ রানের দুরন্ত এক ইনিংস খেলেন তিনি। ১৬ টি চারে এই ইনিংস সাজান রিউ। কিছুটা সঙ্গ দেন জেমস সেলস। ৬৫ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। জেমস রিউের অসামান্য ওই ইনিংস না থাকলে ইল্যান্ডের রান তিন সংখ্যায় পৌঁছাত কিনা সন্দেহ। অবশেষে ৪৪.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড তোলে ১৮৯ রান। রবি কুমার ৯ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৪ টি উইকেট নেন। অপর পেসার রাজ বাওয়া ৯.৫ ওভারে ৩১ রান দিয়ে ৫ উইকেট তোলেন। স্পিনার কুশল তাম্বেও একটি উইকেট পান।

ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে যায় ভারত। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে কোনও রান না করেই আউট হয়ে যান ছন্দে থাকা অঙ্ক্রিশ রঘুবংশী। দলগত ৪৯ রানের মাথায় আউট হয়ে যান অপর ওপেনার হর্নুর সিং। সেমিফাইনালে দুরন্ত ইনিংস খেলা সহ-অধিনায়ক শেখ রশিদ ৫০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। আগের ম্যাচে শতক হাঁকানো অধিনায়ক যস ধুল আজ ব্যর্থ হন। মাত্রন১৭ রান করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। ব্যাটে বলে আজ উজ্জ্বল ছিলেন রাজ বাওয়া। ৩৫ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। তবে নিশান্ত সিঁধুর ৫০ রানের ইনিংস না থাকলে ইংল্যান্ডের রান টপকে যাওয়া কঠিন হতে পারত ভারতের জন্য। দিনেশ রানার ৬ বলে ১৫ রানের ক্যামিও ইনিংসের সাহায্যে ৪৭.৪ ওভারেই প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় টিম ইন্ডিয়া। ইংল্যান্ডের পক্ষে জসুয়া বয়ডেন, জেমস সেলস, থমাস এসপিনওয়াল দুটি করে উইকেট নেন। থমাস এসপিনওয়াল শুরুতেই প্রথম উইকেট তুলে ভারতকে ঝটকা দিলেও শেষ রক্ষা হয় নি। ৬ উইকেট হারিয়েই জিতে যায় ভারত।

ব্যাটে-বলে অসাধারণ খেলে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের খেতাব জিতে নেন ভারতের রাজ বাওয়া। ৫ টি উইকেটের সঙ্গে ব্যাটে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৫ রান করেন তিনি। এই জয়ে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি অধিনায়ক যশ ধুল। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জিতে বিরাট কোহলি পৃথ্বী শ্বদের সঙ্গে একই আসনে বসে পড়লেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ভারতের জন্য আজ খুব গর্বের দিন। আমরা একটা পরিবার হিসেবে খেলেছি। তাই এই জয়ের দাবিদার সমগ্র ভারতীয় দল।’ তবে বিশেষজ্ঞ মহল এই জয়ের প্রধান কৃতিত্ব দিয়েছেন প্রাক্তন দুই ভারতীয় ক্রিকেটার রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণকে। তাঁদের পরামর্শেই এতটা ভয়ংকর ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দল। করোনার প্রাথমিক সংক্রমণের ধাক্কা সামলে যেভাবে ভারতীয় দল বিশ্বকাপ ছিনিয়ে নিল তা নিয়ে উচ্ছ্বসিত গোটা দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published.